Category: ইসলামিক নিউজ

  • তারাবির নামাজ না পড়লে কি গুনাহ হবে?

    তারাবির নামাজ না পড়লে কি গুনাহ হবে?

    তারাবির নামাজ না পড়লে কি গুনাহ হবে?আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন ইবাদত করে থাকেন। সংযমের এ মাসে তারাবির নামাজ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন এবং সাহাবীদেরও তা আদায়ের জন্য বলেছেন।

    তারাবির নামাজের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্বনবী বলেন, যিনি মানের সঙ্গে পুণ্য লাভের আশায় রমজানে তারাবির নামাজ শেষ করে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

    এই মাসে পবিত্র কোরআন মাজিদ নাজিল করা হয়। আর রমজান মাসের ফজিলত অনেক, এই মাসে বান্দার সকল ইবাদত আল্লাহ রব্বুল আলামিন 70 থেকে 700 গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করে থাকেন। তাই আমরা এই মাসে বেশি বেশি ইবাদত করে থাকি।

    এখন কথা হলো আমরা অনেকেই তারাবির নামাজ পড়ি কিন্তু এই নামাজের সুরা, দোয়া ও মোনাজাত জানিনা। আজ আপনাদের  তারাবির নামাজের সুরা, তারাবির নামাজ না পড়লে গুনাহ হবে কি না,  তারাবির নামাজের দোয়া, তারাবির নামাজের কি ভাবে পড়তে হবে,  তারাবির নামাজ কত রাকাত, কত রাকাত পর পর দোয়া পরতে হয় বিস্তারিত সব জানাবো।

    আরও পড়ুন-তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থসহ

    তারাবির নামাজের সুরা

    তারাবির নামাজের জন্য  আলাদা কোন সুরা নাই। সুরা ফাতেহা সাথে অন্য  যে কোন ছোট  সুরা পড়ে নামাজ  পড়তে  পারবেন।  ছোট সুরা সমূহ হলো

    সুরা ইখলাস, সুরা নাস, সুরা ফালাক, সুরা ফীল,  সুরা কাওসার ইত্যাদি।

    আমাদের দেশে দুই ধরণের তারাবি প্রচলিত। যথা-

    ১।একটি হলো সুরা তারাবি

    এবং

    ২।অন্যটি হলো খতম তারাবি।

    -সুরা তারাবি হলো পবিত্র  কোরআনের যে কোন সুরা দিয়ে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা।

    -খতম তারাবি হলো রমজান মাসে সম্পূর্ণ কোরআন সহকারে তারাবি আদায় করা। উভয় পদ্বতিই ইসলাম অনুমোদন করে। তবে খতমে তারাবিতে সওয়াব বেশি। সুরা তারাবির মাধ্যমে নামাজ আদায় করলেও নামাজ আদায় হবে।

    রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়। আর এ নামজকেই ‘তারাবির নামাজ’ বলা হয়।

    আরবি এবং বাংলা উভয়ভাবে নিয়ত করা যাবে। আরবি নিয়ত হচ্ছে, নাওয়াাইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রকাআতাই সালাতিত তারাবিহ, সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

    বাংলায় নিয়ত হচ্ছে, আমি কেবলামুখি হয়ে দুই রাকাআত তারাবির সুন্নতে মুয়াাক্কাদাহ নামাজের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার। (জামাআত হলে যোগ করতে হবে এ ইমামের পেছনে পড়ছি)।

    দুই রাকাত নামাজ আদায় করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা। আবার দুই রাকাত নামাজ পড়া। এভাবে ৪ রাকাত আদায় করার পর একটু বিশ্রাম নেয়া।

    বিশ্রামের সময় তাসবিহ তাহলিল পড়া, দোয়া-দরূদ ও জিকির আজকার করা। তারপর আবার দুই দুই রাকাত করে আলাদা আলাদা নিয়তে তারাবি আদায় করা।

    জামাতে তারাবির নামাজ

    ফরজ নামাজ ব্যতিত অন্য সকল নামাজ একাকী আদায় করা উত্তম। কিন্তু তারাবি নামাজ ব্যতিক্রম। তারাবির নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা শরীয়ত সম্মত। বরং তারাবি একাকী আদায় করার চেয়ে জামাতবদ্ধভাবে আদায় করা উত্তম।

    কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে তারাবির নামাজ জামাতে আদায় করেছেন এবং জামাতে আদায়ের ব্যাপারে তাকিদ দিয়েছেন।

    পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়া নারী পুরুষের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত।

    তারাবির নামাজ না পড়লে কি গুনাহ হবে?

    পবিত্র রমজানের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলোর অন্যতম এ সালাত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজানে তারাবির নামাজ আদায় করেন, তার অতীতের গুনাহগুলো আল্লাহপাক ক্ষমা করে দেবেন। (বুখারি শরিফ)।

    মূলত মাহে রমজানে এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর বিতরের আগে তারাবির নামাজ আদায় করতে হয়। সাধারণ নফল ও সুন্নতের চেয়ে অধিকতর মর্যাদাবান, গুরুত্বের দিক থেকে তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ, যা ওয়াজিবের কাছাকাছি।

    তারাবি আরবি শব্দ, যা তারবিহাতুন শব্দের বহুবচন; যার অর্থ হলো আরাম, প্রশান্তি অর্জন, বিরতি দেওয়া, বিশ্রাম নেওয়া ইত্যাদি। যেহেতু ২০ রাকাত তারাবির নামাজ প্রতি চার রাকাত অন্তর চার রাকাত নামাজের সমপরিমাণ সময় বিরতি দিয়ে আরামের সঙ্গে আদায় করা হয়, সেজন্য এ নামাজকে তারাবির নামাজ বলা হয়।

    এ নামাজ আদায় না করলে অবশ্যই গুনাহগার হতে হবে। তারাবির নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। কারণ, মাহে রমজান যেসব বৈশিষ্ট্যের জন্য মহিমান্বিত, তার মধ্যে অন্যতম হলো তারাবির নামাজ। রাসূলে কারিম (সা.) তারাবির সালাত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আদায় করতেন বলে সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

    তারাবির নামাজ কি ৪ রাকাত করে পড়া যায়?

    রমজানের রাতের নামাজকে তারাবিহ বলে। আর আরবিতে তারাবিহ (تَرَاوِيْح) শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশ্রাম করা’। লম্বা কেরাতে প্রতি ৪ রাকাআত নামাজ পড়ার পর পর একটু বিশ্রাম গ্রহণ করার মাধ্যমে রাত জেগে যে নামাজ পড়া হয় মূলত তা হচ্ছে তারাবিহ নামাজ।

    রাতের এ নামাজের রয়েছে অনেক ফজিলত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রাতের (তারাবিহ) নামাজ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের নিয়তে পড়বে, তার জীবনের আগের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ সুবহানাল্লাহ!

    হজরত সাঈর ইবনে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের রাতের (তারাবিহতে) নামাজে শত শত (শ’-এর ওপর) আয়াত পড়তেন। ফলে সুদীর্ঘ সময় দাঁড়ানোর কারণে আমরা লাঠির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। (মুয়াত্তা মুহাম্মদ)

    তারাবিহ নামাজের নিয়ত

    নিয়ত আরবিতে করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আরবি কিংবা বাংলায় নিয়ত করলে তা হয়ে যাবে।

    তারাবিহ’র দুই রাকাআত নামাজ ক্বেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য (এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার।

    ২ রাকাআত করে আলাদা নিয়তে ৪ রাকাআত নামাজ পড়া। ৪ রাকাআত পড়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া। সেসময় তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার পড়া। গোনাহ মাফে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

    খানিক বিশ্রামের পর আবার ২/২ রাকাআত করে ৪ রাকাআত নামাজ আদায় করা। আবার কিছু বিশ্রাম করে আবার নামাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।

    প্রত্যেক ৪ রাকাআত নামাজ পড়ার পর বিশ্রামের সময় অনেকেই আল্লাহর কাছে দোয়া করে থাকেন। অনেকে মুনাজাতও করে থাকেন। প্রতি ৪ রাকাতে মুনাজাত না করে একেবারে শেষে করলেও কোনো সমস্যা নেই।

    তারাবিহ নামাজের দোয়া

    তারাবিহ নামাজের পর মুনাজাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে গোনাহমুক্ত জীবন লাভে তাওবা-ইসতেগফারের বিকল্প নেই।

    তবে আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত একটি দোয়া রয়েছে, যা তারাবিহ নামাজে পড়া হয়। আর এ দোয়াটি ব্যাপকভাবে পড়ার কারণে অনেক মানুষই তা মুখস্ত জানে। চাইলে এ দোয়াটিও প্রতি ৪ রাকাআত পর পর পড়া যেতে পারে। আর তাহলো-

    سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

    উচ্চারণ : ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’

