আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

খাস জমি কি বিক্রি করা যায় আইনগত সত্য ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা

February 15, 2026 9:35 AM
খাস জমি কি বিক্রি করা যায় আইনগত সত্য ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জমি সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত প্রশ্ন হলো—খাস জমি কি বিক্রি করা যায়? অনেকেই খাস জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। কেউ কম দামে জমি পাওয়ার আশায় খাস জমি কিনতে আগ্রহী হন, আবার কেউ খাস জমির দখল বা দলিল দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন। কিন্তু বাস্তবে খাস জমির আইনি অবস্থান কী, এটি আদৌ বিক্রি করা যায় কি না, আর এ ধরনের লেনদেনে কী ঝুঁকি রয়েছে—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি।

এই ব্লগ পোস্টে খাস জমির সংজ্ঞা, আইনি অবস্থা, বিক্রয়যোগ্যতা, সরকার কীভাবে খাস জমি বরাদ্দ দেয় এবং খাস জমি কেনাবেচা করলে কী ধরনের আইনি সমস্যায় পড়তে হতে পারে—সবকিছু সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন-কত বছর খাজনা না দিলে জমি খাস হয়? বিস্তারিত জানুন

খাস জমি কী

খাস জমি হলো সেই জমি, যার মালিক সরকার। সাধারণত যেসব জমির কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা নেই, পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বা আইনগত কারণে সরকারের অধীনে এসেছে—সেগুলোকে খাস জমি বলা হয়।

বাংলাদেশে খাস জমির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—

  • নদীভাঙনে সৃষ্টি হওয়া নতুন চর।

  • পরিত্যক্ত জমি।

  • দখলবিহীন সরকারি জমি।

  • বাজেয়াপ্তকৃত জমি।

এই জমিগুলোর ওপর ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার থাকে না।

খাস জমির মালিক কে

খাস জমির একমাত্র বৈধ মালিক হলো রাষ্ট্র বা সরকার।অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠান খাস জমির মালিক হতে পারে না—যতক্ষণ না সরকার আইনগতভাবে সেটি বরাদ্দ বা বন্দোবস্ত দেয়।

এ কারণেই খাস জমি নিয়ে যেকোনো লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা তৈরি হয়।

খাস জমি কি বিক্রি করা যায়

সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো—না, খাস জমি বিক্রি করা যায় না।

কারণ—

  • খাস জমির মালিক সরকার।

  • বিক্রির অধিকার কেবল মালিকের থাকে।

  • সরকার ছাড়া কেউ খাস জমি বিক্রি করতে পারে না।

যে ব্যক্তি খাস জমি বিক্রির দাবি করে, সে আইনত বৈধ মালিক নয়।

তাহলে খাস জমির নামে কেন কেনাবেচা হয়

বাস্তবে দেখা যায়, অনেক জায়গায় খাস জমি নিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—

১. দখল দেখিয়ে বিক্রি

অনেকেই খাস জমি দখল করে দীর্ঘদিন বসবাস বা চাষাবাদ করেন। পরে সেই দখলকে মালিকানা দাবি করে জমি বিক্রির চেষ্টা করেন।

২. ভুয়া বা অবৈধ কাগজপত্র

কিছু ক্ষেত্রে জাল দলিল, নামজারি বা রেকর্ড দেখিয়ে খাস জমিকে ব্যক্তিগত জমি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

৩. সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা

অনেক ক্রেতা খাস জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করেই কম দামের লোভে জমি কিনে ফেলেন।

খাস জমি বিক্রি করলে কী ধরনের আইনি সমস্যা হতে পারে

খাস জমি কেনাবেচা সম্পূর্ণ অবৈধ হওয়ায় এর পরিণতি গুরুতর হতে পারে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি—

  • জমি যেকোনো সময় সরকার অধিগ্রহণ করতে পারে।

  • দলিল বাতিল হয়ে যেতে পারে।

  • ক্রেতা উচ্ছেদের মুখে পড়তে পারেন।

  • অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

  • ফৌজদারি মামলার ঝুঁকি থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর বসবাসের পরও আদালতের আদেশে খাস জমি ছাড়তে হয়েছে—এমন উদাহরণ রয়েছে।

সরকার কীভাবে খাস জমি দেয়

যদিও খাস জমি বিক্রি করা যায় না, তবে সরকার নির্দিষ্ট শর্তে খাস জমি বরাদ্দ বা বন্দোবস্ত দিতে পারে।

সরকার সাধারণত খাস জমি দেয়—

  • ভূমিহীন পরিবারকে।

  • অসচ্ছল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে।

  • কৃষিকাজ বা আবাসনের উদ্দেশ্যে।

এই বরাদ্দ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে নয়।

খাস জমি বরাদ্দ পেলে কি বিক্রি করা যায়

এখানেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসে।

খাস জমি বরাদ্দ পাওয়ার পরও—

  • নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিক্রি করা যায় না।

  • সরকারের অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর অবৈধ।

  • অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে বিক্রির অধিকার দেওয়া হয় না।

অর্থাৎ, বরাদ্দপ্রাপ্ত হলেও সেটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ভাবে বিক্রি করা যায় না।

খাস জমি কিনতে চাইলে কী করবেন

যদি কেউ আপনাকে খাস জমি বিক্রির প্রস্তাব দেয়, তাহলে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো যাচাই করবেন—

  • সর্বশেষ খতিয়ান (CS, SA, RS, BS)।

  • জমির শ্রেণি (খাস/সরকারি লেখা আছে কি না)।

  • উপজেলা ভূমি অফিসে রেকর্ড যাচাই।

  • জেলা প্রশাসনের তথ্য।

  • অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ।

যাচাই ছাড়া খাস জমিতে টাকা বিনিয়োগ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভুল ধারণা

খাস জমি নিয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে—

❌ দীর্ঘদিন দখলে থাকলে মালিক হয়ে যাওয়া।

❌ নামজারি থাকলেই জমি বৈধ।

❌ স্থানীয় প্রভাবশালীর কাগজ মানেই নিরাপদ।

বাস্তবে এসব ধারণার কোনোটিই আইনি ভিত্তি রাখে না।

প্রশ্ন–উত্তর

প্রশ্ন: খাস জমির দলিল করা যায় কি?
উত্তর: না, খাস জমির বৈধ দলিল করা যায় না।

প্রশ্ন: খাস জমি কিনলে কী হবে?
উত্তর: যেকোনো সময় উচ্ছেদ ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

প্রশ্ন: খাস জমি কি লিজ দেওয়া হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, নির্দিষ্ট শর্তে সরকার লিজ বা বন্দোবস্ত দিতে পারে।

প্রশ্ন: খাস জমি কি পরে ব্যক্তিগত জমি হয়?
উত্তর: শুধু সরকারী সিদ্ধান্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভব।

উপসংহার

খাস জমি সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—খাস জমি বিক্রি করা আইনত সম্ভব নয়। সরকারই এর একমাত্র মালিক। দখল, ভুয়া কাগজ বা নামজারি দেখিয়ে খাস জমি বিক্রির চেষ্টা করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জমি কেনার আগে অবশ্যই জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা, ভূমি অফিসে খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আইনগত পরামর্শ নেওয়াই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-খাস জমি কি? খাস জমি চেনার উপায় (জানুন বিস্তারিত)

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now