ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বিচার ব্যবস্থাও এখন অনেকটাই আধুনিক ও অনলাইনভিত্তিক। আগে মামলা করতে হলে কোর্টে গিয়ে বারবার হাজিরা, কাগজপত্র জমা, দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব ছিল নিত্যদিনের ভোগান্তি। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। অনলাইনে মামলা করার সুযোগ চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই অনেক কাজ সম্পন্ন করতে পারছে।
এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো অনলাইনে মামলা করার নিয়ম, কোন ধরনের মামলা অনলাইনে করা যায়, কী কী কাগজ লাগে, ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া, সুবিধা, সীমাবদ্ধতা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
আরও –অনলাইনে মামলা দেখার উপায় ২০২৬
অনলাইনে মামলা করা বলতে কী বোঝায়?
অনলাইনে মামলা করা বলতে বোঝায়—
মামলা দায়েরের প্রাথমিক প্রক্রিয়া যেমন আবেদন, তথ্য জমা, ডকুমেন্ট আপলোড, ফি প্রদান ইত্যাদি কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি কোর্ট সিস্টেমে সম্পন্ন করা।
⚠️ মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে এখনো সম্পূর্ণ ১০০% মামলা অনলাইনে নিষ্পত্তি হয় না, তবে মামলা দায়ের ও ব্যবস্থাপনার অনেক ধাপ ডিজিটাল হয়েছে।
অনলাইনে মামলা করার সুবিধা
অনলাইনে মামলা করার ফলে সাধারণ মানুষ যে সুবিধাগুলো পাচ্ছে—
✅ কোর্টে বারবার যেতে হয় না।
✅ সময় ও খরচ কমে।
✅ দালাল ও হয়রানি কমে।
✅ আবেদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়।
✅ ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ থাকে।
✅ মামলা ট্র্যাক করা সহজ হয়।
কোন কোন মামলা অনলাইনে করা যায়?
২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে নিচের মামলাগুলো অনলাইনে করা বা প্রাথমিক আবেদন সম্ভব—
-
দেওয়ানি মামলা (Civil Case)।
-
পারিবারিক মামলা (Family Case)।
-
চেক ডিজঅনার মামলা।
-
ভোক্তা অধিকার অভিযোগ।
-
সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ।
-
কিছু ফৌজদারি মামলার প্রাথমিক আবেদন (GD/অভিযোগ)।
⚠️ গুরুতর ফৌজদারি মামলা এখনো সরাসরি থানায় বা আদালতে দায়ের করতে হয়।
অনলাইনে মামলা করার জন্য কী কী লাগবে?
অনলাইনে মামলা করতে সাধারণত নিচের তথ্য ও কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—
১. ব্যক্তিগত তথ্য
-
আবেদনকারীর নাম
-
পিতা/মাতার নাম
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
-
মোবাইল নম্বর
-
বর্তমান ঠিকানা
২. প্রতিপক্ষের তথ্য
-
বিবাদীর নাম ও ঠিকানা
-
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে NID বা পরিচিত তথ্য
৩. মামলার বিবরণ
-
মামলার ধরণ
-
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
-
তারিখ ও স্থান
৪. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
-
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
-
সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র (চুক্তি, দলিল, চেক, নোটিশ ইত্যাদি)
-
প্রমাণাদি (স্ক্যান কপি)
অনলাইনে মামলা করার ধাপে ধাপে নিয়ম
এখন চলুন সহজভাবে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া জেনে নিই।
ধাপ ১: নির্ধারিত সরকারি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ
প্রথমে আপনাকে বিচার বিভাগের নির্ধারিত অনলাইন সিস্টেম বা ই-কোর্ট প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হবে।
সেখানে সাধারণত থাকে—
-
নতুন মামলা দায়ের অপশন
-
অনলাইন আবেদন ফর্ম
-
ইউজার রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম
ধাপ ২: ইউজার রেজিস্ট্রেশন / লগইন
অনলাইনে মামলা করতে হলে আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের সময় যা দিতে হয়—
-
নাম
-
মোবাইল নম্বর
-
এনআইডি নম্বর
-
পাসওয়ার্ড
👉 মোবাইলে OTP আসতে পারে যাচাইয়ের জন্য।
ধাপ ৩: মামলা দায়ের ফর্ম পূরণ
