বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও পড়তে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের স্কুলগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতিতে ক্লাস চালুর বিষয়ে সরকার ভাবছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন-২৫ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন না করলে বন্ধ হবে অননুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ক্যাম্পাস।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম—সব ধরনের স্কুলের ক্ষেত্রেই অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস একসঙ্গে চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিশদ পর্যালোচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিই পরে বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্লাস পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে হাইব্রিড পদ্ধতি একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি চালু করা হলে শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লাসের সময়সূচি নমনীয় করা সম্ভব হবে, যা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এ ধরনের পদ্ধতি বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা একটি বড় বাধা হতে পারে। তাই নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিভাবকদের একটি অংশ বলছেন, করোনা মহামারির সময় অনলাইন ক্লাস চালুর অভিজ্ঞতা থাকায় আবারও এমন ব্যবস্থা চালু করা হলে তা নতুন কিছু হবে না। তবে এবার যেন প্রযুক্তিগত সমস্যা কম থাকে এবং শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য এই পরিবর্তন নিয়ে এখন সবার দৃষ্টি আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের দিকে। সেখানেই নির্ধারিত হবে, দেশের স্কুলগুলোতে হাইব্রিড শিক্ষাপদ্ধতি চালু হবে কিনা।
আরও পড়ুন-এইচএসসি পরীক্ষা ৭ জুন থেকে শুরু অভিন্ন প্রশ্নপত্রে বড় পরিবর্তন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






