বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে পুনঃবিবাহ না হওয়া সনদ (Non-Remarriage Certificate) প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বিধবা ভাতা, পরিবার পেনশন, জমিজমা সংক্রান্ত মামলা, আদালতের কার্যক্রম বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এই সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগে এ ধরনের সনদ পেতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন অফিসে একাধিকবার যেতে হতো। কিন্তু এখন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব।
২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী e-প্রত্যয়ন পোর্টালের মাধ্যমে খুব সহজেই পুনঃবিবাহ না হওয়া সনদের আবেদন করা যায়। আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সনদ সংগ্রহ করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-অনলাইনে ই-ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম(আবেদন, কাগজপত্র ও খরচ)
পুনঃবিবাহ না হওয়া সনদ কী
পুনঃবিবাহ না হওয়া সনদ হলো স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি প্রত্যয়নপত্র, যেখানে উল্লেখ থাকে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর পুনরায় বিবাহ করেননি।
এই সনদ সাধারণত প্রয়োজন হয়—
-
বিধবা ভাতা আবেদন।
-
সরকারি চাকরির পারিবারিক পেনশন।
-
আদালতের মামলা।
-
সম্পত্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র।
অনলাইনে আবেদন করার ধাপসমূহ
ধাপ ১: গুগলে সার্চ করুন
প্রথমে গুগলে গিয়ে সার্চ করুন eprottoyon.com। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
ধাপ ২: রেজিস্ট্রেশন করুন
নতুন ব্যবহারকারী হলে “রেজিস্টার” অপশনে ক্লিক করুন।
-
আপনার নাম।
-
মোবাইল নম্বর।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
-
ইমেইল (প্রযোজ্য হলে)।
সঠিক তথ্য দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
ধাপ ৩: সনদের জন্য আবেদন নির্বাচন
লগ-ইন করার পর প্রোফাইলের মেনুতে “সনদের জন্য আবেদন” অপশন বাছাই করুন।
ডান পাশে বিভিন্ন সনদের তালিকা দেখবেন। সেখান থেকে “পুনঃবিবাহ না হওয়া সনদ” নির্বাচন করুন।
ধাপ ৪: আবেদন ফরম পূরণ
ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন—
-
আবেদনকারীর পূর্ণ নাম।
-
পিতা/স্বামীর নাম।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
-
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা।
-
স্বামী/স্ত্রীর মৃত্যুর তারিখ।
সব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী সঠিকভাবে পূরণ করুন।
ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড
সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—
-
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
-
স্বামী/স্ত্রীর মৃত্যু সনদ
-
ওয়ারিশ সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
স্ক্যান কপি পরিষ্কারভাবে আপলোড করুন।
ধাপ ৬: ফি পরিশোধ
কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ বা ফি থাকতে পারে। অনলাইন পেমেন্ট বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ করুন।
ধাপ ৭: আবেদন সাবমিট ও ট্র্যাকিং
সব তথ্য যাচাই করে আবেদন সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন।
এই নম্বর ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে লগ-ইন করে আবেদন স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন।
আবেদন অনুমোদনের পর কী করবেন
আবেদন অনুমোদিত হলে—
-
অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যায় (যদি সুবিধা থাকে)
অথবা -
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করতে হয় । অনুমোদন সময় সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
আবেদন দ্রুত অনুমোদনের জন্য পরামর্শ
-
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে আবেদন তথ্য মিল রাখুন।
-
মৃত্যু সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র স্পষ্ট স্ক্যান কপি দিন।
-
মোবাইল নম্বর সচল রাখুন।
-
প্রয়োজনে স্থানীয় চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের যাচাই নিশ্চিত করুন।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন না করলে কি অফিসে সরাসরি করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, স্থানীয় অফিসে সরাসরি আবেদন করা যায়।
প্রশ্ন: কতদিনে সনদ পাওয়া যায়?
উত্তর: সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবস সময় লাগে।
প্রশ্ন: আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?
উত্তর: ভুল সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে হবে।
উপসংহার
পুনঃবিবাহ না হওয়া সনদ এখন অনলাইনে আবেদন করা সহজ ও দ্রুত। ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী e-প্রত্যয়ন পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন, ট্র্যাকিং এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র দিলে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া সম্ভব। তাই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রেখে নিয়ম মেনে আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-অনলাইনে ই-ট্রেড লাইসেন্স যাচাই করার নিয়ম(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










