আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

বিদ্যুৎ মিটারে টাকা দেখার কোড: প্রিপেইড মিটারের সব শর্ট কোড লিস্ট (আপডেট)

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার। আগে মাস শেষে বিল আসত, এখন আগেই টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। এতে যেমন বাড়তি বিলের ঝামেলা কমেছে, তেমনি অনেক গ্রাহকের কাছে নতুন একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—মিটারে কত টাকা বাকি আছে, কত ইউনিট খরচ হয়েছে বা শেষ রিচার্জ কত ছিল, এগুলো কীভাবে জানা যাবে?

অনেকেই মনে করেন, এসব জানতে হলে বিদ্যুৎ অফিসে যেতে হয় বা কাউকে ফোন করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি একদমই সহজ। প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে কিছু নির্দিষ্ট শর্ট কোড (Short Code) ব্যবহার করলেই মিটারের স্ক্রিনে সব তথ্য দেখা যায়।

আরও পড়ুন-অনলাইনে পুরাতন বিদ্যুৎ মিটার পরিবর্তনের আবেদন করার নিয়ম(মাত্র ২৭৬ টাকা)

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার কী এবং কেন এটি জনপ্রিয়?

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার হলো এমন একটি মিটার যেখানে আগে টাকা রিচার্জ করতে হয়, তারপর সেই টাকার বিপরীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। টাকা শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশে এই মিটার জনপ্রিয় হওয়ার কারণগুলো হলো—

  • মাসিক বিলের ঝামেলা নেই।

  • যতটা ব্যবহার, ততটাই খরচ।

  • বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে।

  • আগেই জানা যায় কত টাকা বাকি আছে।

পিডিবি (BPDB), পল্লী বিদ্যুৎ (REB) ও সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে এখন ব্যাপকভাবে এই মিটার ব্যবহার হচ্ছে।

বিদ্যুৎ মিটারে টাকা দেখার কোড কেন জানা জরুরি?

অনেক সময় দেখা যায়—

  • হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়।

  • তখন বোঝা যায় মিটারে টাকা শেষ।

  • জরুরি সময়ে রিচার্জ করা সম্ভব হয় না।

এই সমস্যাগুলো এড়াতে নিয়মিত মিটারের ব্যালেন্স ও ব্যবহার চেক করা খুব জরুরি। আর সেটি সবচেয়ে সহজভাবে করা যায় শর্ট কোড ব্যবহার করে

বিদ্যুৎ মিটারে টাকা দেখার কোড কোনটি?

👉 বিদ্যুৎ মিটারে টাকা দেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোড হলো:

✅ ৮০১

এই কোডটি ব্যবহার করলে আপনি জানতে পারবেন—

  • মিটারে বর্তমানে কত টাকা অবশিষ্ট আছে।

  • আনুমানিক আর কতদিন বিদ্যুৎ চলতে পারে।

ব্যবহার করার নিয়ম
  • মিটারের কী-প্যাডে 801 লিখুন।
  • Enter / OK বাটন চাপুন।
  • স্ক্রিনে টাকার পরিমাণ দেখাবে।

👉 এটি প্রিপেইড মিটারের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও গুরুত্বপূর্ণ কোড।

প্রিপেইড মিটারের শর্ট কোড লিস্ট

নিচে বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ শর্ট কোডগুলো টেবিল আকারে দেওয়া হলো—

শর্ট কোড কী তথ্য দেখাবে
০০ এমার্জেন্সি ব্যালেন্স গ্রহণ
৮০০ এ যাবৎ মোট ব্যবহৃত ইউনিট
৮০১ বর্তমান অবশিষ্ট ব্যালেন্স (টাকা)
৮০২ বর্তমান তারিখ
৮০৩ বর্তমান সময়
৮০৬ মিটার বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ
৮০৮ বর্তমানে চলমান লোড (কিলোওয়াট)
৮১০ এমার্জেন্সি ব্যালেন্সের পরিমাণ
৮১৪ শেষ মাসে ব্যবহৃত ইউনিট
৮১৫ সর্বশেষ রিচার্জের তারিখ
৮১৬ সর্বশেষ রিচার্জের সময়
৮১৭ সর্বশেষ রিচার্জের টাকা
৮৩০ সর্বশেষ রিচার্জ টোকেন
৮৩৬ অনুমোদিত লোড (কিলোওয়াট)
৮৩৮ বর্তমানে চলমান রেট
৮৩৯ টোকেন সিরিয়াল নম্বর
৯২২ চলতি মাসে ব্যবহৃত টাকা

শর্ট কোড কীভাবে ব্যবহার করবেন?

প্রিপেইড মিটারের কোড ব্যবহার করা খুব সহজ—

  • মিটারের সামনে যান।

  • নির্দিষ্ট কোড লিখুন।

  • Enter বা OK চাপুন।

  • ডিসপ্লেতে তথ্য দেখুন।

👉 কোড ভুল লিখলে কোনো সমস্যা হয় না, আবার লিখে চেষ্টা করতে পারেন।

এমার্জেন্সি ব্যালেন্স কী?

কিছু এলাকায় প্রিপেইড মিটারে এমার্জেন্সি ব্যালেন্স সুবিধা থাকে।

  • কোড: ০০

  • টাকা শেষ হলেও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ চালু করা যায়।

  • পরের রিচার্জ থেকে এই টাকা কেটে নেওয়া হয়।

⚠️ মনে রাখবেন, সব এলাকায় এই সুবিধা নাও থাকতে পারে।

কোড কাজ না করলে কী করবেন?

কিছু ক্ষেত্রে শর্ট কোড কাজ না করতে পারে। সাধারণ কারণগুলো হলো—

  • মিটারের মডেল ভিন্ন।

  • কী-প্যাড নষ্ট।

  • বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা।

করণীয়:
  • মিটার নম্বর লিখে রাখুন।

  • সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করুন।

  • প্রিপেইড মিটার কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করুন।

নিয়মিত মিটার চেক করার সুবিধা

নিয়মিত শর্ট কোড ব্যবহার করলে—

  • হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার ঝামেলা কমে।

  • মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

  • অপ্রয়োজনীয় রিচার্জ এড়ানো যায়।

  • লোড সমস্যা আগেই ধরা পড়ে।

প্রশ্ন–উত্তর

বিদ্যুৎ মিটারে টাকা দেখার কোড কোনটি?

👉 801

কত ইউনিট খরচ হয়েছে দেখার কোড?

👉 800

শেষ রিচার্জ কত টাকা ছিল?

👉 817

এমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার কোড কী?

👉 00

সব প্রিপেইড মিটারে কি এই কোড কাজ করে?

👉 বেশিরভাগ মিটারে কাজ করে, তবে মডেলভেদে ভিন্ন হতে পারে।

কোড ভুল দিলে কি মিটার নষ্ট হবে?

👉 না, কোনো ক্ষতি হবে না।

উপসংহার

বিদ্যুৎ মিটারে টাকা দেখার কোড জানা থাকলে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার অনেক সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়ে যায়। মাত্র কয়েকটি শর্ট কোড মনে রাখলেই আপনি জানতে পারবেন—মিটারে কত টাকা আছে, কত ইউনিট খরচ হয়েছে এবং শেষ রিচার্জের সব তথ্য।

বাংলাদেশে যেহেতু প্রিপেইড মিটার দিন দিন বাড়ছে, তাই এই তথ্যগুলো জানা প্রতিটি গ্রাহকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নিয়মিত 801 কোড ব্যবহার করে ব্যালেন্স চেক করলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ভয় অনেকটাই কমে যাবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।