আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

সাগরে ভাসছে ৬০০ ভাসমান গুদাম, রোজার বাজার সিন্ডিকেটের জিম্মায়!

রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। দেশের নদী ও সাগরে মাসের পর মাস আটকে আছে প্রায় ৬০০ লাইটার জাহাজ, যেগুলো কার্যত পরিণত হয়েছে ভাসমান গুদামে। এসব জাহাজে আটকে রয়েছে গম, ছোলা, ডাল, সয়াবিন ও চিনি—রমজানের প্রধান ভোগ্যপণ্য। এতে একদিকে তৈরি হয়েছে তীব্র লাইটার সংকট, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে।

জাতীয় ও বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে দেশের ছয় বড় আমদানিকারক ও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

আরও পড়ুন-অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহের নিয়ম ২০২৬ (আপডেট)

সাগরে ৬০০ লাইটার, পণ্যের পরিমাণ ১০ লাখ টনের বেশি

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে ১৭৬টি মাদার ভেসেল নোঙর করে রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৬১টি জাহাজে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। তবে এসব জাহাজের বড় অংশ বন্দর চত্বরে না ঢুকে গভীর সমুদ্র থেকেই লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের কথা থাকলেও বাস্তবে সেগুলো খালাস না হয়ে আটকে আছে নদী ও সাগরে।

ফলে লাইটার জাহাজগুলো পরিণত হয়েছে স্থায়ী ভাসমান গুদামে।

ছয় আমদানিকারকের দখলে ভাসমান গুদাম

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী—

  • আকিজ গ্রুপ

  • নাবিল গ্রুপ

  • টিকে গ্রুপ

  • মেঘনা গ্রুপ

  • সিটি গ্রুপ

  • বসুন্ধরা গ্রুপ

এই ছয় বড় আমদানিকারক মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য নিয়ে অন্তত ৬০০টি লাইটার জাহাজ আটকে রেখেছে।

এর মধ্যে—

  • এককভাবে আকিজ গ্রুপের দখলে রয়েছে প্রায় ৮০টি লাইটার জাহাজ।

  • এরপর রয়েছে নাবিল ও মেঘনা গ্রুপ।

  • সিটি ও বসুন্ধরা গ্রুপের জাহাজ সংখ্যা তুলনামূলক কম।

স্বাভাবিকভাবে যেখানে একটি লাইটার ১৫ দিনের মধ্যে খালাস শেষে নতুন ট্রিপে যাওয়ার কথা, সেখানে এখন অনেক জাহাজ ৩০–৪০ দিন ধরে ভাসছে।

লাইটার সংকটে থমকে গেছে পণ্য খালাস

রমজান সামনে রেখে আমদানির চাপ বাড়লেও লাইটার সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

🔹 ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত—

  • চট্টগ্রাম ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে অপেক্ষমাণ জাহাজ: ১০৮টি।

  • মোট পণ্য: ৪৫ লাখ টনের বেশি।

  • রমজানসংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ: ১৭টি (১২ লাখ টন)।

  • চিনি বহনকারী জাহাজ: ৫টি (২ লাখ টন)।

স্বাভাবিক সময়ে একটি মাদার ভেসেল ৭–১০ দিনে খালাস হলেও বর্তমানে সময় লাগছে ২০–৩০ দিন।

১০২০ লাইটারের বড় অংশই আটকে

চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী লাইটার জাহাজের সংখ্যা প্রায় ১০২০টি। এর মধ্যে—

  • চলাচলে আছে: প্রায় ৩০০টি।

  • লোড করা অবস্থায় ভাসছে: প্রায় ৭২০টি।

বর্তমানে দেশের ৪১টি ঘাটে ৬৩১টি লাইটার জাহাজ আটকে আছে, যার মধ্যে ৫১টি সরকারি সার পরিবহনে নিয়োজিত।

কেন লাইটারকেই বানানো হচ্ছে গুদাম?

বিশেষজ্ঞ ও বন্দরসংশ্লিষ্টদের মতে—

  • ভাড়া গুদামে রাখলে খরচ বেশি।

  • লাইটারে রাখলে খরচ কম।

  • গুদামে রাখলে সরকারি নজরদারি থাকে।

  • লাইটারে রাখলে মজুতের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না।

👉 ফলে চাহিদার সময় পণ্য আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও দাম বাড়ানো সহজ হয়।

তিন মাস ধরে বহির্নোঙরে আটকে মাদার ভেসেল

অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ইউক্রেন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ডজনের বেশি মাদার ভেসেল এখনো বহির্নোঙরে আটকে আছে। এতে বন্দরের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাজারেও তৈরি হচ্ছে সরবরাহ সংকট।

ভাসমান গুদাম খালি করতে কড়া নির্দেশ

এই পরিস্থিতিতে ২২ জানুয়ারি নৌপরিবহন অধিদপ্তর কড়া নির্দেশনা জারি করেছে।

📌 নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

  • ১৫ দিনের বেশি লোড থাকা লাইটার অবিলম্বে খালাস করতে হবে।

  • ৫ কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য নামাতে হবে।

  • নির্দেশ না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা।

এ নির্দেশনার আওতায় রয়েছে—
আকিজ, নাবিল, আরবি অ্যাগ্রো, স্প্রেকট্রা, শেখ ব্রাদার্সসহ একাধিক গ্রুপ।

টাস্কফোর্স, জরিমানা ও মামলা

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে—

  • খুলনা ও ঢাকায় টাস্কফোর্স গঠন।

  • ইচ্ছাকৃত বিলম্বে ফৌজদারি মামলা।

  • ইতিমধ্যে ২টি লাইটারকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

একদিনেই ৮০টি লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

❓ প্রশ্ন–উত্তর

প্রশ্ন: লাইটার জাহাজ ভাসমান গুদাম হলে কী ক্ষতি?
উত্তর: এতে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়, কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দাম বাড়ে।

প্রশ্ন: রমজানে এর প্রভাব কী হতে পারে?
উত্তর: ডাল, ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

প্রশ্ন: সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
উত্তর: কড়া নির্দেশ, টাস্কফোর্স, জরিমানা ও মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

রমজানের মতো সংবেদনশীল সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ভাসমান গুদাম সংস্কৃতি শুধু বাজার অস্থিরই করছে না, ভোক্তাদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সরকারের কড়া নজরদারি ও দ্রুত খালাস নিশ্চিত করা না গেলে রোজার বাজারে বড় ধরনের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র-.ctgpratidin.com

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-জমির মামলা থেকে বাঁচতে আগে থেকেই যেসব কাজ করবেন

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।