দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে গাইবান্ধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। কোনো তেল, গ্যাস বা কয়লা ছাড়াই প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তিস্তা সোলার লিমিটেড। সম্পূর্ণ সূর্যের আলো নির্ভর এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন-অনলাইনে পুরাতন বিদ্যুৎ মিটার পরিবর্তনের আবেদন করার নিয়ম(মাত্র ২৭৬ টাকা)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে এই প্রকল্প। এক সময়ের নির্জন বালুচর এখন পরিণত হয়েছে আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। প্রকল্পটির প্রতি ঘণ্টায় উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট এবং এটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত তিন বছরে এই কেন্দ্র থেকে প্রায় সোয়া ১০ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ যদি ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন করতে হতো, তাহলে ব্যয় হতো প্রায় তিন গুণ বেশি। ফলে এই প্রকল্প শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক।
প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজার ফয়সাল হাবীব বলেন, প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক বেশি হলেও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই কম। সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় জ্বালানির কোনো খরচ নেই। অন্যদিকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মাশরাত হাসান জানান, প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। ফলে একটি ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে সৌরবিদ্যুৎ বড় ধরনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের বিদ্যুতের বড় অংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করছে, সেখানে বাংলাদেশে এই হার মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে এই খাতে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ শুধু বড় প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ না রেখে ছাদভিত্তিক এবং অবকাঠামোভিত্তিক ব্যবস্থায় সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বড় পরিবর্তন সম্ভব। বড় সেতু, রেলপথ এবং স্টেশন এলাকায় সৌর প্যানেল বসিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে।
বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) কনসালটেন্ট মোজাহারুল হক বলেন, হাট-বাজার, রেলস্টেশন ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, শুধুমাত্র ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকেই বছরে প্রায় ২৬ হাজার ৫১৪ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সব মিলিয়ে গাইবান্ধার এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি প্রমাণ করেছে যে, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে কম খরচে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। সঠিক নীতিমালা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎই হতে পারে বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম টেকসই সমাধান।
সূত্র: প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য, জ্বালানি খাত বিশ্লেষণ ও গবেষণা প্রতিবেদন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