    তারাবিহ নামাজের ৪ রাকাআত পর পর শুধু এ দোয়াটিই পড়তে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যে কোনো দোয়া-ই পড়া যেতে পারে। এতে তারাবিহ নামাজেরও কোনো অসুবিধা হবে না।

    তারাবিহ শেষে মুনাজাত

    আবার তারাবিহ নামাজ শেষ হলেও সবাই সমবেতভাবে মুনাজাত করে। আবার অনেকে একাকি মুনাজাত করে। এ মুনাজাত সমবেত হোক আর একাকি হোক যে কোনো দোয়া দিয়ে তা করা যেতে পারে।মনের একান্ত কথাগুলো যেভাবে ইচ্ছা আল্লাহর কাছে তুলে ধরায় কোনো অসুবিধা নেই। তবে তারাবিহ নামাজের দোয়ার মতো মুনাজাতেরও একটি ব্যাপক প্রচলিত দোয়া রয়েছে। ইচ্ছা করলে এ দোয়াটিও পড়া যায়। আর তাহলো-

    اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

    – অনেকে রমজানজুড়ে এ দোয়াও বেশি বেশি পড়ে থাকেন-

    اَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌّ ﺗُﺤِﺐُّ اﻟْﻌَﻔْﻮَ ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨِّﻲ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আ’ন্নি।

    – তাছাড়া তারাবিহ নামাজের পর সাইয়্যিদুল ইসতেগফারও পড়া যেতে পারে-

    اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানি; ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আ’হদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বা’তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া; ওয়া আবুউ বিজামবি ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।

    মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহাঅনুগ্রহের মাস রমজান। এ মাসের মর্যাদা অন্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি।

    তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল?

    তারাবির নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। (সুন্নতে মুআক্কাদা ওয়াজিবের মতই। অর্থাৎ ওয়াজিবের ব্যাপারে যেমন জবাবদিহী করতে হবে, তেমনি সুন্নতে মুআক্কাদার ক্ষেত্রে জবাবদিহী করতে হবে। তবে ওয়াজিব তরককারীর জন্য সুনিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে, আর সুন্নতে মুআক্কাদা ছেড়ে দিলে কখনো মাফ পেয়ে যেতেও পারে। তবে শাস্তিও পেতে পারে। – আল্লামা জুরজানী রাহ)

    তারাবির নামাজ কত রাকাত?

    তারাবির সালাত দুই দুই রাকআত করে যেকোনো সংখ্যক রাকআত পড়া হয়।  তারাবির নামাজের রাকআত নির্দিষ্ট করা হয়নি। হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকআত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকআত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকআত তারাবির পড়েন।

    তারাবির নামাজ  দুই  রাকাতের পর দোয়া

    তারাবির নামাজের পর নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে গোনাহমুক্ত জীবন লাভে তাওবা-ইসতেগফারের বিকল্প নেই।

    “তবে আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত একটি দোয়া রয়েছে, যা তারাবির নামাজের পর পড়া হয়। আর এ দোয়াটি ব্যাপকভাবে পড়ার কারণে অনেক মানুষই তা মুখস্ত জানে। চাইলে এ দোয়াটিও প্রতি ৪ রাকাআত পর পর পড়া যেতে পারে“। আর তাহলো —

    سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

    বাংলা উচ্চারণ: “সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।ʼʼ

    বাংলা অর্থ : আল্লাহ পবিত্রময় সাম্রাজ্য ও মহত্ত্বের মালিক। তিনি পবিত্রময় সম্মান মহত্ত্ব ও প্রতিপত্তিশালী সত্তা। ক্ষমতাবান, গৌরবময় ও প্রতাপশালী তিনি পবিত্রময় ও রাজাধিরাজ যিনি চিরঞ্জীব, কখনো ঘুমায় না এবং চির মৃত্যুহীন সত্তা। তিনি পবিত্রময় ও বরকতময় আমাদের প্রতিপালক, ফেরেশতাকুল এবং জিবরাইল (আ.) এর প্রতিপালক।

    প্রশ্ন ও উত্তর

    ১। প্রশ্ন:তারাবিহ শব্দের অর্থ কি?

    উত্তরঃ তারাবিহ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশ্রাম করা’।

    ২। প্রশ্ন:তারাবির নামাজ  কি?

    প্রতি চার রাকাআত নামাজ শেষ করে যাতে একটু বিশ্রাম গ্রহণ করা যায় তাই একে তারাবির নামাজ বলা হয়।

    ৩।প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কত রাকাত?

    উত্তরঃ  হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকআত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকআত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকআত তারাবির পড়েন।

    ৪।প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কি সুন্নত না নফল?

    উত্তর: তারাবির নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

    ৫।প্রশ্ন: খতম তারাবীহ এবং সূরা তারাবীহ কি?

    উত্তর: বাংলাদেশে তারাবীহর নামাজের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত। একটি খতম তারাবীহ আর অন্যটি সূরা তারাবীহ। খতম তারাবীহর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করা হয়। খতম তারাবীহর জন্য কুরআনের হাফিযগণ ইমামতি করেন। সূরা তারাবীহর জন্য যেকোন সূরা বা আয়াত পাঠের মাধ্যমে সূরা তারাবীহ আদায় করা হয়।

    ৬।প্রশ্ন:তারাবির নামাজ কেন পড়ব?ফযিলত কি?

    উত্তর;রাসূল(সাঃ) বলেছেন,”যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব পাওয়ার আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে ,তার অতিতকৃত পাপগুলো ক্ষমা করা হয়।(বুখারি ও মুসলিম)

    হাদিস দ্বারা তারাবির নামাজের অশেষ সওয়াবের কথা প্রমানিত।

    ৭।প্রশ্ন:তারাবি নামাজ না পড়লে গুনাহ হবে?

    উত্তর:অবশ্যই গুনাহ হবে।কারন তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদ্দাহ(নামাজে যেসব সুন্নত পালন না করলে নামাজ মাকরুহ হয়) ।বিনা ওজরে তারাবির নামাজ ছেড়ে দিলে কবিরা গুনাহ হবে।

    ৮।প্রশ্ন:তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে?

    উত্তর:রোজা হবে।কারন রোজা ফরয ইবাদত এর সাথে তারাবির সংযোগ আছে কিন্তু তুলনা করাটা বোকামো।বিনা ওজরে তারাবি ছেড়ে দিলে রোজা মাকরুহ হবে।

    ৯।প্রশ্ন :  তারাবির সালাতে বা তাহাজ্জুদের সালাতে সুরা ফাতিহার পরে একাধিক ছোট সুরা পড়লে নামাজ শুদ্ধ হবে কি না?

    উত্তর : না, এতে কোনো অসুবিধা নেই। আপনি একাধিক সুরা একসঙ্গে মিলিয়ে পড়তে পারেন বা এক সুরা আপনি বারবার পড়তে পারেন অথবা আপনি কোরআনের মুসহাব থেকে তিলাওয়াত করতে পারবেন। এটা আপনার জন্য জায়েজ রয়েছে। তবে উত্তম হচ্ছে, যদি মুখস্থ থাকে, তাহলে বড় সুরা পড়া।

    উপসংহার

    ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা যেখানে তারাবির নামাজের মতো নফল ইবাদতও রয়েছে বিশেষ ফজিলতের অধিকারী। এটি না পড়লে গুনাহ না হলেও অনেক বড় নেকি থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই আমাদের উচিত সময় বের করে এই নামাজ আদায় করা এবং রমজানের বরকত অর্জনের চেষ্টা করা।

    আরও পড়ুন-তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত বাংলায় উচ্চারণ সহ

    ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
    ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

    👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    ✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

    📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

  • তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থসহ

    তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থসহ

    আমরা অনেকেই তারাবির নামাজ পড়ি কিন্তু এই নামাজের দোয়া ও মোনাজাত জানিনা। আজ আপনাদের  তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থসহ,  তারাবির নামাজের দোয়া, তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন,  তারাবির নামাজ কত রাকাত, কত রাকাত পর পর দোয়া পরতে হয় বিস্তারিত সব জানাবো।

    হিজরি মাসগুলোর মাঝে রমজান সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ন মাস কারন এই মাসে পবিত্র কোরআন মাজিদ নাজিল করা হয়। আর রমজান মাসের ফজিলত অনেক, এই মাসে বান্দার সকল ইবাদত আল্লাহ রব্বুল আলামিন 70 থেকে 700 গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করে থাকেন। তাই আমরা এই মাসে বেশি বেশি ইবাদত করে থাকি।

    “এই মাসে মহান আল্লাহ আমাদের জন্য সিয়াম “অর্থাৎʼʼ রোজা নির্ধারন করে দিয়েছেন। ইবাদত সমূহের মধ্যে রোজার গুরুত্ব অনেক। এই মাসে “মুসলিমরাʼʼ দিনের বেলা রোজা রাখে আর রাতের বেলা তারাবির  নামাজ পড়ে। ”

