লাইসেন্স থেকে ফিটনেস এখন ঘরে বসেই বিআরটিএর সব কাজ এক পোর্টালে

প্রকাশিত: 17-05-2026 7:54 AM
লাইসেন্স থেকে ফিটনেস এখন ঘরে বসেই বিআরটিএর সব কাজ এক পোর্টালে

বিআরটিএ অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো, দালালের পেছনে ঘোরা কিংবা একটি লাইসেন্স বা ফিটনেসের জন্য বারবার অফিসে যাওয়া—এমন ভোগান্তির চিত্র এখন অনেকটাই বদলাচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) তাদের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চালু করেছে BSP বা BRTA Service Portal, যেখানে এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই পাওয়া যাচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, মোটরযান নিবন্ধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা।

আরও পড়ুন-নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ না থাকলেই জরিমানা

বর্তমানে দেশের লাখো মোটরসাইকেল ও গাড়ির মালিক অনলাইনে বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা নিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন, স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স নবায়ন এবং গাড়ির ফিটনেস সংক্রান্ত কাজ এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গেছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার ফলে সময় ও খরচ দুটোই কমছে বলে মনে করছেন ব্যবহারকারীরা।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, BSP পোর্টাল মূলত নাগরিকদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এখানে একজন ব্যবহারকারী নিজের অ্যাকাউন্ট খুলে প্রয়োজনীয় সেবার জন্য আবেদন করতে পারেন। জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে খুব সহজেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা যায়।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন। নতুন চালকরা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন। প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র আপলোড করার পর পরীক্ষার তারিখ ও কেন্দ্রও নির্বাচন করা যায়। এতে করে বিআরটিএ অফিসে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমছে।

স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত হয়েছে। আগে লাইসেন্স নবায়নের জন্য একাধিকবার অফিসে যেতে হলেও এখন বেশিরভাগ প্রক্রিয়াই অনলাইনে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। একইভাবে হারিয়ে যাওয়া লাইসেন্সের ডুপ্লিকেট আবেদনও BSP পোর্টালের মাধ্যমে করা সম্ভব।

মোটরযান মালিকদের জন্যও পোর্টালটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন গাড়ির নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, ট্যাক্স টোকেন নবায়ন এবং ফিটনেস আবেদন এখন অনলাইনে করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গাড়ির ফিটনেসের জন্য আগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হলেও এখন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

অনেক ব্যবহারকারী বলছেন, আগে বিআরটিএর বিভিন্ন কাজ করতে দালালের সহায়তা নিতে হতো। এখন অনলাইন সেবা চালুর ফলে নিজেরাই সহজে আবেদন করতে পারছেন। এতে অতিরিক্ত খরচও কমছে।

বিআরটিএ পোর্টালে ফি ক্যালকুলেটর সুবিধাও রয়েছে। কোন সেবার জন্য কত টাকা লাগবে, তা আগে থেকেই দেখা যায়। ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ কমছে এবং সেবায় স্বচ্ছতা বাড়ছে।

এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থাও যুক্ত হয়েছে। বিকাশসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে সহজেই ফি পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে ব্যাংকে গিয়ে আলাদা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল বিআরটিএ সেবা চালুর ফলে শুধু নাগরিক ভোগান্তিই কমছে না, একই সঙ্গে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়ছে। অনলাইনে তথ্য সংরক্ষণের কারণে জাল কাগজপত্র শনাক্ত করাও সহজ হচ্ছে।

বর্তমানে রাইড শেয়ারিং সেবার জন্যও BSP পোর্টালে আলাদা সুবিধা রয়েছে। রাইড শেয়ারিং কোম্পানির অনুমোদন, নিবন্ধন এবং নীতিমালা সম্পর্কিত তথ্য এখান থেকে জানা যায়। ফলে ডিজিটাল পরিবহন ব্যবস্থাপনাও আরও সহজ হচ্ছে।

তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক সাধারণ মানুষ এখনো পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না। তাই বিআরটিএকে আরও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষকে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, BSP পোর্টালকে সেই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে আরও নতুন সেবা যুক্ত হলে বিআরটিএর প্রায় সব কার্যক্রমই পুরোপুরি অনলাইনে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য।

আরও পড়ুন-ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয় কি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now