দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষা অবকাঠামো বিস্তারের অংশ হিসেবে দেশের ৪৯টি জেলায় নতুন করে জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে যেসব জেলায় ঐতিহ্যবাহী জিলা স্কুল নেই, সেসব এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময়েও অনেক জেলায় জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যেসব জেলায় এখনো জিলা স্কুল নেই সেখানে পর্যায়ক্রমে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে কয়েক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
আরও পড়ুন-১০ মার্চ শুরু ফ্যামিলি কার্ড মাসে মিলবে ২৫০০ টাকা
কেন নতুন জিলা স্কুল
বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে জিলা স্কুলগুলোকে মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত জিলা স্কুলের সংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে বেশিরভাগই ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে কুষ্টিয়া ও বরগুনায় আরও দুটি জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা
দেশে বর্তমানে সরকারি ও জাতীয়করণকৃত মিলিয়ে মোট ৬৯১টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে ঐতিহ্যবাহী জিলা স্কুলের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক জেলায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান নেই।
নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই জেলাগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রশস্ত খেলার মাঠ এবং উন্নত শিক্ষা সুবিধাসহ নতুন জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ঐতিহাসিক জিলা স্কুলগুলোর পরিচয়
বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী জিলা স্কুল রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
-
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (১৮২৮)
-
বরিশাল জিলা স্কুল (১৮২৯)
-
রংপুর জিলা স্কুল (১৮৩২)
-
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল (১৮৩৫)
-
চট্টগ্রাম জিলা স্কুল (১৮৩৬)
-
কুমিল্লা জিলা স্কুল (১৮৩৭)
-
যশোর জিলা স্কুল (১৮৩৮)
-
ফরিদপুর জিলা স্কুল (১৮৪০)
-
নোয়াখালী জিলা স্কুল (১৮৫০)
-
ময়মনসিংহ জিলা স্কুল (১৮৫৩)
-
পাবনা জিলা স্কুল (১৮৫৩)
-
বগুড়া জিলা স্কুল (১৮৫৩)
-
দিনাজপুর জিলা স্কুল (১৮৫৪)
-
খুলনা জিলা স্কুল (১৮৮৫)
-
সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় (১৮৮৬)
এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্যের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। অধিকাংশ স্কুলেই রয়েছে লাল ইটের পুরোনো ভবন, বড় খেলার মাঠ এবং ঐতিহাসিক প্রশাসনিক ভবন।
শিক্ষার প্রসারে নতুন পরিকল্পনা
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা অবকাঠামো তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