    আরও পড়ুন-শবে বরাতের রোজা নিয়ত বাংলায় এবং শবে বরাতের নামায

    তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থসহ

    তারাবির নামাজ শেষে সবাই সমবেতভাবে মুনাজাত করে। অনেক মসজিদে প্রতি ৪ রাকাআত পর পর মুনাজাত করা হয়। আবার অনেকে একাকি মুনাজাত করে। এ মুনাজাত সমবেত হোক আর একাকি হোক যে কোনো দোয়া দিয়ে তা করা যেতে পারে। মনের একান্ত কথাগুলো যেভাবে ইচ্ছা আল্লাহর কাছে তুলে ধরায় কোনো অসুবিধা নেই। তবে তারাবিহ নামাজের দোয়ার মতো মুনাজাতেরও একটি ব্যাপক প্রচলিত মুনাজাতের দোয়া রয়েছে। আর তাহলো —

    اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

    বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

    বাংলা অর্থ: পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর, যিনি ইহজগৎ ও ফেরেশতা ও জগতের প্রভু, সেই আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করছি যিনি মহিমাময় বিরাট, ভীতিপূর্ণ, শক্তিময়, গৌরবময় এবং বৃহত্তর। আমি সেই প্রতিপালকের গুণগান করছি, যিনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনও নিদ্রা যান না এবং যার কখনও মৃত্যু ঘটে না। পুতঃপবিত্র তিনি। তিনি আমাদের পালনকর্তা, ফেরেশতাকুল এবং আত্মাসমূহের পালনকর্তা। আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমরা আপনার কাছে বেহেশত চাচ্ছি এবং দোযখ থেকে মুক্তি চাচ্ছি।

    আমরা রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করে চলবো। এবং প্রতিটি রোজা ও তারাবির নামাজ পড়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আসুন আমরা এই মাসে বেশি বেশি ইবাদত করি এবং আল্লাহর রাস্তায় বেশি বেশি দান করি।

    তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন

    রমজান মাস এলেই আমরা তারাবি নামাজ পড়ে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই তারাবি নামাজ কিভাবে পড়তে হয় জানিনা। তাই বিভিন্ন সময় আমাদের মনে প্রশ্ন উঠে আসে তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন সম্পর্কে।

    আমরা সকলেই জানি যে রমজান মাসের তারাবির নামাজ পড়তে হয়। আর এই তারাবি নামাজ পড়ার জন্য রমজান মাসে এশার নামাজ 4 রাকাত ফরজ পড়ার পর দুই রাকাত সুন্নত পড়ে তারাবি নামাজ শুরু করতে হয়। তারাবি নামাজ গুলো শেষ করে বেতের তিন রাকাত নামাজ পড়ে নিতে হয়।

    তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম কানুন জানার আগে আমাদের জানতে হবে তারাবি অর্থ কি। তারাবি শব্দটি মূলত একটি আরবি শব্দ। আর তারাবি শব্দটিকে আরবিতে তারাবিহ বলা হয়ে থাকে। এর মূল ধাতু হচ্ছে রাহাতুন। রাহাতুন শব্দের অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা।

    আমরা যদি শরীয়তের পরিভাষায় তারাবি শব্দের অর্থ বা তারাবি মানে বুঝতে চায় তাহলে রমজান মাসের তারাবির নামাজ পড়াকালীন প্রতি দুই রাকাত বা চার রাকাত নামাজ পড়ার পর আমরা কিছুটা বিশ্রাম করার জন্য বসে থাকার সময় কি কি বুঝায় তারাবি।

    তারাবি নামাজ পড়ার আগে তারাবি নামাজের নিয়ত করতে হয়। তারাবি নামাজ মোট বিশ রাকাত পড়া হয়। কিন্তু অনেকে তারাবি নামাজ ৮ বা ১২ বা ২০ রাকাত পড়ে থাকে। কিন্তু একজন মুসলমান হিসেবে উত্তম হচ্ছে 20 রাকাত তারাবির নামাজ পড়া।

    তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন

    এতক্ষণ আমরা তারাবি নামাজের কিছু প্রাথমিক ধারণা পেয়েছি এখন আমরা প্রায় তারাবি নামাজের সঠিক নিয়ম জানব।

    ১।আমরা সকলেই জানি যে তারাবি নামাজ রমজান মাসে পড়া হয়। তাই তারা পড়ার আগে অবশ্যই আমাদের ওযু করতে হবে।

    ২।এরপর এশার ওয়াক্তে চার রাকাত ফরজ এবং দুই রাকাত সুন্নত আদায় করে নিতে হবে।

    ৩।তারাবি নামাজ সুন্নত হিসেবে ধরা হয়। তাই এশার ওয়াক্তের ফরজ এবং দু রাকাত সুন্নত সালাত আদায় করার পর তারাবি নামাজের জন্য দু রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত করতে হবে।

    ৪।আমরা সাধারণভাবে যেভাবে নামাজ পড়ি ঠিক সেভাবেই তারাবি নামাজ পড়া হয়। তবে তারাবি নামাজের যেসকল ব্যক্তিবর্গ মসজিদে গিয়ে বা জামাতের সাথে নামাজ পড়েন তারা তারাবি নামাজের রমজান মাসের সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ থেকে দোয়া সমূহ তেলাওয়াত করে থাকে। আপনারা চাইলে যারা ঘরে বসে নামাজ পড়েন বাঃ জামাতে নামাজ পড়তে পারেন না তারা আমরা সাধারণভাবে যেভাবে নামাজ পড়ি ঠিক সেভাবেই নামাজ পড়তে পারেন।

    ৫।প্রতি চার রাকাত নামাজের পর তারাবি নামাজের মোনাজাত ধরতে হয়। এক্ষেত্রে তারাবি নামাজের প্রতি দুই রাকাত শেষ করার পর মোনাজাত না ধরে উঠে আবার দু রাকাত পড়ে চার রাকাত সম্পন্ন হলে মোনাজাত ধরতে হয়।

    ৬।তারাবি নামাজের মোনাজাত আলাদা থাকে। যদি কোন মুসলমান সেই মোনাজাত পারেন তাহলে সেই মোনাজাত পড়তে পারেন আবার যদি করুক সে মোনাজাত মুখস্ত না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের মতো করেও মোনাজাত ধরতে পারে।

    ৭।এভাবে একে একে বিশ্রাম এর সাথে 20 রাকাত তারাবি নামাজ পড়তে হয়।

    ৮।তারাবি নামাজ গুলো শেষ করে তিন রাকাত বেতের নামাজ আদায় করতে হয়।

    সূরা তারাবির নামাজের নিয়ম

    সুরা তারাবি হচ্ছে যে তারাবি নামাজের সূরা ফাতিহার সাথে যেকোনো সুরা মিলিয়ে পড়ার হয়। আমরা সকলে জানি রমজান মাসের তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। আর এই তারাবি নামাজ হচ্ছে সুন্নাত। তারাবি নামাজ এশার নামাজের ফরজ এবং সুন্নত নামাজ শেষে তারাবি নামাজের সুন্নত নামাজ শেষ করে বেতের নামাজ পড়তে হয়।

    আপনারা যারা ঘরে বা নিজের তারাবে নামাজ আদায় করেন অর্থাৎ মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ না পড়ে তাহলে আপনারা সুরা তারাবি পড়তে পারেন। তবে যারা মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ পড়েন তারা অবশ্যই কোরআনের আয়াতসমূহ পাঠ করে তারাবির আদায় করে। যেহেতু সকলের কুরআন মুখস্থ থাকেনা যেহেতু আপনারা কোরআনের আয়াতের পরিবর্তে বাসায় থেকে সুরা তারাবি নামাজ আদায় করতে পারবে।

    সূরা তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন হচ্ছে

    ১।প্রথমে অজু করে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াতে হবে।

    ২।এরপর এশার নামাজের ফরজ চার রাকাত এবং সুন্নত দুই রাকাত আদায় করতে হবে। এরপর তারাবি নামাজের জন্য সুন্নত দুই রাকাত করে নিয়ত করতে হবে। সুন্নত দুই রাকাত নিয়ত করার পর আল্লাহু আকবার বলে সানা পাঠ করতে হবে।

    ৩।এখন সূরা ফাতিহা পাঠ করে এরসাথে যে কোন সূরা পাঠ করতে হবে। ( আমরা যেভাবে সাধারণত সুন্নত নামাজ পড়ি ঠিক সেভাবে তারাবি নামাজের সুন্নত নামাজ আদায় করতে হবে)।

    ৪।এভাবে দুই রাকাত করে মোট চার রাকাত তারাবি সুন্নত নামাজ আদায় করে মোনাজাত এবং দোয়া পাঠ করতে হবে। সুতরাং এভাবেই সুরা তারাবি নামাজ পড়তে হয়।

