আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহের নিয়ম ২০২৬ (আপডেট)

বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে জমি সংক্রান্ত সেবাও এখন হাতের মুঠোয়। আগে যেখানে জমির পর্চা তুলতে ইউনিয়ন অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস বা জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুমে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো, এখন সেখানে ঘরে বসেই অনলাইনে মাত্র কয়েক মিনিটে জমির খতিয়ান বা পর্চা সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (ALMS Mutation) চালুর মাধ্যমে এই সেবা এখন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হয়েছে।

আরও পড়ুন-ভূমি অ্যাপ’ চালু: নামজারি, ভূমি কর ও খতিয়ান এখন এক ক্লিকে!

জমির পর্চা বা খতিয়ান কী?

খতিয়ান বা পর্চা হলো মৌজা ভিত্তিক সরকারি দলিল যেখানে জমির মালিকানা সংক্রান্ত সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকে। যেমন —

  • জমির মালিকের নাম।

  • পিতার নাম।

  • দাগ নম্বর।

  • জমির পরিমাণ।

  • জমির শ্রেণি।

  • খাজনার হার।

  • মৌজা ও জরিপ তথ্য।

জমির মালিকানা প্রমাণে পর্চাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য দলিল।

অনলাইনে কোথা থেকে পর্চা সংগ্রহ করবেন?

আপনি দুইভাবে অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহ করতে পারবেন —

  1. ওয়েবসাইট:
    👉 https://dlrms.land.gov.bd

  2. ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ।

অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহের ধাপে ধাপে নিয়ম

ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

ব্রাউজারে গিয়ে লিখুন:
👉 dlrms.land.gov.bd

ধাপ ২: খতিয়ান অনুসন্ধান অপশনে যান

ধাপ ৩: নিচের তথ্য নির্বাচন করুন —

  • বিভাগ

  • জেলা

  • উপজেলা

  • মৌজা

  • খতিয়ানের ধরন (CS, SA, RS, BS, BRS, BDS)

ধাপ ৪: যেকোনো একটি দিয়ে সার্চ করুন —

  • খতিয়ান নম্বর
    অথবা

  • মালিকের নাম
    অথবা

  • দাগ নম্বর

ধাপ ৫: পরিচয় যাচাই করুন

এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।

ধাপ ৬: ফি পরিশোধ করুন

অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিং / কার্ডের মাধ্যমে ফি প্রদান করুন।

ধাপ ৭: পিডিএফ ডাউনলোড করুন

পেমেন্ট সম্পন্ন হলে সাথে সাথেই পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারবেন।

জমির পর্চা সংগ্রহের ফি

সেবা ফি
অনলাইন তাৎক্ষণিক কপি ১০০ টাকা
সার্টিফাইড কপি ১০০ টাকা
ডাকযোগে নিতে চাইলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা

সার্টিফাইড কপি সাধারণত ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পাওয়া যায়।

কোন কোন জরিপের পর্চা পাওয়া যায়?

বাংলাদেশে বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী খতিয়ান পাওয়া যায় —

  • CS (Cadastral Survey)

  • SA (State Acquisition)

  • RS (Revisional Survey)

  • BS

  • BRS

  • BDS (Bangladesh Digital Survey – সর্বশেষ)

আপনার জমির পর্চা কোন জরিপে হয়েছে তা জানা থাকলে সার্চ আরও সহজ হয়।

অনলাইনে আরও যেসব সুবিধা পাওয়া যায়

  • জমির তথ্য যাচাই।

  • মৌজা ম্যাপ দেখা।

  • সংশোধন আবেদন।

  • মালিকানা যাচাই।

  • রেকর্ড আপডেট স্ট্যাটাস।

অনলাইনে না পারলে কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন?

যদি অনলাইনে পর্চা না পাওয়া যায়, তাহলে আপনি সরাসরি —

  • উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস।

  • জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুম।

থেকে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • অনলাইন কপি তথ্য যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করুন।

  • জমি ক্রয়ের সময় অবশ্যই সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করুন।

  • মিলিয়ে নিন দাগ, মালিক, জমির পরিমাণ।

  • প্রয়োজনে আইনজীবী বা ভূমি অফিসে যাচাই করান।

প্রশ্নোত্তর

অনলাইন পর্চা কি বৈধ?

হ্যাঁ, তথ্য যাচাইয়ের জন্য বৈধ। তবে আদালতে ব্যবহারের জন্য সার্টিফাইড কপি প্রয়োজন।

কত সময় লাগে?

তাৎক্ষণিক কপি সাথে সাথে পাওয়া যায়। সার্টিফাইড কপি ৫–৭ দিন।

মোবাইল দিয়ে করা যাবে?

হ্যাঁ, স্মার্টফোন দিয়েই করা যাবে।

উপসংহার

বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার ফলে এখন জমির পর্চা সংগ্রহ আর কোনো ঝামেলার বিষয় নয়। ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে অনলাইনে পর্চা ডাউনলোড করা সম্ভব, যা সময়, টাকা ও ভোগান্তি সবই কমিয়ে দিয়েছে।

আপনি যদি জমি কেনা, বিক্রি বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা যাচাই করতে চান — তাহলে অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহই আপনার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়া উচিত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-জমির মামলা থেকে বাঁচতে আগে থেকেই যেসব কাজ করবেন

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।