দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন এবং ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন সাংবাদিকদের জানান, দেশের হতদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
আরও পড়ুন-ফ্যামিলি কার্ড, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও নদী পুনঃখননে কার্যক্রম শুরু আজ থেকে(তারেক রহমান)
ঈদের আগেই শুরু হবে পাইলট কার্যক্রম
সভায় জানানো হয়, ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রকৃত উপকারভোগীদের দ্রুত সনাক্ত করে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদান
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। এই সহায়তা সরাসরি উপকারভোগী পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি জানান, হতদরিদ্র পরিবার এবং নারী প্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, যেসব পরিবার অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের আগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
চাকরিচ্যুতি বিষয়ে কঠোর বার্তা
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চাকরিচ্যুতি সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে তা অবশ্যই বিধি অনুযায়ী করতে হবে। আইন ও নিয়ম অনুসরণ না করে কাউকে চাকরি থেকে সরানো যাবে না।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হলে সে বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত আসবে বলেও তিনি জানান।
উপসংহার
সরকারের এই উদ্যোগ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হতদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এটি বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প চালুর ঘোষণায় উপকারভোগীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।
আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