    তারাবির নামাজ  ৪ রাকাত পর পর দোয়া

    তারাবির নামাজের পর নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে গোনাহমুক্ত জীবন লাভে তাওবা-ইসতেগফারের বিকল্প নেই।

    “তবে আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত একটি দোয়া রয়েছে, যা তারাবির নামাজের পর পড়া হয়। আর এ দোয়াটি ব্যাপকভাবে পড়ার কারণে অনেক মানুষই তা মুখস্ত জানে। চাইলে এ দোয়াটিও প্রতি ৪ রাকাআত পর পর পড়া যেতে পারে“। আর তাহলো —

    سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

    বাংলা উচ্চারণ: “সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।ʼʼ

    বাংলা অর্থ : আল্লাহ পবিত্রময় সাম্রাজ্য ও মহত্ত্বের মালিক। তিনি পবিত্রময় সম্মান মহত্ত্ব ও প্রতিপত্তিশালী সত্তা। ক্ষমতাবান, গৌরবময় ও প্রতাপশালী তিনি পবিত্রময় ও রাজাধিরাজ যিনি চিরঞ্জীব, কখনো ঘুমায় না এবং চির মৃত্যুহীন সত্তা। তিনি পবিত্রময় ও বরকতময় আমাদের প্রতিপালক, ফেরেশতাকুল এবং জিবরাইল (আ.) এর প্রতিপালক।

    তারাবির নামাজের দোয়া

    তারাবি নামাজ দুই দুই রাকাতে আদায় করতে হয়। অনেকেই নামাজটির আরবি নিয়ত করে থাকেন। রমজান এলেই তারাবি নামাজের নিয়ম, আরবি নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত খুঁজে থাকেন।

    তারাবি নামাজের নিয়ত

    نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

    উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

    অর্থ : আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবি সুন্নত নামাজের নিয়ত করছি; আল্লাহু আকবার।

    নিয়ত আরবিতেই করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বাংলাতেও করা যাবে। তাহলো-

    তারাবি -এর দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য (জামাত হলে- এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার।

    তারাবি নামাজ দুই দুই রাকাত করে পড়তে হয়। দুই রাকাত নামাজ আদায় করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা। এভাবে ৪ রাকাত আদায় করার পর একটু বিশ্রাম নেওয়া। তাসবিহ-তাহলিল পড়া বা কিছু সময় বিরতি নেওয়া উত্তম। বিশ্রামের সময় তাসবিহ তাহলিল পড়া, দোয়া-দরূদ ও জিকির আজকার করা। এরপর আবার দুই দুই রাকাত করে আলাদা আলাদা নিয়তে তারাবি আদায় করা।

    তারাবি নামাজের দোয়া

    سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

    উচ্চারণ : ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’

    ৪ রাকাত তারাবি আদায় করে বিশ্রাম বা বিরতির পর  ব্যাপক প্রচলিত একটি দোয়া রয়েছে। যা দেশের প্রায় মসজিদে পড়া হয়। আর তাহলো-

    উল্লেখ্য তারাবি নামাজের ৪ রাকাত পর পর পড়ার এ দোয়াটি ব্যাপক প্রচলিত। তবে এ দোয়ার সঙ্গে তারাবি নামাজ হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

    এমন নয় যে, এ দোয়া না জানলে বা তারাবি নামাজে না পড়লে নামাজ হবে না। বরং যে কোনো দোয়াই পড়া যাবে। তবে এ সময়টিতে কুরআন-সুন্নাহর দোয়া, তাওবাহ-ইসতেগফারগুলো পড়াই উত্তম।

    তারাবির নামাজ কত রাকাত?

    তারাবির সালাত দুই দুই রাকআত করে যেকোনো সংখ্যক রাকআত পড়া হয়।  তারাবির নামাজের রাকআত নির্দিষ্ট করা হয়নি। হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকআত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকআত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকআত তারাবির পড়েন।

    তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল?

    তারাবির নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। (সুন্নতে মুআক্কাদা ওয়াজিবের মতই। অর্থাৎ ওয়াজিবের ব্যাপারে যেমন জবাবদিহী করতে হবে, তেমনি সুন্নতে মুআক্কাদার ক্ষেত্রে জবাবদিহী করতে হবে। তবে ওয়াজিব তরককারীর জন্য সুনিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে, আর সুন্নতে মুআক্কাদা ছেড়ে দিলে কখনো মাফ পেয়ে যেতেও পারে। তবে শাস্তিও পেতে পারে। – আল্লামা জুরজানী রাহ)

    প্রশ্ন উত্তর

    ১। প্রশ্ন:তারাবিহ শব্দের অর্থ কি?

    উত্তরঃ তারাবিহ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশ্রাম করা’।

    ২। প্রশ্ন:তারাবির নামাজ  কি?

    প্রতি চার রাকাআত নামাজ শেষ করে যাতে একটু বিশ্রাম গ্রহণ করা যায় তাই একে তারাবির নামাজ বলা হয়।

    ৩।প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কত রাকাত?

    উত্তরঃ  হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকআত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকআত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকআত তারাবির পড়েন।

    ৪।প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কি সুন্নত না নফল?

    উত্তর: তারাবির নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

    ৫।প্রশ্ন: খতম তারাবীহ এবং সূরা তারাবীহ কি?

    উত্তর: বাংলাদেশে তারাবীহর নামাজের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত। একটি খতম তারাবীহ আর অন্যটি সূরা তারাবীহ। খতম তারাবীহর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করা হয়। খতম তারাবীহর জন্য কুরআনের হাফিযগণ ইমামতি করেন। সূরা তারাবীহর জন্য যেকোন সূরা বা আয়াত পাঠের মাধ্যমে সূরা তারাবীহ আদায় করা হয়।

    ৬।প্রশ্ন:তারাবির নামাজ কেন পড়ব?ফযিলত কি?

    উত্তর;রাসূল(সাঃ) বলেছেন,”যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব পাওয়ার আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে ,তার অতিতকৃত পাপগুলো ক্ষমা করা হয়।(বুখারি ও মুসলিম)

    হাদিস দ্বারা তারাবির নামাজের অশেষ সওয়াবের কথা প্রমানিত।

    ৭।প্রশ্ন:তারাবি নামাজ না পড়লে গুনাহ হবে?

    উত্তর:অবশ্যই গুনাহ হবে।কারন তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদ্দাহ(নামাজে যেসব সুন্নত পালন না করলে নামাজ মাকরুহ হয়) ।বিনা ওজরে তারাবির নামাজ ছেড়ে দিলে কবিরা গুনাহ হবে।

    ৮।প্রশ্ন:তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে?

    উত্তর:রোজা হবে।কারন রোজা ফরয ইবাদত এর সাথে তারাবির সংযোগ আছে কিন্তু তুলনা করাটা বোকামো।বিনা ওজরে তারাবি ছেড়ে দিলে রোজা মাকরুহ হবে।

    আরও পড়ুন-তারাবির নামাজ কি সুন্নত না নফল?

    ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
    ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

    👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    ✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

    📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

  • তারাবির নামাজ কত রাকাত? সহিহ হাদিস অনুযায়ী বিস্তারিত ব্যাখ্যা ২০২৫

    তারাবির নামাজ কত রাকাত? সহিহ হাদিস অনুযায়ী বিস্তারিত ব্যাখ্যা ২০২৫

    তারাবির নামাজ কত রাকাত-শুরু হলো  মাহে রমজান মাস। আর এই মাসে রোজা রাখতে মুসলমানরা প্রতিদিন রাতে ইশার নামাজের পর তারাবির নামাজ আদায় করে থাকেন। আরবিতে তারাবিহ (تَرَاوِيْح) শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশ্রাম করা’। লম্বা কেরাতে প্রতি ৪ রাকাআত নামাজ পড়ার পর পর একটু বিশ্রাম গ্রহণ করার মাধ্যমে রাত জেগে যে নামাজ পড়া হয় মূলত তা হচ্ছে তারাবির নামাজ।

    রাতের এ নামাজের রয়েছে অনেক ফজিলত। আজ আপনাদের তারাবির নামাজের দোয়া,  তারাবির নামাজের নিয়ম, তারাবির নামাজের  নিয়ত, তারাবির নামাজ কত রাকাত পরতে হবে এবং তা সুন্নত না নফল  বিস্তারিত সব জানাবো।

    আরও পড়ুন-শবে বরাতের রোজা নিয়ত বাংলায় এবং শবে বরাতের নামায

    তারাবিহ নামাজের দোয়া

    سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا و…

    উচ্চারণ : ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’

