রমজান মাস শুরু হলেই ইশার নামাজের পর বিশেষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। বিশেষ করে প্রথম রোজার তারাবি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—নিয়ত কীভাবে করবেন, কত রাকাত পড়বেন এবং বাংলা উচ্চারণ কী হবে। সঠিক নিয়ম জানা না থাকায় অনেকেই দ্বিধায় পড়েন।
এই প্রতিবেদনে প্রথম রোজার তারাবির নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণসহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো, যাতে যে কেউ সহজেই সঠিকভাবে তারাবি আদায় করতে পারেন।
আরও পড়ুন-তারাবির নামাজ ৮ রাকাত পড়া যাবে কি?
গুরুত্বপূর্ণ
তারাবি হলো রমজান মাসের বিশেষ নফল নামাজ, যা ইশার ফরজ ও সুন্নত আদায়ের পর পড়া হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে এই নামাজ আদায় করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামও তা গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। রমজানের রাতে কোরআন তেলাওয়াত শোনার সুযোগও এই নামাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তারাবি শব্দের অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। সাধারণত চার রাকাত পরপর কিছু সময় বিরতি দেওয়া হয় বলেই এই নামের উৎপত্তি।
প্রথম রোজার তারাবির নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ সহ
তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে আদায় করা উত্তম। প্রতি দুই রাকাতের জন্য আলাদা নিয়ত করতে হয়। নিয়ত আরবিতে করা সুন্নত, তবে বাংলা অর্থ মনে মনে করলেও নামাজ সহিহ হয়।
আরবি নিয়ত:
نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ سُنَّةَ التَّرَاوِيحِ رَكْعَتَيْنِ لِلَّهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا إِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيفَةِ اللَّهُ أَكْبَرُ
বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া সুন্নাতাত তারাবিহি রাকআতাইনি লিল্লাহি তাআলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শরীফাতি আল্লাহু আকবার।
অর্থাৎ, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত তারাবির সুন্নত নামাজ কাবা শরিফের দিকে মুখ করে আদায় করার নিয়ত করলাম।
প্রথম রোজা হোক বা পরবর্তী যেকোনো দিন—তারাবির নিয়ত একই থাকবে।
তারাবির নামাজ কত রাকাত
বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে সাধারণত ২০ রাকাত তারাবি আদায় করা হয়। তবে অনেক স্থানে ৮ রাকাতও পড়া হয়। উভয় পদ্ধতিই গ্রহণযোগ্য।
২০ রাকাত পড়লে—
-
২ রাকাত করে ১০ সালামে শেষ করতে হয়।
-
প্রতি চার রাকাত পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া সুন্নতসম্মত।
জামাতে তারাবি পড়ার নিয়ম
রমজান মাসে মসজিদে জামাতের সঙ্গে তারাবি আদায় করা অধিক ফজিলতপূর্ণ। ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে আলাদা কেরাত পড়তে হয় না। শুধু নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা দিয়ে নামাজে শরিক হলেই যথেষ্ট।
তবে কেউ যদি একা পড়েন, সেক্ষেত্রে নিজে কোরআন তেলাওয়াত করে নামাজ আদায় করতে হবে।
প্রথম রোজার রাতে বিশেষ প্রস্তুতি
রমজানের প্রথম রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারাবির আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম—
-
ওজু ও পবিত্রতার প্রতি যত্ন নেওয়া।
-
মনোযোগ সহকারে নিয়ত করা।
-
কোরআন তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনা।
-
অপ্রয়োজনীয় কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকা।
প্রথম রাত থেকেই ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে পুরো রমজান সহজ হয়।
তারাবির ফজিলত
তারাবির নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের নামাজ আদায় করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। তাই প্রথম রাত থেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে তারাবি আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারাবি কেবল একটি নামাজ নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, কোরআনের সান্নিধ্য ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
অনেকেই নিয়ত মুখস্থ না থাকলে দ্বিধায় পড়েন। মনে রাখতে হবে—নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা। মুখে আরবি উচ্চারণ না পারলেও নামাজ সহিহ হয়।
এছাড়া দ্রুততার সঙ্গে নামাজ পড়া, রুকু-সিজদায় তাড়াহুড়া করা বা অমনোযোগী থাকা থেকে বিরত থাকা উচিত। তারাবি ধীরস্থিরভাবে আদায় করা উত্তম।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: প্রথম রোজার তারাবির নিয়ত কি আলাদা?
উত্তর: না, প্রথম দিন ও পরবর্তী দিনগুলোর নিয়ত একই।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় নিয়ত করলে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, অন্তরের নিয়তই মূল বিষয়।
প্রশ্ন: ৮ রাকাত পড়লে কি নামাজ হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, ৮ বা ২০—উভয়টিই বৈধ।
প্রশ্ন: মহিলারা কি বাসায় তারাবি পড়তে পারবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মহিলারা বাসায় তারাবি আদায় করতে পারেন।
উপসংহার
প্রথম রোজার তারাবির নামাজ রমজানের ইবাদতের সূচনা। সঠিক নিয়ত ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই নামাজ আদায় করলে আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করা যায়। নিয়ত মুখস্থ না থাকলেও অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট। তাই প্রথম রাত থেকেই মনোযোগ ও ভক্তির সঙ্গে তারাবি আদায় করার মাধ্যমে রমজানকে অর্থবহ করে তোলা উচিত।
আরও পড়ুন-তারাবির নামাজ কি সুন্নত না নফল?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










