আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই সারাদেশে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রসচিবদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
আরও পড়ুন- কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই, ৯ হাজার শিক্ষক পাচ্ছেন ট্যাব
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক নির্দেশনায় পরীক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নেবে, অন্যদিকে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুসরণ করা হবে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় আরও জানানো হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত তিন দিন আগে ট্রেজারি বা খানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই করতে হবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্রসচিব এবং পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য সৃজনশীল (CQ) ও বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্নপত্রের পৃথক সেট প্রস্তুত রাখতে হবে। এগুলো নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আলাদা করে সিকিউরিটি খামে প্যাকেট করতে হবে। খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র যাচাইয়ের দিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো সঠিকভাবে সাজিয়ে সিলগালা করতে হবে। কোনো ধরনের অসংগতি বা ত্রুটি ধরা পড়লে সেটি কেন্দ্রসচিবের দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও পরিবহনের ক্ষেত্রেও কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। ট্রেজারি থেকে সংশ্লিষ্ট দিনের প্রশ্নপত্র গ্রহণ করে তা ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রহরায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে হবে। প্রশ্নপত্র খোলার আগে মোবাইল ফোনে প্রাপ্ত সেট কোড যাচাই করতে হবে এবং তা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সামনে নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্ধারিত সেট কোড ছাড়া অন্য কোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া অব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের সেটগুলো অক্ষত অবস্থায় শিক্ষা বোর্ডে ফেরত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ফাঁকফোকর যেন না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়, যা তাদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তাই পরীক্ষা ঘিরে যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে এবার আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
সব মিলিয়ে, এসএসসি পরীক্ষা নির্বিঘ্ন ও প্রশ্নফাঁস-মুক্ত রাখতে কেন্দ্রসচিবদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা আয়োজনের আশা প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ড।
আরও পড়ুন-৯ এপ্রিলের মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা স্থগিত নতুন তারিখ ১০ মে
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-প্রথমে কোন কোন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