    তারাবির নামাজের নিয়ম

    তারাবির নামাজ ২ রাকাআত করে প্রতি ৪ রাকাআত পর খানিক বিশ্রাম গ্রহণ করা। এ সময় দোয়া করা। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। পরবর্তী ৪ রাকাআত সুন্দরভাবে আদায়ের শক্তি গ্রহণ করা।

    অনেকে প্রতি ৪ রাকাআত পর পর মুনাজাত দেয়। আবার অনেকে একেবারে নামাজ শেষ করে মুনাজাত দেয়। উভয়টিই করা যেতে পারে। এতে কোনো সমস্যা নেই।

    তারাবিহ নামাজে ইমাম হোক আর মুসল্লি হোক প্রতিযোগিতা করে তারাবিহ পড়ার প্রবনতা পরিহার করা উচিত। কারণ যত তাড়াতাড়িই নামাজ পড়ার চেষ্টাই করা হোক না কেন, তাতে সময়ের ব্যবধানে বেশি হেরফের হয় না।

    ℹ️ এই ধরনের আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন।

    সুতরাং সামান্য সময়ের জন্য তারাবিহ নামাজের সৌন্দর্য বিনষ্ট করতে তাড়াতাড়ি তারাবিহ পড়ার প্রবনতা থেকে বেরিয়ে এসে অধিক ছওয়াব অর্জনের প্রত্যাশায় ধীর ও স্থিরভাবে তারাবিহ পড়াই উত্তম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে খতম তারাবিহ হোক আর সুরা তারাবিহ হোক; সব তারাবিহ নামাজ ধীরস্থিরভাবে পড়ার তাওফিক দান করুন। তারাবিহর ফজিলত লাভে নিয়মিত রাত জাগরণ করে তারাবিহ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

    তারাবির নামাজের নিয়ত

    نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر

    উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

    তারাবিহ শেষে মুনাজাত

    اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

    তারাবির নামাজ কত রাকাত?

    তারাবির সালাত দুই দুই রাকআত করে যেকোনো সংখ্যক রাকআত পড়া হয়।  তারাবির নামাজের রাকআত নির্দিষ্ট করা হয়নি। হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকআত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকআত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকআত তারাবির পড়েন।

    তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল?

    তারাবির নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। (সুন্নতে মুআক্কাদা ওয়াজিবের মতই। অর্থাৎ ওয়াজিবের ব্যাপারে যেমন জবাবদিহী করতে হবে, তেমনি সুন্নতে মুআক্কাদার ক্ষেত্রে জবাবদিহী করতে হবে। তবে ওয়াজিব তরককারীর জন্য সুনিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে, আর সুন্নতে মুআক্কাদা ছেড়ে দিলে কখনো মাফ পেয়ে যেতেও পারে। তবে শাস্তিও পেতে পারে। – আল্লামা জুরজানী রাহ)

    প্রশ্ন উত্তর

    ১। প্রশ্ন:তারাবিহ শব্দের অর্থ কি?

    উত্তরঃ তারাবিহ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশ্রাম করা’।

    ২। প্রশ্ন:তারাবির নামাজ  কি?

    উত্তরঃ প্রতি চার রাকাআত নামাজ শেষ করে যাতে একটু বিশ্রাম গ্রহণ করা যায় তাই একে তারাবির নামাজ বলা হয়।

    ৩।প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কত রাকাত?

    উত্তরঃ  হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকআত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকআত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকআত তারাবির পড়েন।

    ৪।প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কি সুন্নত না নফল?

    উত্তর: তারাবির নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

    ৫।প্রশ্ন: খতম তারাবীহ এবং সূরা তারাবীহ কি?

    উত্তর: বাংলাদেশে তারাবীহর নামাজের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত। একটি খতম তারাবীহ আর অন্যটি সূরা তারাবীহ। খতম তারাবীহর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করা হয়। খতম তারাবীহর জন্য কুরআনের হাফিযগণ ইমামতি করেন। সূরা তারাবীহর জন্য যেকোন সূরা বা আয়াত পাঠের মাধ্যমে সূরা তারাবীহ আদায় করা হয়।

    ৬।প্রশ্ন:তারাবির নামাজ কেন পড়ব?ফযিলত কি?

    উত্তর;রাসূল(সাঃ) বলেছেন,”যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব পাওয়ার আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে ,তার অতিতকৃত পাপগুলো ক্ষমা করা হয়।(বুখারি ও মুসলিম)

    হাদিস দ্বারা তারাবির নামাজের অশেষ সওয়াবের কথা প্রমানিত।

    ৭।প্রশ্ন:তারাবি নামাজ না পড়লে গুনাহ হবে?

    উত্তর:অবশ্যই গুনাহ হবে।কারন তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদ্দাহ(নামাজে যেসব সুন্নত পালন না করলে নামাজ মাকরুহ হয়) ।বিনা ওজরে তারাবির নামাজ ছেড়ে দিলে কবিরা গুনাহ হবে।

    ৮।প্রশ্ন:তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে?

    উত্তর:রোজা হবে।কারন রোজা ফরয ইবাদত এর সাথে তারাবির সংযোগ আছে কিন্তু তুলনা করাটা বোকামো।বিনা ওজরে তারাবি ছেড়ে দিলে রোজা মাকরুহ হবে।

    আরও পড়ুন-মহররম মাসে রোজা কয়টি রাখা উচিত?

    👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!

    👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    ✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

    📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

  • নফল রোজার নিয়ত, ফজিলত ও নিয়ম(ইসলামিক গাইড)

    নফল রোজার নিয়ত, ফজিলত ও নিয়ম(ইসলামিক গাইড)

    ইসলামে রোজা শুধু ফরজ ইবাদতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নফল রোজার গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি। নফল রোজা এমন একটি ইবাদত, যা বান্দা নিজের ইচ্ছায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পালন করে। ফরজ রোজার বাইরে এই রোজাগুলো পালন করলে গুনাহ মাফ হয়, সওয়াব বৃদ্ধি পায় এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।

    অনেক মুসলিম নফল রোজা রাখতে আগ্রহী হলেও সঠিক নিয়ত, ফজিলত ও পালন করার নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে দ্বিধায় পড়ে যান। এই ব্লগ পোস্টে নফল রোজার নিয়ত কীভাবে করতে হয়, এর ফজিলত কী এবং কী নিয়মে নফল রোজা রাখা উচিত—সবকিছু সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    আরও পড়ুন-রমজানের প্রথম রাতে আসমানে যে চারটি মহিমান্বিত ঘোষণা দেওয়া হয়

    নফল রোজা কী

    নফল রোজা হলো সেই রোজা, যা ইসলামে ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং অতিরিক্ত ইবাদত হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাখা হয়। কেউ নফল রোজা রাখলে তার জন্য আলাদা সওয়াব রয়েছে এবং না রাখলে কোনো গুনাহ হয় না।

    নফল রোজা মূলত একজন মুসলিমের ঈমান মজবুত করে, নফসকে সংযত করে এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তোলে।

    নফল রোজার নিয়ত

    নফল রোজার জন্য নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত মানে হলো অন্তরে দৃঢ় সংকল্প করা যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখা হচ্ছে।

    নফল রোজার নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা সুন্নত নয়, তবে চাইলে দোয়া হিসেবে বলা যেতে পারে। মূল বিষয় হলো অন্তরের ইচ্ছা ও সংকল্প।

    নফল রোজার নিয়তের দোয়া

    نَوَيْتُ أَنْ أَصُوْمَ غَدًا لِلَّهِ تَعَالَى نَفْلًا

    উচ্চারণ:
    নাওয়াইতু আন আসূমা গাদান লিল্লাহি তাআলা নাফলান।

    অর্থ:
    আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

    নফল রোজার ক্ষেত্রে ফজরের আগে বা এমনকি দুপুরের আগ পর্যন্তও নিয়ত করা যায়, যদি এর মধ্যে রোজা ভঙ্গকারী কোনো কাজ না করা হয়।

    নফল রোজার ফজিলত

    নফল রোজার ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। এটি এমন একটি ইবাদত, যা আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

    • নফল রোজা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি উত্তম মাধ্যম।

    • নফল রোজার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়।

    • জান্নাতের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

    • নফসের উপর নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হয়।

    • দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

    এক হাদিসে এসেছে, আল্লাহ বলেন—“রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।”

    কোন কোন দিনে নফল রোজা রাখা উত্তম

    ইসলামে কিছু নির্দিষ্ট দিনে নফল রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

    • সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখা উত্তম।

    • আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বীযের রোজা রাখা উত্তম।

    • শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

    • আরাফার দিনে নফল রোজা রাখা গুনাহ মাফের কারণ হয়।

    • আশুরার দিনে নফল রোজা রাখা সুন্নত।

    এই দিনগুলোতে নফল রোজা রাখলে অতিরিক্ত সওয়াব পাওয়া যায়।

    নফল রোজা রাখার নিয়ম

    নফল রোজা রাখার নিয়ম মূলত ফরজ রোজার মতোই, তবে কিছু ক্ষেত্রে সহজতা রয়েছে।

    • সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

    • ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙলে গুনাহ হবে, তবে কাফফারা নেই।

