দেশের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে শিক্ষা খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হলো—২০২৬ সালের জুনের মধ্যে দেশের ৪১৮টি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা।
বুধবার (১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে শিক্ষা খাতকে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই এই কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াইফাই চালু ,৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী জানান, শুধু ফ্রি ওয়াই-ফাই নয়, একই সঙ্গে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর আরও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, “শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে ট্যাব সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে তারা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও শিক্ষার্থীদের আরও কার্যকরভাবে পাঠদান করতে পারবেন।”
এছাড়া দেশের বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ক্লাসরুমগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হবে, যা শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা। প্রধানমন্ত্রী জানান, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইতালিয়ান ও জাপানি ভাষা শেখানো হবে। এর ফলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণ প্রজন্ম আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। বর্তমানে অনেক দেশেই দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও কারিগরি খাতে। ফলে ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা একসঙ্গে অর্জন করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর বিষয়টি নিয়েও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী, ভিডিও লেকচার এবং অন্যান্য রিসোর্স ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা এতে বেশি উপকৃত হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু হলে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল বিভাজন কমবে এবং তারা বিশ্বমানের শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে।
সরকারের এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেমন—ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, শিক্ষা খাতে এই ধরনের বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হলে তা দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব দক্ষতাও অর্জন করবে। এজন্য ধাপে ধাপে আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ১৮০ দিনের এই কর্মপরিকল্পনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে। ফ্রি ওয়াই-ফাই, ট্যাব বিতরণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষা—এই চারটি উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-প্রথমে কোন কোন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









