আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

সেহরি ইফতার তারাবি ও রোজার নিয়ত বাংলায় উচ্চারণ সহ

February 18, 2026 5:46 PM
সেহরি ইফতার তারাবি ও রোজার নিয়ত বাংলায় উচ্চারণ সহ

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে প্রতিদিন সেহরি খাওয়া, রোজা রাখা, সূর্যাস্তে ইফতার করা এবং রাতে তারাবির নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে অনেকেই সঠিক নিয়ত জানেন না বা আরবি দোয়ার বাংলা উচ্চারণ নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। বিশেষ করে নতুন রোজাদার, কিশোর-কিশোরী কিংবা যারা আরবি ভালোভাবে পড়তে পারেন না—তাদের জন্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা প্রয়োজন হয়।

নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা। তবে মুখে উচ্চারণ করলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং ইবাদত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। তাই এখানে সেহরি, রোজা, ইফতার ও তারাবির নিয়ত আরবি দোয়া, বাংলা উচ্চারণ ও সংক্ষিপ্ত অর্থসহ তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন-রোজার ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানুন

সেহরির নিয়ত

সেহরি হলো রোজা শুরুর পূর্বে ভোররাতে গ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার, যা রোজাদারকে সারাদিনের উপবাসের জন্য শক্তি জোগায়। সেহরির সময় সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত থাকে, যা ফজরের আজানের আগে শেষ হয়। সেহরি গ্রহণ করা সুন্নত এবং এতে বরকত রয়েছে।

সেহরির নিয়ত (আরবি)

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّي اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

সেহরির নিয়ত বাংলা উচ্চারণ

নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।

সেহরির নিয়ত অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা করছি। আপনি আমার রোজা কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

সেহরির সময় এই নিয়ত করা সুন্নত, তবে মনে মনে নিয়ত করলেই রোজা সহীহ হবে।

সেহরির নিয়ত  ভুলে গেলে যে দোয়া পড়বেন

হাদিস শরিফে এসেছে, খানা খাওয়ার শুরুতে কেউ বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে, খাওয়ার মাঝখানে যখনই একথা মনে পড়বে, সঙ্গে সঙ্গে এই দোয়া পড়বে,

بسم الله اوله واخره

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আউয়ালাহু ওয়া আখেরাহ

অর্থ: আমি আল্লাহ তায়ালার নামে খানা খাওয়া শুরু করছি। প্রথমেও আল্লাহ তা’লার নাম, পরিশষেও আল্লাহ তা’লার নাম। (আবু দাউদ, আহমদ, দারেমী)।

ইফতারের দোয়া

ইফতারের সময় রোজাদারদের জন্য একটি বিশেষ দোয়া রয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) পড়তেন। এই দোয়াটি ইফতারের পূর্বে বা ইফতারের সময় পড়া সুন্নত।

ইফতারের দোয়া (আরবি):

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু

ইফতারের দোয়া বাংলা অর্থ:

হে আল্লাহ! আমি আপনার উদ্দেশ্যে রোজা রেখেছি এবং আপনার দেয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।

তারাবির নিয়ত

তারাবি নামাজ রমজান মাসে এশার নামাজের পর আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত। নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা; তাই মনের মধ্যে তারাবি নামাজ পড়ার সংকল্প করলেই নিয়ত সম্পন্ন হয়। তবে ইচ্ছা করলে মুখেও নিয়ত উচ্চারণ করা যেতে পারে।

তারাবি নামাজের নিয়ত (আরবি):

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَيْنِ صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ سُنَّةً لِلّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا إِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيفَةِ اَللّٰهُ أَكْبَر

তারাবি নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাতাইনি সালাতাত তারাবিহি সুন্নাতাল্লিল্লাহি তাআলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শরিফাহ, আল্লাহু আকবার।

তারাবি নামাজের নিয়ত বাংলা অর্থ:

আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত তারাবি সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ত করছি; আল্লাহু আকবার।

যদি জামাতে নামাজ আদায় করা হয়, তাহলে নিয়তে “এই ইমামের পেছনে” অংশটি যোগ করা যেতে পারে।

যাদের আরবি উচ্চারণে সমস্যা হয়, তারা বাংলায়ও নিয়ত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ: “আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত তারাবি সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ত করছি; আল্লাহু আকবার।”

