আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল: অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সহজ ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে প্রতি বছর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়ের ভিত্তিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সময়মতো রিটার্ন দিতে পারেন না। তাই করদাতাদের সুবিধার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আয়কর রিটার্ন জমাদানের সময়সীমা বাড়িয়ে থাকে। চলতি বছরও সেই সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যাদের এখনও রিটার্ন দেওয়া হয়নি, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।

এখন প্রশ্ন হলো—
👉 অনলাইনে কীভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন?
👉 কোন কোন কাগজপত্র প্রয়োজন?
👉 প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?
👉 সময় বাড়ানোর সুবিধা কী?

এই ব্লগে ধাপে ধাপে সব সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন-চাকরিজীবীদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম(চালানসহ)

সময়সীমা বাড়ানোর কারণ

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আজ এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এই সময় বৃদ্ধি করে আগামী ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। আগামী ৩০ নভেম্বর এই সময় শেষ হওয়ার কথা ছিল।

একই সঙ্গে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে না পারলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করা যাবে, এমন আরেকটি আদেশ আজ করেছে এনবিআর।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেবেন যেভাবে

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়া এখন অনেক সহজ, যেহেতু NBR-এর eReturn সিস্টেম সম্পূর্ণ ডিজিটাল।

ধাপ–১: ই-টিআইএন (e-TIN) অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন

🔗 ওয়েবসাইট: https://etaxnbr.gov.bd

লগইন করতে যা লাগবে—

  • ই-টিআইএন নম্বর

  • মোবাইল নম্বর

  • পাসওয়ার্ড

যদি অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

ধাপ–২: করদাতা ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ

লগইন করার পর আপনার করদাতা প্রোফাইল দেখা যাবে—

  • ব্যক্তিগত তথ্য

  • টিআইএন স্ট্যাটাস

  • আগের বছরের রিটার্ন

  • নোটিশ ও প্রয়োজনীয় তথ্য

ধাপ–৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন

অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো হাতের কাছে রাখুন:

✔ ব্যক্তিগত কাগজপত্র
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

  • টিআইএন সার্টিফিকেট

  • মোবাইল নম্বর

  • ই-মেইল ঠিকানা

✔ আয় সংক্রান্ত কাগজপত্র
  • বেতন আয়ের সার্টিফিকেট (যদি চাকরিজীবী হন)

  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট

  • ব্যবসার আয় হিসাব (ব্যবসায়ী হলে)

  • ভাড়ার আয় থাকলে সেগুলোর বিস্তারিত

✔ খরচ ও অব্যাহতি সংক্রান্ত কাগজপত্র
  • বিনিয়োগ ও সঞ্চয়পত্রের কাগজ

  • জীবন বিমায় বিনিয়োগ

  • গৃহঋণের কাগজ

  • চিকিৎসা ব্যয়ের তথ্য

  • দান বা অনুদানের কাগজপত্র

ধাপ–৪: ‘Prepare Return’ অপশনে ক্লিক করুন

এখান থেকে ধাপে ধাপে সব তথ্য পূরণ করতে হবে—

  • ব্যক্তিগত তথ্য

  • আয়

  • ব্যয়

  • করছাড়

  • আগের বছরের অ্যাডভান্স ট্যাক্স

  • করযোগ্য আয়

সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার কর হিসাব করে দেবে।

ধাপ–৫: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন

যেমন:

  • বেতন সার্টিফিকেট

  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট

  • বিনিয়োগ/সঞ্চয়পত্র

  • ভাড়ার তথ্য
    ফাইল JPG/PDF আকারে আপলোড করা যাবে।

ধাপ–৬: রিটার্ন জমা দিন

সব তথ্য চেক করে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করুন।
সাথে সাথেই আপনার ইমেইলে বা ড্যাশবোর্ডে Acknowledgement Receipt (রসিদ) চলে আসবে।

এই রসিদই প্রমাণ করে আপনি সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।

সময় বাড়ানোর সুবিধা কী?

✔ জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন জমা দেওয়া
✔ ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত সময়
✔ অনলাইন সিস্টেমে চাপ কম
✔ অফিসে ভিড় এড়ানো সম্ভব
✔ সঠিকভাবে হিসাব করার সুযোগ

জরুরি কিছু কর-আইন সম্পর্কিত তথ্য

  • যাদের বয়স ১৮+ এবং আয় নির্দিষ্ট সীমার উপরে, তাদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক

  • টিআইএন থাকলে আয় না থাকলেও “জিরো রিটার্ন” দিতে হয়

  • রিটার্ন না দিলে জরিমানা হতে পারে

  • চাকরির ক্ষেত্রে রিটার্ন রসিদ অনেক জায়গায় প্রয়োজন—
    ✔ পাসপোর্ট রিনিউ
    ✔ ব্যাংক ঋণ
    ✔ জমি/ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন
    ✔ ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়ন

উপসংহার

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া এখন অনেক সহজ ও ঝামেলাবিহীন। সময়সীমা বাড়ানোয় করদাতাদের আর দেরি করার সুযোগ নেই। এখনই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়ে নিন। এতে ভবিষ্যতের অনেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সহজ হয়ে যাবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-টিন সার্টিফিকেট কি?টিন সার্টিফিকেট কি কাজে লাগে

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।