বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায় কোনো বাড়ির সামনে, আঙিনায় বা জমির মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো এলাকায় বা আগে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের সময় অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে। পরে যখন সেই জমিতে বাড়ি নির্মাণ বা অন্য কোনো উন্নয়ন কাজ করতে হয়, তখন বিদ্যুতের খুঁটি বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই কারণে অনেকেই জানতে চান—বাড়ি বা জমির উপর থেকে বিদ্যুতের খুঁটি কীভাবে সরানো যায় এবং এর জন্য কী নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। বাংলাদেশে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে আবেদন করে এই কাজটি করা যায়।
নিচে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর সম্পূর্ণ নিয়ম ও প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-অনলাইনে পুরাতন বিদ্যুৎ মিটার পরিবর্তনের আবেদন করার নিয়ম(মাত্র ২৭৬ টাকা)
কখন বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর প্রয়োজন হয়
সাধারণত কয়েকটি পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর প্রয়োজন হয়।
যেমন—
-
বাড়ি নির্মাণের সময় খুঁটি বাধা হয়ে দাঁড়ালে।
-
জমির মাঝখানে খুঁটি থাকলে।
-
রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে।
-
বিদ্যুতের লাইন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলে।
-
জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া খুঁটি বসানো হলে।
এই ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে খুঁটি সরানো যায়।
বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য কোথায় আবেদন করতে হবে
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব বিভিন্ন সংস্থার ওপর রয়েছে। তাই বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর আবেদন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সংস্থার কাছে করতে হয়।
সাধারণত নিচের সংস্থাগুলোর কাছে আবেদন করতে হয়—
-
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (PBS)।
-
ডেসকো (DESCO)।
-
ডিপিডিসি (DPDC)।
-
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (WZPDCL)।
-
নেসকো (NESCO)।
আপনার এলাকায় যে সংস্থা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, সেই অফিসে আবেদন করতে হবে।
বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর আবেদন করার নিয়ম
বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য সাধারণত একটি লিখিত আবেদন করতে হয়। আবেদন করার সময় কিছু তথ্য উল্লেখ করতে হয়।
আবেদন করার ধাপ
১. সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে।
২. জমির মালিকানার প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
৩. প্রয়োজন হলে জমির নকশা বা ম্যাপ দিতে হবে।
৪. আবেদন যাচাই করার জন্য কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসতে পারে।
৫. অনুমোদন হলে খুঁটি স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়।
বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে কী কী কাগজপত্র লাগে
আবেদন করার সময় সাধারণত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
যেমন—
-
জমির দলিল বা মালিকানার কাগজ।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র।
-
আবেদনপত্র।
-
জমির নকশা (প্রয়োজনে)।
-
বিদ্যুৎ বিলের কপি।
এই কাগজপত্র জমা দিলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।
বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে কত খরচ হতে পারে
বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর খরচ সাধারণত আবেদনকারীকেই বহন করতে হয়। কারণ এটি একটি প্রযুক্তিগত কাজ এবং এতে শ্রম ও উপকরণ খরচ থাকে।
খরচ নির্ভর করে—
-
খুঁটির অবস্থান।
-
নতুন খুঁটি বসানোর স্থান।
-
বিদ্যুতের লাইনের দূরত্ব।
-
প্রয়োজনীয় উপকরণ।
সাধারণত কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি খরচ হতে পারে।
বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
-
অনুমতি ছাড়া খুঁটি সরানো যাবে না।
-
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
-
নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ করতে হবে।
-
নতুন খুঁটির অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।
এই নিয়মগুলো মেনে চললে কাজটি নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়।
উপসংহার
বাড়ি বা জমির উপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকলে তা সরানোর জন্য নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে আবেদন করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে খুঁটি স্থানান্তরের অনুমতি নেওয়া যায়। তবে খুঁটি সরানোর কাজ নিজে করা যাবে না; এটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হবে। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









