বিকাশ লোনে সিটি ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকা, কারা পাচ্ছেন এই ডিজিটাল ঋণ?

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
বিকাশ লোনে সিটি ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকা, কারা পাচ্ছেন এই ডিজিটাল ঋণ?

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোনের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন বিতরণে নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের ডিজিটাল ন্যানো লোনের মোট বিতরণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ বিকাশ অ্যাপ ব্যবহারকারী ৩ কোটি ১৯ লাখের বেশি লোন অ্যাকাউন্টে ঋণ নিয়েছেন। ফলে অল্প অঙ্কের জরুরি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল এই সেবা দেশের গ্রাহকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তবে এই ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণকে কৃষি ঋণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সিটি ব্যাংক ও বিকাশের ডিজিটাল ন্যানো লোন মূলত যোগ্য বিকাশ গ্রাহকদের জন্য দেওয়া একটি জামানতবিহীন ডিজিটাল ঋণসেবা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকেরা ছোট ব্যবসার খরচ, পারিবারিক প্রয়োজন, চিকিৎসা ব্যয় ও শিক্ষা ব্যয়সহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এই ঋণ ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ এটি কৃষকদের জন্য আলাদা কোনো কৃষি ঋণ কর্মসূচি নয়।

এই ডিজিটাল ঋণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ঋণ নিতে গ্রাহককে সাধারণ ব্যাংক ঋণের মতো শাখায় গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে বা জামানত দিতে হয় না। বিকাশের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য গ্রাহক বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেমন সিটি ব্যাংক, থেকে তাৎক্ষণিক ঋণ নিতে পারেন। বর্তমানে নির্দিষ্ট যোগ্য গ্রাহকের জন্য লোনের পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রত্যেক গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পাবেন এমন নয়; ব্যক্তিভেদে অনুমোদিত লোন সীমা আলাদা হতে পারে।

কারা এই লোন পাবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, লোন সুবিধা সীমিতসংখ্যক যোগ্য গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত থাকে। গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টের অবস্থা এবং ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোনের সীমা নির্ধারণ করে। নিয়মিতভাবে বিকাশের বিভিন্ন সেবা যেমন পেমেন্ট, অ্যাড মানি, সেভিংসসহ অন্যান্য সেবা ব্যবহার করা এবং অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ব্যালেন্স রাখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে লোনের জন্য যোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত লোন অনুমোদন ও সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী হয়।

সিটি ব্যাংক ও বিকাশের এই ডিজিটাল ঋণসেবার ব্যবহার কতটা বেড়েছে, তার একটি ধারণা পাওয়া যায় সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে। সিটি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এই ডিজিটাল ন্যানো লোন নিচ্ছেন। প্রতিটি ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং মাসিক ঋণ বিতরণের পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, এই সেবার মূল লক্ষ্য বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিবর্তে তুলনামূলক ছোট অঙ্কের দ্রুত ঋণ সুবিধা দেওয়া।

ডিজিটাল ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সিটি ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ১০ হাজার কোটি টাকা বিতরণের মধ্যে ৫৩ কোটি টাকা খেলাপি বা অবলোপন হয়েছে, যা মোট বিতরণের প্রায় ০ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, বিতরণ করা অর্থের প্রায় ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। ডিজিটাল ঋণের ক্ষেত্রে এই পরিশোধের হারকে সিটি ব্যাংক একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছে।

লোন নেওয়ার আগে সুদ, প্রসেসিং ফি ও পরিশোধের শর্ত ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। বিকাশের অফিসিয়াল FAQ অনুযায়ী, লোনের সুদের হার গ্রাহক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ওপর নির্ভর করতে পারে। লোন নেওয়ার সময় বিকাশ অ্যাপেই প্রযোজ্য সুদের হার, সুদের পরিমাণ এবং পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য দেখানো হয়। সাধারণ লোন সেবায় ০ দশমিক ৫৭৫ শতাংশ প্রসেসিং ফি প্রযোজ্য বলে বিকাশ জানিয়েছে। তাই লোন নেওয়ার আগে অ্যাপে দেখানো মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করা উচিত।

লোনের কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে কিস্তির অর্থ বিকাশ অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হতে পারে। সময়মতো পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিলম্বজনিত সুদ বা জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে। একই সঙ্গে সময়মতো ঋণ পরিশোধের ইতিহাস ভবিষ্যতে লোনের যোগ্যতা ও সীমা নির্ধারণে বিবেচনায় আসতে পারে।

এখানে আরও একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—বিকাশ অ্যাপে লোন অপশন দেখা গেলেই যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাওয়া যাবে, এমন নয়। অ্যাপে প্রদর্শিত লোন সীমা এবং গ্রাহকের জন্য চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত সীমা ভিন্ন হতে পারে। বিকাশের FAQ অনুযায়ী, গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের অবস্থা ও ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রযোজ্য লোন সীমা নির্ধারণ করে। তাই অন্য কোনো গ্রাহক কত টাকা লোন পেয়েছেন, সেটির সঙ্গে নিজের লোন সীমা তুলনা করা ঠিক নয়।

সব মিলিয়ে, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন দেশের ডিজিটাল ঋণসেবায় বড় একটি মাইলফলক তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই সেবার মোট ঋণ বিতরণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গ্রাহক এই সুবিধা নিচ্ছেন। তবে ১০ হাজার কোটি টাকাকে কৃষি ঋণ হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয়। এটি মূলত যোগ্য বিকাশ গ্রাহকদের জন্য সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল, জামানতবিহীন ঋণসেবা। লোন নেওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা, অনুমোদিত সীমা, সুদের হার, প্রসেসিং ফি ও পরিশোধের শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page