    • নফল রোজা ভেঙে ফেললে পরে কাজা করা উত্তম।

    • নফল রোজায় সফর বা অসুস্থতার কারণে না রাখলেও গুনাহ নেই।

    এই নিয়মগুলো মেনে নফল রোজা পালন করতে হয়।

    নফল রোজা ভেঙে ফেললে কী হবে

    নফল রোজা ভেঙে ফেললে ফরজ রোজার মতো কাফফারা দিতে হয় না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেললে পরে একটি কাজা রোজা রাখা উত্তম।

    ইসলামে নফল ইবাদত শুরু করার পর তা পূর্ণ করা আদবের অন্তর্ভুক্ত।

    নফল রোজার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আমল

    নফল রোজার পাশাপাশি কিছু আমল করলে সওয়াব আরও বৃদ্ধি পায়।

    • সাহরি খাওয়া সুন্নত।

    • ইফতারে দোয়া করা।

    • কুরআন তিলাওয়াত করা।

    • জিকির ও দরুদ পাঠ করা।

    • গীবত ও মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা।

    এই আমলগুলো নফল রোজার বরকত বাড়িয়ে দেয়।

    প্রশ্ন ও উত্তর

    প্রশ্ন: নফল রোজার নিয়ত কখন করা যায়?
    উত্তর: ফজরের আগে বা দুপুরের আগ পর্যন্ত করা যায়, যদি রোজা ভঙ্গকারী কাজ না করা হয়।

    প্রশ্ন: নফল রোজা ভেঙে ফেললে কি গুনাহ হবে?
    উত্তর: বিনা কারণে ভেঙে ফেললে আদবের খেলাফ হলেও কাফফারা নেই।

    প্রশ্ন: প্রতিদিন নফল রোজা রাখা যাবে কি?
    উত্তর: রাখা যায়, তবে শরীরের ক্ষতি হলে বিরত থাকা উত্তম।

    উপসংহার

    নফল রোজা একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ। সঠিক নিয়ত, নিয়ম মেনে এবং আন্তরিকতার সঙ্গে নফল রোজা পালন করলে দুনিয়া ও আখিরাতে এর সুফল পাওয়া যায়। যারা ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি অতিরিক্ত সওয়াব অর্জন করতে চান, তাদের জন্য নফল রোজা একটি উত্তম আমল।

    আরও পড়ুন-রমজান কবে শুরু হচ্ছে? ঈদ কবে হতে পারে?

    ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
    ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

    👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    ✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

    📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

  • আরাফার রোযার নিয়ত ও ফজিলত ২০২৫ – আরবি, বাংলা অর্থসহ

    আরাফার রোযার নিয়ত ও ফজিলত ২০২৫ – আরবি, বাংলা অর্থসহ

    আরাফার রোজার নিয়তঃবছরের যেকোনো সময়ই যেকোনো নেক আমল আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়। তবে কিছু কিছু সময়ে কিছু আমলের মারতাবা অন্যান্য সময়ের চেয়ে তুলনামূলক বৃদ্ধি হয়। তেমনি এক আমল আরাফার রোজা।আজ আপনাদের আরাফার রোজার নিয়ত,  আরাফার রোজার ফজিলত নিয়ে  বিস্তারিত জানাবো।

    আরাফার রোজার ফজিলত

    জিলহজ মাসের প্রথম দশক ও প্রথম পক্ষ পুরোটাই ফজিলত পূর্ণ।

    কোরআনুল কারীমে আল্লাহতায়ালা বলেন: ঊষার শপথ! আরো শপথ (জিলহজ মাসের প্রথম) দশ রজনীর! এবং শপথ জোড় (ঈদের দিন) ও বেজোড় (আরাফার দিন) এর।  (সূরা-৮৯ ফজর, আয়াত: ১-৩, ই.ফা.)।

    জিলহজের ১ থেকে ৯ তারিখ প্রতিদিনের রোজা ১ বছরের রোজার সওয়াব এবং প্রতিরাতের ইবাদত ১ বছরের ইবাদতের সমান সওয়াব। (তিরমিযী, খণ্ড:১, পৃষ্ঠা: ১৫৮)।

    জিলহজের ৮ থেকে ১৩ তারিখ হজের কার্যক্রম, ৯ থেকে ১৩ তারিখ আইয়ামে তাশরীক, ৯ তারিখ হজ, ১০ তারিখ ঈদ, ১০ থেকে ১২ তারিখ কোরবানি এবং ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ আইয়ামে বীদ এর রোজা, যা প্রতি মাসেই রয়েছে। এক সাথে এত অধিক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ইবাদত অন্য কোনো মাসে দেখা যায় না।

    প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আশা করি আরাফাতের দিনের রোজার বদলায় আল্লাহতাআলা বিগত ১ বছরের ও পরবর্তী ১ বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। (সহীহ মুসলিম ও তিরমিযী, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৫৮)।

    আরাফার দিন হল ইয়াওমুল আরাফা বা ৯ জিলহজ, যেদিন হাজীরা হজের প্রধান ফরজ অকুফে আরাফা বা আরাফা প্রান্তরে অবস্থান করে থাকেন।

    সারা পৃথিবীতে চান্দ্র তারিখের হিসাব চারভাবে হয়ে থাকে। এক. স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখে, দুই. মক্কা-মদিনা বা সৌদি আরবের সাথে, তিন. পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রথম চাঁদ দেখার সংবাদের ভিত্তিতে, চার. জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের মাধ্যমে।

    এ কারণে সারা পৃথিবীতে একটি চান্দ্র মাসের দুটি বা তিনটি তারিখ দেখতে পাওয়া যায়। ফলে এক দেশের সাথে অন্য দেশের চান্দ্র তারিখ একদিন বা দুই দিন ব্যবধান হয়ে থাকে।

    মুজতাহিদ ফকীহগণের সিদ্ধান্তে এর যে কোনো একটি মতে আমল করলে উক্ত সওয়াব পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ!

    বাংলাদেশে কার্যত চান্দ্র তারিখের ২টি ধারা চালু আছে। প্রথমটি হলো- স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখে তারিখ নির্ধারণ করা; দ্বিতীয়টি হলো- সৌদি আরবের তারিখের অনুসরণ করা।

    প্রথম মতের ফকীহগণের বক্তব্য হলো: ইয়াওমুল আরাফা বা আরাফার দিন হলো জিলহজ মাসের ৯ তারিখ। সুতরাং পৃথিবীর যেখানে যখন জিলহজ মাসের ৯ তারিখ হবে সেখানকার অধিবাসীদের জন্য সেদিনই আরাফার দিন অর্থাৎ ইয়াওমুল আরাফা।

    জিলহজ মাসের ৯ তারিখই হলো আরাফার দিন বা ইয়াওমুল আরাফা। যেমন- জিলহজ মাসের ৮ তারিখকে ইয়াওমুত তারবিয়াহ এবং ১০ তারিখকে ইয়াওমুন নাহার বা কোরবানির দিন বলা হয়। অনুরূপভাবে ৯ তারিখ হলো ইয়াওমুল আরাফা বা আরাফার দিন।

    দ্বিতীয় মতের আলেমগণের ব্যাখ্যা হলো: আরাফার রোজার ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি, বরং নির্দিষ্ট একটি বিশেষ দিনের উল্লেখ করেছেন; আর সেদিনটি হলো আরাফার দিন অর্থাৎ হজের দিন, যে দিন হাজীগণ আরাফা ময়দানে অবস্থান করেন।

    সুতরাং ৮ বা ৯ তারিখ নয় বরং হজের দিনই রোজা রাখতে হবে। হজ যেহেতু পৃথিবীতে শুধুমাত্র এক জায়গায় মক্কা শরীফেই অনুষ্ঠিত হয়, তাই সারা পৃথিবীতে সেই হজের দিনই আরাফার রোজা প্রতিপালিত হবে।

    কারণ এই রোজাটি তারিখের সাথে সম্পর্কিত নয়, স্থান ও কর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর তা হলো মক্কা ও হজ।

    এক থেকে নয় তারিখ রোজা পালন করলে এর মধ্যেই আরাফার রোজা পালন হয়ে যাবে, এটাই সর্বোত্তম। নয়টি রোজা না রাখলেও আট ও নয় তারিখ দুটি রোজা করলেও আরাফার রোজা আদায় হয়ে যাবে- এটা নিরাপদ।

    যদি কেউ একটিমাত্র আরাফার রোজা রাখতে চান, তিনি উপর্যুক্ত বিশ্বব্যাপী অনুসৃত চারটি মতের বা বাংলাদেশে প্রচলিত দুটি মতের যে কোনো একটি অনুযায়ী ইখলাস ও তাকওয়ার সাথে আমল করলে পূর্ণ সওয়াব প্রাপ্ত হবেন।

    হাদিস শরীফে রয়েছে- ‘কাজের ফলাফল নিয়াতের ওপর নির্ভরশীল’। (বুখারি ও মুসলিম)।

    যারা যেই মতকে অধিক প্রামাণ্য ও যুক্তিসঙ্গত মনে করবেন ও তা অনুসরণ করে আন্তরিক অনুরাগের সাথে আমল করবেন, তারাই এই সওয়াবের অধিকারী হবেন। তবে মুজতাহিদ ফকীহগণ গবেষণার ক্ষেত্রে দলিল প্রমাণ ও যুক্তি-তর্কে অন্য মতের বিরোধিতা বা খণ্ডন করতে পারবেন।

    📅 ২০২৫ সালের আরাফার রোযা কবে?

    ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৯ জিলহজ হলো আরাফার দিন। তবে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। ২০২৫ সালে সম্ভাব্য তারিখ:

    ৬ জুন ২০২৫ (শুক্রবার) (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)।

    🕰 কখন নিয়ত করতে হয়?

    রোযার নিয়ত ফজরের আগেই করে ফেলতে হবে। কেউ যদি ভুলে যান, তবে সকাল পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া না করে থাকলে ফরজ রোযার মত করে নিয়ত করতে পারবেন, তবে সর্বোত্তম ফজরের পূর্বেই নিয়ত করে ফেলা।

    আরাফার রোজার নিয়ত

    জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। প্রথম ৯ দিনে রোজা পালন এবং রাতে ইবাদত-বন্দেগি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘জিলহজের ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়, প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো আর প্রতি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো (তিরমিজি শরিফ)।

    জিলহজ মাসের ৯ তারিখ হল আরাফার দিন। এ দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। এ দিনে হাজিরা মিনা থেকে আরাফার ময়দানে সমবেত হন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এটিই হজের প্রধান রুকন। এ দিনে নফল রোজা রাখা বিশেষ সুন্নত আমল। তবে আরাফায় উপস্থিত হাজীদের জন্য এই রোজা প্রযোজ্য নয়। রাসূল (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে আল্লাহতায়ালা তার (রোজাদারের) বিগত এক বছরের ও সামনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম ও তিরমিজি শরিফ)।

    অন্য একটি হাদিসে আছে, জিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের প্রতিটি দিন ১ হাজার দিনের তুল্য আর আরাফার দিনটি ১০ হাজার দিনের সমান মর্যাদাপূর্ণ। রাসূল (সা.) আরও বলেন, আরাফার দিনটি সব দিবসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এ দিনের কসম খেয়েছেন।

    আরাফার ময়দানে অবস্থানরত হাজীদের ওপর অজস্র ধারায় রহমত বর্ষিত হয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, বদরের যুদ্ধের দিন বাদে শয়তান সবচেয়ে বেশি অপদস্থ, ধিকৃত ও ক্রোধান্বিত হয় আরাফার দিনে। কেননা এ দিন শয়তান আল্লাহ পাকের অত্যধিক রহমত এবং বান্দার অগণিত পাপরাশি মাফ হতে দেখতে পায়। (মুয়াত্তা ও মিশকাত)।

    আরাফার দিনটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত রহমতের। তাই এ দিনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করা অপরিহার্য। আরাফার দিনের আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. জিকির ও তাসবিহ পাঠ করা; ২. দোয়া করা। রাসূল (সা.) বলেছেন, সর্বোত্তম দোয়া হচ্ছে আরাফার দিনের দোয়া; ৩. রোজা রাখা।

    জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর একবার তাকবির বলা ওয়াজিব। জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ যে কোনো দিন, কোনো ব্যক্তির মালিকানায় নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। পুরুষ ও নারী সবার জন্য এ বিধান প্রযোজ্য।

    রাসূল (সা.)-এর কাছে সাহাবারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! এ কোরবানি কী?’ তিনি বললেন, ‘তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত।’ তারা আবার বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! তাতে আমাদের জন্য কি সওয়াব রয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি সওয়াব রয়েছে।’ রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে’।

    গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন

    মুসলমানের উচিত জিলহজের প্রথম দশক ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা এবং ইয়াওমে আরাফা তথা হজের দিন ইবাদত-বন্দেগির সঙ্গে রোজা পালন করা।

    আরাফার রোজা হয় জিলহজ মাসের ৯ তারিখে, যে দিন হাজীরা আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকেন।

    আরাফার রোজা কয়টি

    আরাফা দিবসের রোজার ফজিলত নিয়ে যা বলেছেন, সেটা আসলে যথার্থ নয়। এই দিনের ফজিলত নিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, আমি আশা করি, আল্লাহ তায়ালা এই সিয়ামের আগের বছর ও আগামী বছর—এই দুই বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। সুতরাং, এই একদিনের সিয়াম যদি কেউ পালন করেন, তাহলে তাঁর দুই বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।

    এক হাদিসে আছে, দুই বছরের সগিরা গুনাহ মাফ করে দেন। জিলহজ মাসের সবচেয়ে বড় ইবাদত হলো সিয়াম। আর আরাফার রোজা হবে যেদিন হাজিরা আরাফার ময়দানে হাজির হবেন। ক্যালেন্ডার দেখে এই রোজা নয়। কারণ, অনেক দেশে সময়ের মিল এক নয়। যারা জানেন না কখন হাজিরা ময়দানে উঠবেন, তাঁরা তারিখের হিসেবে করতে পারেন।

    আর একদিনের সিয়াম পালন করলেই আপনি এই ফজিলত পাবেন। যাঁরা বলছেন, একদিন রোজা রাখলে হবে না, এটি সঠিক কথা নয়। সুতরাং, একদিনের সিয়াম পালন করলেই হবে। যদি কেউ বেশি রাখেন, তাতেও কোনো সমস্যা নেই।

    আরাফার দিনে আরাফার রোজারাখার তিনটি কারণ

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহকে ক্ষমা করিয়ে দেবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

    উক্ত হাদিসে ‘আরাফার দিন’ বলতে ৯ জিলহজের কথা বলা হয়েছে। ৯ জিলহজ ‘আরাফার দিন’ বলার তিন কারণ বিজ্ঞ আলেমরা উল্লেখ করেছেন।

    ১।  ইবরাহিম (আ.) ৮ জিলহজ রাতে স্বপ্ন দেখেন যে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রসন্তানকে জবাই করছেন। কিন্তু স্বপ্নটির মর্ম সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি, তাই চিন্তিত ছিলেন। তারপর ৯ জিলহজ পুনরায় ওই স্বপ্ন দেখার পর তার ব্যাখ্যা সুস্পষ্টরূপে বুঝতে ও চিনতে সক্ষম হন। ঘটনাটির স্মরণে ৯ জিলহজকে ‘আরাফার দিন’ বলা হয়। কেননা ‘আরাফা’ শব্দের অর্থ হলো জানা, চেনা ইত্যাদি। (তাফসিরে বাগাবি ৭/৪৮)

    ২। জিবরাইল (আ.) ৯ জিলহজে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হজের আমলগুলো বিস্তারিত জানিয়েছেন। আর ‘আরাফা’ শব্দের এক অর্থ হলো জানা। তাই ৯ জিলহজকে ‘আরাফার দিন’ বলে। (আল-বিনায়া ৪/২১১)

    ৩।এই দিনে হজযাত্রীরা হজের আমল হিসেবে ‘আরাফা’ প্রান্তরে অবস্থান করেন। তাই ৯ জিলহজকে ‘আরাফার দিন’ বলা হয়। (আল-ইনসাফ ৩/২৪৪)

    এ আলোচনায় স্পষ্ট হলো যে আরাফার দিনের নামকরণের একমাত্র কারণ ‘আরাফা’ প্রান্তরে অবস্থান নয়, বরং অন্য কারণও রয়েছে। তাই এই দিনকে সব দেশের ক্ষেত্রে আরাফায় অবস্থানের সঙ্গে নির্ধারিত করা ঠিক নয়, বরং ৯ জিলহজ হলো ‘আরাফার দিন’। এখন যে দেশে যেদিন জিলহজের ৯ তারিখ, ওই দেশের ‘আরাফার দিন’ সেটিই। হজযাত্রীদের আরাফার ময়দানে অবস্থানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই।

    🍴 রোযা ভেঙে গেলে কী করবেন?

    যদি কোনো কারণে রোযা ভেঙে যায়, তবে তাতে কোনো কাফফারা নেই, কারণ এটি সুন্নত রোযা। পরে সুযোগ হলে আবার রাখলে ইনশাআল্লাহ সাওয়াব পাওয়া যাবে।

    প্রশ্ন ও উত্তর

    ১।আরাফাশব্দের  অর্থ  কি?

