প্রায় এক যুগ পর দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন পে স্কেল কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন- এসএমসিতে টেরিটরি সেলস অফিসার নিয়োগ, আবেদন চলবে ১৭ জুন পর্যন্ত
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হবে।
তবে পুরো সুবিধা একবারে না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি এ বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। রাজস্ব আদায়ের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে। তারপরও সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন বাহিনীর কর্মীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন। বাকি অংশ পরবর্তী দুই অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি পেনশন খাতে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত জানুয়ারিতে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০টি গ্রেড বহাল রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব কী হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
সূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র
আরও পড়ুন- ফ্রেশারদের জন্য প্রাণ গ্রুপে চাকরি, আবেদন চলবে ২ জুন পর্যন্ত








