আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে? ফি তালিকা ও নিয়ম (আপডেট)

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন সনদ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, যেটি ছাড়া আজকের দিনে প্রায় কোনো সরকারি বা আধা-সরকারি কাজই করা যায় না। স্কুলে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, পাসপোর্ট আবেদন, বিয়ে নিবন্ধন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে চাকরির আবেদনেও জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে অনেক মানুষের জন্ম নিবন্ধনে নাম, জন্ম তারিখ কিংবা পিতা-মাতার নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ভুল থেকে যায়।

এই ভুলের কারণে পরবর্তীতে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তখন সবার প্রথম যে প্রশ্নটি মাথায় আসে—
👉 জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
👉 কোথায় গেলে সংশোধন হবে?
👉 অনলাইনে করলে কি কম খরচ পড়বে?

এই পোস্টে বাংলাদেশি বাস্তবতার আলোকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের খরচ, নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও করণীয় বিষয়গুলো সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন-অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কেন প্রয়োজন হয়?

জন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকে। অনেক সময় জন্মের সময় সঠিক তথ্য না জানার কারণে বা পরে কাগজ তৈরি করতে গিয়ে বানান ভুল হয়ে যায়।

সাধারণত যেসব কারণে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের প্রয়োজন হয়—

  • নামের বানান ভুল।

  • জন্ম তারিখ ভুল।

  • পিতা বা মাতার নামের ভুল।

  • ঠিকানা বা জন্মস্থানের ভুল।

  • লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল।

এই ভুলগুলো ছোট মনে হলেও ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

এখন আসল প্রশ্নের উত্তর। জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ফি একেবারে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না, কারণ এটি কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—

  • কোন তথ্য সংশোধন করা হচ্ছে।

  • বয়স (১৮ বছরের নিচে না উপরে)।

  • প্রথমবার নাকি দ্বিতীয়বার সংশোধন।

  • ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনভেদে নীতিমালা

বাংলাদেশে প্রচলিত জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ফি তালিকা

সাধারণভাবে যে ফি নেওয়া হয় তা নিচে তুলে ধরা হলো—

  • নামের ছোট বানান সংশোধন: ০ থেকে ৫০ টাকা।

  • পিতা বা মাতার নাম সংশোধন: ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

  • জন্ম তারিখ সংশোধন: ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

  • একাধিক তথ্য একসাথে সংশোধন: ১০০ থেকে ২০০ টাকা।

  • দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার সংশোধন: ২০০ টাকা বা তার বেশি।

👉 গুরুত্বপূর্ণ কথা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই ফিগুলো খুবই নামমাত্র। এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে সেটি অনিয়ম।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করলে কি টাকা লাগে?

বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন অনলাইনে করা যায়, তবে অনলাইন আবেদন নিজে সাধারণত ফ্রি।

কিন্তু মনে রাখতে হবে—

  • অনলাইনে আবেদন = ফ্রি।

  • স্থানীয় অফিসে যাচাই ও অনুমোদনের সময় = নির্ধারিত ফি দিতে হয়।

অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে শেষ হলেও অফিসে গিয়ে ফি পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

বয়সভেদে সংশোধনের খরচ কি আলাদা?

হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে।

  • ১৮ বছরের নিচে: সাধারণত কম ফি বা নামমাত্র ফি।

  • ১৮ বছরের উপরে: জন্ম তারিখ সংশোধনে বেশি যাচাই ও প্রমাণ লাগে, তাই সময় ও ঝামেলা একটু বেশি হয়।

বিশেষ করে বড় বয়সে জন্ম তারিখ সংশোধন করতে চাইলে শিক্ষা সনদ বা অন্য শক্ত প্রমাণপত্র লাগতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণত নিচের কাগজগুলো লাগে—

সাধারণ কাগজপত্র

  • জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।

  • অনলাইন সংশোধন আবেদন ফরম।

  • সংশোধনের পক্ষে প্রমাণপত্র।

প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যবহার হয়

  • স্কুল সার্টিফিকেট।

  • হাসপাতালের জন্ম সনদ।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে)।

  • পাসপোর্ট (যদি থাকে)।

  • পিতা-মাতার NID বা জন্ম নিবন্ধন।

প্রমাণ যত শক্ত হবে, সংশোধন তত সহজ হবে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ধাপে ধাপে নিয়ম

ধাপ ১: অনলাইনে আবেদন

প্রথমে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। সেখানে কোন তথ্য সংশোধন করবেন তা নির্বাচন করতে হবে।

ধাপ ২: ডকুমেন্ট আপলোড

সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।

ধাপ ৩: স্থানীয় অফিসে যাচাই

ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন অফিসে আবেদন যাচাই করা হয়।

ধাপ ৪: ফি পরিশোধ

নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিতে হয়।

ধাপ ৫: সংশোধন অনুমোদন

অনুমোদনের পর অনলাইনে সংশোধিত জন্ম নিবন্ধন পাওয়া যায়।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে কত সময় লাগে?

সাধারণত—

  • সহজ সংশোধন: ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস।

  • জটিল সংশোধন: ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবস।

সময় অফিস ও আবেদনের ধরন অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের সময় যেসব ভুল এড়াবেন

বাংলাদেশে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করেন—

  • দালালের কাছে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া।

  • প্রমাণপত্র ছাড়া আবেদন করা।

  • বারবার অপ্রয়োজনীয় সংশোধন করা।

  • ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করা।

এই ভুলগুলো করলে আবেদন বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে।

প্রশ্ন ও উত্তর

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কি সবসময় টাকা লাগে?

না, ছোট বানান সংশোধনে অনেক সময় ফি খুব কম বা ফ্রি হতে পারে।

জন্ম তারিখ সংশোধনে কেন বেশি ঝামেলা?

কারণ এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে।

একাধিকবার সংশোধন করা যাবে?

হ্যাঁ, তবে প্রতিবার ফি ও যাচাই বাড়ে।

অনলাইনে আবেদন করলেই কি কাজ শেষ?

না, স্থানীয় অফিসে যাচাই ও ফি দেওয়া লাগে।

সংশোধনের পর কি নতুন সনদ পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, সংশোধিত তথ্যসহ নতুন জন্ম নিবন্ধন কপি পাওয়া যায়।

উপসংহার

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে—এই প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে বললে, খুব বেশি টাকা লাগে না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অধিকাংশ সংশোধন ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে সঠিক কাগজপত্র না থাকলে বা নিয়ম না জানলে ভোগান্তি বাড়ে।

সঠিক উপায়ে, অফিসিয়াল নিয়ম মেনে আবেদন করলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন একটি সহজ এবং ঝামেলাহীন কাজ। ভুল তথ্য রেখে ভবিষ্যতে বড় সমস্যায় পড়ার চেয়ে এখনই সংশোধন করানোই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম

👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।