বাংলাদেশে নতুন সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং নিম্নআয়ের মানুষের আর্থিক চাপে সরকার সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এই কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাবে, যা সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়বে এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। বিদ্যমান সামাজিক ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন-ফ্যামিলি কার্ড, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও নদী পুনঃখননে কার্যক্রম শুরু আজ থেকে(তারেক রহমান)
ফ্যামিলি কার্ড কী
ফ্যামিলি কার্ড হলো একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধনভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে নির্ধারিত পরিবারকে নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
এই কার্ডের লক্ষ্য—
-
দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে সরাসরি সহায়তা।
-
মধ্যস্থতা ও অনিয়ম কমানো।
-
স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণ।
কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী—
-
মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা।
-
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য।
-
বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সহায়তা।
চূড়ান্ত ভাতার পরিমাণ নির্ধারণে একটি উপকমিটি কাজ করছে। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম ধাপে সীমিতসংখ্যক পরিবার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কীভাবে ফ্যামিলি কার্ড মিলবে
বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে সরকারি সূত্র অনুযায়ী ধাপে ধাপে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
সম্ভাব্য প্রক্রিয়া
- স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত।
- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড পর্যায়ে যাচাই।
- জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক ডেটাবেস তৈরি।
- অনুমোদিত পরিবারকে কার্ড প্রদান।
পরবর্তীতে অনলাইন আবেদন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতি রয়েছে, যাতে ঘরে বসেই আবেদন করা যায়।
আবেদন করতে লাগবে যেসব কাগজ
সরকারি সূত্র অনুযায়ী আবেদন করতে যেসব কাগজ প্রয়োজন হতে পারে—
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
-
সচল মোবাইল নম্বর।
-
পরিবারভিত্তিক তথ্য (পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আয় ইত্যাদি)।
প্রতি পরিবারে একটি কার্ড দেওয়া হবে এবং পরিবারের নারী সদস্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
কোথা থেকে আবেদন করা যাবে
কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে—
-
ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়।
-
পৌরসভা অফিস।
-
সিটি করপোরেশন কাউন্সিলর অফিস।
-
সম্ভাব্য অনলাইন পোর্টাল।
এসব মাধ্যমের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
পাইলট প্রকল্প ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
প্রথম ধাপে নির্দিষ্ট কয়েকটি উপজেলা বা এলাকায় পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। সফল হলে ধাপে ধাপে সব উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সম্প্রসারণ করা হবে।
এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করে নিয়মিত ভাতা বিতরণ সহজ করা হবে।
কেন এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার সীমিত আয়ে জীবনযাপন করছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে—
-
সরাসরি নগদ সহায়তা পৌঁছাবে।
-
নারী সদস্যের আর্থিক ক্ষমতায়ন বাড়বে।
-
ভাতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
-
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম কমবে।
সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: আবেদন কবে শুরু হবে?
উত্তর: পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর আবেদন শুরু হবে।
প্রশ্ন: কারা অগ্রাধিকার পাবে?
উত্তর: দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন করা যাবে?
উত্তর: ভবিষ্যতে অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
উপসংহার
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন। সরাসরি নগদ সহায়তা ও কেন্দ্রীয় ডেটাবেসভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পরই বিস্তারিত নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন-নতুন ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করার নিয়ম(অনলাইন ও অফলাইন)
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