তারাবি নামাজ দুই রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে আদায় করা হয়। প্রতি চার রাকাত পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত, যা “তারাবি” শব্দের অর্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

রোজার নিয়ত

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি, যা রমজান মাসে প্রতিদিন ফজরের পূর্বে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পর ইফতারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। রোজা পালনের জন্য নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা মূলত অন্তরের ইচ্ছা প্রকাশ করে। মনে মনে নিয়ত করলেই রোজা সহীহ হয়, তবে ইচ্ছা করলে মুখেও নিয়ত উচ্চারণ করা যেতে পারে।

রোজার নিয়ত আরবি

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّي اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ

নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।

রোজার নিয়ত বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের আপনার সন্তুষ্টির জন্য ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা করছি। আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

সেহরির সময় এই নিয়ত করা সুন্নত, তবে মনে মনে নিয়ত করলেই রোজা সহীহ হবে।

রোজা ভঙ্গের কারণ

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি, যা রমজান মাসে প্রতিদিন ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পালন করা হয়। রোজা পালনকালে কিছু কাজ রোজা ভঙ্গের কারণ হতে পারে, যা প্রত্যেক মুসলিমের জানা উচিত। নিচে রোজা ভঙ্গের প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করা হলো:

  1. ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খাওয়া বা পান করা: রোজা অবস্থায় সচেতনভাবে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়।
  2. স্বামী-স্ত্রীর সহবাস: রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপন রোজা ভঙ্গের কারণ হয়।
  3. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা: নিজ ইচ্ছায় বমি করলে রোজা ভেঙে যায়।
  4. হায়েয বা নিফাস (মাসিক বা প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব): রমজান মাসে দিনের বেলায় নারীদের হায়েয বা নিফাস শুরু হলে রোজা ভেঙে যায়।
  5. ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো: হস্তমৈথুন বা অন্য কোনো উপায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটালে রোজা ভেঙে যায়।
  6. শিঙ্গা লাগানো বা রক্তদান করা: শিঙ্গা লাগিয়ে রক্ত বের করা বা রক্তদান করলে রোজা ভেঙে যায়।
  7. ইচ্ছাকৃতভাবে ধূমপান করা: রোজা অবস্থায় ধূমপান করলে রোজা ভেঙে যায়।
  8. ইনজেকশন বা স্যালাইন গ্রহণ করা: যদি ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে পুষ্টি সরবরাহ করা হয়, তবে রোজা ভেঙে যায়।
  9. ইচ্ছাকৃতভাবে নাক বা কান দিয়ে কিছু প্রবেশ করানো: নাক বা কানের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পদার্থ শরীরে প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যায়।
  10. ইচ্ছাকৃতভাবে দাঁতের মাজন বা টুথপেস্ট গিলে ফেলা: দাঁত পরিষ্কার করার সময় যদি টুথপেস্ট বা মাজন গিলে ফেলা হয়, তবে রোজা ভেঙে যায়।

উপরোক্ত কাজগুলো রোজা ভঙ্গের কারণ হতে পারে। তাই রোজা পালনকালে এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

প্রশ্ন-উত্তর

প্রশ্ন ১: সেহরির শেষ সময় কখন?

উত্তর: সেহরির শেষ সময় সুবহে সাদিক পর্যন্ত, যা ফজরের আজানের পূর্ব মুহূর্ত।

প্রশ্ন ২: ইফতার কখন করতে হয়?

উত্তর: সূর্যাস্তের সাথে সাথেই ইফতার করতে হয়, যা মাগরিবের আজানের সময়।

প্রশ্ন ৩: তারাবি নামাজ কত রাকাত?

উত্তর: তারাবি নামাজ ২০ রাকাত, যা এশার নামাজের পর আদায় করা হয়।

প্রশ্ন ৪: রোজার নিয়ত কখন করতে হয়?

উপসংহার

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। সেহরি, ইফতার, তারাবি, এবং রোজার নিয়ত এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করতে পারি। সঠিক সময়সূচী ও নিয়ম মেনে চলা আমাদের কর্তব্য, যা আমাদের ইবাদতকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

আরও পড়ুন-তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত বাংলায় উচ্চারণ সহ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now