ঢাকা জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে নতুন সেবামুখী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রি এবং দলিল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জনগণ যে ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ হয়েছে। নতুন উদ্যোগের ফলে এখন থেকে ক্রেতা বা দলিল গ্রহীতারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাদের মূল ও নকল কপি হাতে পাবেন।
আরও পড়ুন-ভূমি অ্যাপ’ চালু: নামজারি, ভূমি কর ও খতিয়ান এখন এক ক্লিকে!
দলিল প্রাপ্তির তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে
ঢাকা জেলার সাবরেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম জানান, এখন থেকে জমি রেজিস্ট্রির পর দলিল কবে প্রস্তুত হবে, তা জানতে আর অফিসে বারবার আসার প্রয়োজন নেই। সেবা গ্রহীতারা নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগের মাধ্যমে সহজেই দলিল সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জানতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপ চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে সেবা গ্রহীতাকে একটি সিলযুক্ত রসিদ প্রদান করা হবে। রসিদে ক্রেতার মোবাইল নম্বর সংযুক্ত থাকবে এবং সেই নম্বরে প্রথমে এসএমএস, পরে সরাসরি কলের মাধ্যমে দলিল সরবরাহের তারিখ জানানো হবে। ব্যক্তিগত কারণে যারা মোবাইল নম্বর দিতে আগ্রহী নন, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অফিসিয়াল তথ্য ও হেল্পডেস্ক সুবিধা
ঢাকা জেলার ২৩টি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এই সেবা কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পদবি এবং যোগাযোগ নম্বরসহ একটি সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রির ফরমেটে ভোটার আইডি নম্বরের নিচে মোবাইল নম্বর যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তথ্যের সহজ যাচাই এবং যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে।
অহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি ছিল একটি বড় সমস্যা। সমাধানের অংশ হিসেবে ঢাকার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে হেল্পডেস্ক চালু করা হয়েছে। এছাড়া অফিসে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নিয়মিত গণশুনানি, এবং সপ্তাহে অন্তত তিন দিন আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
নতুন ব্যবস্থার আওতায় পুরোনো দলিল সংরক্ষণের জন্য ভবন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল অটোমেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলিল স্ক্যান করে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনো সব সেবা প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি, তবে উচ্চশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে অফিস সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকার এই উদ্যোগ বাংলাদেশে সরকারি সেবা প্রদানে ডিজিটালীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জমি রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত ঝামেলা কমিয়ে সেবাপ্রার্থীদের সময় ও শ্রম বাঁচানোর ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ। এছাড়া এই প্রক্রিয়া জনগণের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগাযোগকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করবে।
উপসংহার
নতুন সেবামুখী ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার ফলে ঢাকা জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে দলিল প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল অটোমেশন, হেল্পডেস্ক কার্যক্রম এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এই সেবা আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের এই ধাপ দেশের নাগরিকদের জন্য সময় সাশ্রয় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-জমির মামলা থেকে বাঁচতে আগে থেকেই যেসব কাজ করবেন
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


