আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথমবারের মতো সারা দেশের ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকাশ থেকে নজরদারির জন্য ১ হাজার ড্রোন ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনি সহিংসতা রোধ, নাশকতা প্রতিরোধ এবং দুর্গম ও সংবেদনশীল এলাকায় কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।
আরও পড়ুন-নির্বাচন উপলক্ষে ৪ দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও পি-টু-পি লেনদেন
কোথায় কোথায় ড্রোন নজরদারি হবে
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ড্রোন নজরদারি শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়; বরং দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও দুর্গম এলাকাগুলোকেও বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা।
-
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল।
-
সীমান্তবর্তী টেকনাফ থেকে ফেনী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা।
এই সব অঞ্চলে ভোটের দিন ও তার আশপাশের সময়ে আকাশপথে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
কীভাবে কাজ করবে এই ড্রোন ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কারিগরি সহায়তায় এই ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। তার ভাষায়, এই ড্রোনগুলো কার্যত ‘স্যাটেলাইটের মতো’ কাজ করবে। অর্থাৎ, ড্রোন থেকে ধারণ করা ভিডিও ও তথ্য রিয়েল টাইমে সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে স্থাপিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেলে পাঠানো হবে।
এর ফলে মাঠপর্যায়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কেন্দ্রে দৃশ্যমান হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির পাশাপাশি মাঠে থাকছে ২১ সংস্থা
ইসির সূত্র জানিয়েছে, শুধু ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেই নির্বাচন পরিচালিত হবে না। মাঠে সক্রিয় থাকবে মোট ২১টি আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে—
-
ডিজিএফআই।
-
এনএসআই।
-
র্যাব।
-
বিজিবি সহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী।
ড্রোনের মাধ্যমে যদি কোনো ধরনের নাশকতার প্রস্তুতি, অস্ত্র প্রদর্শন বা সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে।
‘ই-মনিটরিং’ অ্যাপে কেন্দ্রীয় সমন্বয়
এই পুরো নজরদারি কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হবে একটি বিশেষায়িত ‘ই-মনিটরিং’ অ্যাপ। ড্রোন থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য সরাসরি ইসির আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পর্যবেক্ষণ করবে। এতে করে মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজর
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাহাড় ও চরাঞ্চলে প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থক এবং ভোটারদের গতিবিধিও ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইভাবে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বা নাশকতার চেষ্টা হলে ড্রোনে শনাক্ত করেই সরাসরি অভিযানে যাবে নিরাপত্তা বাহিনী।
বিশেষ করে কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলে রোহিঙ্গা ভোটার বা বহিরাগতদের মাধ্যমে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ঠেকাতে বিশেষ স্কোয়াড কাজ করবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন,
“আমরা নির্বাচনের মাঠ পুরোপুরি স্বচ্ছ রাখতে চাই। পাহাড় কিংবা সীমান্ত—কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আমাদের ড্রোন তা সেকেন্ডের মধ্যে ইসির নজরে আনবে এবং সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপসংহার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট পর্যবেক্ষণে ১ হাজার ড্রোন ব্যবহারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করবে এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। সব মিলিয়ে, আকাশ থেকে ভোট পর্যবেক্ষণের এই পরিকল্পনা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল স্মার্ট সমাধান(BD অ্যাপ)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









