সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে—
“মোবাইলের লোকেশন (GPS) বন্ধ করে দিলে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনাকে খুঁজে পাবে না।”
অনেকে এই কথায় বিশ্বাস করে আতঙ্কিত হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ এটাকে “ট্রিক” হিসেবে দেখছেন। কিন্তু বাস্তবতা কী?
চলুন, সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টি বুঝে নিই।
আরও পড়ুন- আপনার লোকেশন ট্র্যাক হচ্ছে কিনা জানবেন যেভাবে(আপডেট)
লোকেশন ট্র্যাকিং বলতে আসলে কী বোঝায়?
লোকেশন ট্র্যাকিং সাধারণত ৩ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়—
১️⃣ GPS (Global Positioning System)
-
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফোনের অবস্থান নির্ণয়।
-
গুগল ম্যাপ, ফেসবুক চেক-ইন, রাইড শেয়ারিং অ্যাপে ব্যবহৃত।
-
আপনি চাইলে সেটিংস থেকে বন্ধ করা যায়।
২️⃣ মোবাইল নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং (Cell Tower)
-
মোবাইল অপারেটরের টাওয়ারের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত।
-
কল করা, এসএমএস পাঠানো বা ডাটা অন থাকলেই কাজ করে।
-
ইউজার চাইলেও এটি বন্ধ করা যায় না।
৩️⃣ ইন্টারনেট ও অ্যাপ-ভিত্তিক ডাটা
-
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, গুগল অ্যাকাউন্ট লগইন।
-
আইপি অ্যাড্রেস ও অ্যাক্টিভিটি লগ।
লোকেশন বন্ধ করলে কী বন্ধ হয়?
আপনি যখন ফোনে Location / GPS Off করেন—
✔ গুগল ম্যাপ রিয়েল-টাইম লোকেশন দেখাবে না।
✔ ফেসবুক বা অ্যাপ আপনার লাইভ লোকেশন পাবে না।
❌ কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং বন্ধ হয় না।
❌ কল রেকর্ড, টাওয়ার লোকেশন বন্ধ হয় না।
পুলিশ কীভাবে লোকেশন ট্র্যাক করে?
এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুলিশ সাধারণত ব্যবহার করে—
-
মোবাইল নম্বরের Call Detail Record (CDR)।
-
কোন সেল টাওয়ারে শেষ সংযোগ ছিল।
-
সময় অনুযায়ী চলাচলের প্যাটার্ন।
-
প্রয়োজনে আইএমইআই নম্বর ট্র্যাকিং।
📌 এই সবকিছুই হয় মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে, GPS দিয়ে না।
👉 তাই GPS বন্ধ থাকলেও—
পুলিশ চাইলে আপনাকে ট্র্যাক করতে পারে।
ফোন বন্ধ করলে কি ট্র্যাক করা যায় না?
-
ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে লাইভ ট্র্যাক সম্ভব নয়।
-
কিন্তু—
-
শেষ লোকেশন।
-
বন্ধ হওয়ার আগের টাওয়ার ডাটা।
-
পূর্বের চলাচল বিশ্লেষণ এসবের মাধ্যমে ধারণা পাওয়া যায়।
-
📌 আবার ফোন চালু করলেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন ডাটা পাওয়া শুরু হয়।
আইনগত দিক থেকে কী বলা আছে?
বাংলাদেশে—
-
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আদালতের অনুমতি নিয়ে।
-
মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে।
-
প্রয়োজনীয় ট্র্যাকিং ডাটা সংগ্রহ করতে পারে।
👉 এটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত প্রক্রিয়া।
ভাইরাল দাবিটি কেন ভুল ও বিপজ্জনক?
❌ মানুষকে ভুল নিরাপত্তার ধারণা দেয়।
❌ অপরাধমূলক চিন্তা উসকে দিতে পারে।
❌ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
📢 লোকেশন বন্ধ করলেই আপনি “অদৃশ্য” হয়ে যান—এটা সম্পূর্ণ গুজব।
সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য পরামর্শ
✔ অপ্রয়োজনে লোকেশন অন রাখবেন না (প্রাইভেসির জন্য)।
✔ গুজব বা ভাইরাল “ট্রিক” বিশ্বাস করবেন না।
✔ আইন ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
সংক্ষেপে সত্য কথা
🔴 লোকেশন (GPS) বন্ধ করলে পুলিশ খুঁজে পাবে না—এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল।
🟢 পুলিশ GPS ছাড়াও একাধিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম।
উপসংহার
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সব তথ্য সত্য হয় না। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও তত আধুনিক হচ্ছে। তাই বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জানাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
আরও পড়ুন-Apple iPhone 17 Pro সর্বশেষ প্রতিবেদনে নতুন মোড়
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