লগইন করার পর “নতুন মামলা দায়ের” অপশনে ক্লিক করুন।
এখানে দিতে হবে—
-
মামলার ধরন নির্বাচন।
-
আদালতের নাম নির্বাচন।
-
জেলা ও থানা নির্বাচন।
-
মামলার বিস্তারিত বিবরণ।
⚠️ তথ্য সঠিক ও স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
ধাপ ৪: ডকুমেন্ট আপলোড
এই ধাপে আপনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
যেমন—
-
এনআইডি কপি
-
চুক্তিপত্র / চেক / দলিল
-
নোটিশ কপি
-
অন্যান্য প্রমাণ
📌 ফাইল সাধারণত PDF বা JPG ফরম্যাটে দিতে হয়।
ধাপ ৫: কোর্ট ফি অনলাইনে প্রদান
অনেক মামলার ক্ষেত্রে অনলাইনে কোর্ট ফি দিতে হয়।
ফি পরিশোধ করা যায়—
-
মোবাইল ব্যাংকিং
-
অনলাইন ব্যাংকিং
-
সরকারি পেমেন্ট গেটওয়ে
ফি পরিশোধের পর রসিদ সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৬: আবেদন সাবমিট ও ট্র্যাকিং নম্বর
সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট করলে—
-
একটি আবেদন নম্বর / ট্র্যাকিং আইডি পাবেন।
-
এসএমএস বা ইমেইলে কনফার্মেশন আসতে পারে।
এই নম্বর দিয়ে ভবিষ্যতে মামলার অবস্থা চেক করা যাবে।
অনলাইনে মামলা করার পর কী হয়?
মামলা সাবমিট করার পর—
-
আদালত আবেদন যাচাই করে।
-
প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজ চাইতে পারে।
-
মামলা গ্রহণ হলে কেস নম্বর প্রদান করা হয়।
-
পরবর্তী শুনানির তারিখ জানানো হয়।
👉 অনেক ক্ষেত্রে প্রথম হাজিরা সরাসরি কোর্টে দিতে হয়।
অনলাইনে মামলা করার সীমাবদ্ধতা
যদিও সুবিধা অনেক, তবুও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে—
-
সব মামলা অনলাইনে করা যায় না।
-
পুরনো কোর্টে এখনো পুরো ডিজিটাল ব্যবস্থা নেই।
-
ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত সমস্যা হতে পারে।
-
আইনগত ভাষা না জানলে ভুল হতে পারে।
👉 জটিল মামলায় আইনজীবীর সাহায্য নেওয়াই উত্তম।
অনলাইনে মামলা করার সময় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
✅ সব তথ্য সত্য ও নির্ভুল দিন।
✅ ভুয়া বা তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন।
✅ কাগজপত্র পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করুন।
✅ ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করুন।
✅ প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
২০২৬ সালে অনলাইনে মামলা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশে বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তর দ্রুত এগোচ্ছে। সামনে যেসব সুবিধা যুক্ত হতে পারে—
-
সম্পূর্ণ অনলাইন মামলা দায়ের।
-
ভার্চুয়াল শুনানি।
-
ডিজিটাল সমন ও নোটিশ।
-
মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক কেস ম্যানেজমেন্ট।
-
কাগজবিহীন আদালত ব্যবস্থা।
এতে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া আরও সহজ হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: অনলাইনে মামলা করা কি বৈধ?
উত্তর: হ্যাঁ, সরকারি ই-কোর্ট সিস্টেমের মাধ্যমে করা আবেদন বৈধ।
প্রশ্ন: মামলা করার পর কি কোর্টে যেতে হবে?
উত্তর: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হ্যাঁ, অন্তত একবার হাজিরা দিতে হয়।
প্রশ্ন: অনলাইনে মামলা করতে আইনজীবী লাগবে?
উত্তর: সাধারণ মামলায় না লাগলেও জটিল মামলায় লাগতে পারে।
প্রশ্ন: অনলাইনে মামলা করতে কত খরচ?
উত্তর: মামলার ধরন অনুযায়ী কোর্ট ফি নির্ধারিত হয়।
উপসংহার
অনলাইনে মামলা করার নিয়ম চালু হওয়ায় বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এখন আর শুধুমাত্র কোর্টে গিয়ে মামলা করাই একমাত্র পথ নয়। সঠিক তথ্য, কাগজপত্র ও সচেতনতা থাকলে ঘরে বসেই আপনি মামলার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করতে পারেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও সহজ করেছে।
আরও পড়ুন-পিজি হাসপাতাল অনলাইন টিকেট বুকিং
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