    উওরঃ আরাফা’ শব্দের  অর্থ হলো জানা।

    ২। আরাফার রোজা কোন মাসে ?

    উত্তরঃ জিলহজ্জ মাসে।

    ৩। কত তারিখে আরাফার রোজা?

    উত্তরঃ জিলহজ্জ মাসে ৯ তারিখ।

    ৪। আরাফার রোজা নফল না সুন্নত?

    উত্তরঃ আরাফার রোজা নফল।

    ৫।আরাফার রোজা কয়টি?

    উত্তরঃ আরাফার রোজা ১ টি।

    ৬।হজ্জপালনকারীর জন্য আরাফার দিন রোজা  রাখা কি?

    উত্তরঃ হজ্জপালনকারীর জন্য আরাফার দিন রোজা রাখা মাকরূহ।

    ৭।আরাফার রোজা পালনে কয় বছরের গুনাহ মাফ হবে?

    উত্তরঃ ২ বছরের গুনাহ মাফ হবে।

    ৮।২০২২ সালে আরাফার রোজা  ইংরেজি কোন মাসে ও কত তারিখে?

    উত্তরঃ জুলাই মাসের ৯ তারিখ।

    ৯। জিলহজ্জ মাসে সব চাইতে বরকতময় দিন কোনটি?

    উত্তরঃ আরাফার দিন  সব চাইতে বরকতময়।

    ১০।আরাফাতের দিনের শ্রেষ্ঠা দোয়া কি?

    উত্তরঃ দোয়া হলো-

    لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

    উচ্চারণ : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদির’।

    👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    ✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

  • মহররম মাসে রোজা কয়টি রাখা উচিত?

    মহররম মাসে রোজা কয়টি রাখা উচিত?

    মহরমের রোজা কয়টি-হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। ইসলামের দৃষ্টিতে মহররম একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস। অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত আছে এ মাস ঘিরে। এ মাসের ১০ তারিখ মুসলিম বিশ্বের তাৎপর্যপূর্ণ সেই আশুরার দিন। এ দিনের সর্বাপেক্ষা আলোড়িত ও আলোচিত বিষয় হলো কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস। আশুরার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় ঘটনার শীর্ষে স্থান পায় মুসা (আ.)-এর একটি ঘটনা। এই দিনে তিনি অত্যাচারী শাসক ফিরাউনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

    আরও পড়ুন-শবে বরাতের রোজা নিয়ত বাংলায় এবং শবে বরাতের নামায

    মহরমের রোজা কয়টি

    এ ঘটনার বিবরণে ইমাম বুখারি (রহ.) সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘মহানবী (সা.) হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে মদিনার ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা পালন করতে দেখেন।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করেন, এই দিনে কী ঘটেছে যে তোমরা এতে রোজা পালন করো? তারা বলে, এই দিনটি অনেক বড় দিন, এই দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের ফিরাউন থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং ফিরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি।

    ইহুদিদের জবাব শুনে রাসুলে করিম (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে বেশি যত্নশীল হওয়ার অধিকারী। অতঃপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং মুসলমানদের তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩৯৭, মুসলিম, হাদিস : ১১৩৯)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি নির্দেশ করেছেন, তাই তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া অসংখ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। কয়েকটি নিম্নে উপস্থান করা হলো—

    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা মহররম মাসে আশুরার রোজা।’ (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৮৪২১০)

    আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

    মুসলিম শরিফে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, বিধর্মীরা তো এই দিনটিকে বড় দিন মনে করে। এই দিনে তারাও রোজা পালন করে।

    আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি তাহলে তো এদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন (তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে), আগত বছর ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব, ইনশাআল্লাহ। (মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)

    অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরো একটি রোজা রেখে নিয়ো।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৫৪)

    উপরোক্ত হাদিসগুলোর আলোকে প্রমাণিত হয় যে আশুরার রোজা হবে দুটি—মহররমের ১০ তারিখ একটি, আর ৯ তারিখ অথবা ১১ তারিখ আরো একটি।

    মহরমের রোজার নিয়ত

    মহররম মাসের দশম তারিখ মহান আল্লাহর নিকট পূণ্যময়।

    এদিনটির রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত। এ দিনটিকে বলা হয় ‘পবিত্র আশুরা’।

    ‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘আশারা’ শব্দ থেকে উৎপত্তি। আশারা অর্থ হচ্ছে দশ আর আশুরা অর্থ হল দশম দিবস। এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক আমল রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো রোজা পালন করা। রাসূল (সা.) এই আশুরার দিন রোজা পালন করতেন। উম্মতদেরকেও এ দিনে রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

    মহরমের রোজা সম্পর্কে এক হাদীসে এসেছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোজা রাখ।’ (মুসনাদে আহমদ ১/২৪১)

    ইবনে আব্বাস (রা.) একবার বললেন, হে আল্লাহর নবী! এ দিনটিকে ইহুদিরা সমীহ পূর্বক রোজা রাখে। আমাদের রোজাও তাদের সদৃশ হয়ে যায়। রাসূল (সা.) বললেন, যদি আমি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে নবম তারিখটিকেও দশমের সঙ্গে মিলিয়ে  রোজা রাখব, ইনশাআল্লাহ’! পরের বৎসরটি আর আসেনি রাসূল (সা.) এর জীবনে।

    আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ইয়াহুদিরা আশুরার একদিন রোজা রাখত। তাদের সঙ্গে সাদৃশ্য না হয় সে দিকে খেয়াল রেখে আশুরার পূর্বের দিন ৯ তারিখ বা পরের দিন ১১ তারিখ অতিরিক্ত একটি রোজা রাখা উত্তম।

    ওলামায়ে কেরাম এই ক্ষেত্রে চারটি ধারা বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন সর্বোত্তম হলো নয় এবং দশ তারিখ রোজা রাখা। দ্বিতীয় ধাপে বলেছেন ১০ এবং ১১। তৃতীয় ধাপে বলেছেন ৯, ১০, ১১ এই তিনদিন একাধারে এবং চতুর্থ ধাপে বলেছেন সমস্যা থাকলে শুধু ১০ তারিখ রোজা রাখতে। কারণ রাসুল (সা.) ৯ এবং ১০ তারিখ রোজা রাখার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছেন। এজন্য অনেকেই বলছেন যে নয়, ১০ রোজা রাখাই উত্তম। কেউ যদি নয় তারিখ রাখতে ব্যর্থ হন, সে ১০, ১১ রাখবেন বা শুধু ১০ তারিখেও মহররমের রোজা রাখতে পারবেন।

    মহরমের রোজার ইতিহাস

    রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে মহররম মাসের আশুরার রোজা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজার ফরজ বিধান রহিত হয়ে তা নফল হয়। রাসূল (সা:) এ নিয়মে রোজা রাখতেন।

    তিনি যখন হিজরত করে মদিনায় গেলেন তখন  রাসূল (সা:) দেখলেন, ইয়াহুদিরা এই দিনে রোজা পালন করছে, রাসূল (সা:) কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, এই দিনে আমাদের নবী হজরত মুসা (আ:) জালেম ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

    গুগল নিউজে SS IT BARI সাইট ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপর ফলো করুন 

    তাই আমাদের নবী মুসা (আ:) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য এ দিন রোজা পালন করতেন। এ জন্য আমাদের নবীর অনুসরণ করে আমরা এই দিনে রোজা পালন করি। তখন রাসূল (সা:) বললেন ‘আমরাই বেশি হকদার মুসা (আ:) এর সঙ্গে সুসম্পর্কের’। তারপর তিনি সাহাবাদেরকেও এ দিনের রোজা রাখার নির্দেশ দেন।

    হাদীসের আলোকে মহরমের রোজা

    হজরত আয়েশা (রা:) বলেন, ‘জাহেল যুগে এই দিন কুরাইশরা রোজা পালন করতেন। রাসূল (সা:) এদিন রোজা নিজে রেখেছেন এবং সাহাবীদের রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজাকে ইচ্ছাধীন করে দিয়েছেন।’ (বুখারী ১৮৯৮, তিরমিজী ৭৫৩)

    আয়শা (রা.) বলেন, ‘রাসূল (সা.)-কে আমি দেখিনি কোনো দিনের রোজাকে অন্য দিনের তুলনায় এতটা গুরুত্ব দিতে, আশুরার দিন আর রমাজান ব্যতীত’।

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (সহীহ বুখারী ১/২১৮)

    অন্য হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তায়ালা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ (সহীহ মুসলিম)

    মহরম মাসের রোজার ফজিলত

    নামকরণ থেকেই প্রতীয়মান হয় এ মাসের ফজিলত। মহররম অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এ মাসকে ঘিরে, সঙ্গে সঙ্গে এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাসটি মর্যাদাপূর্ণ। তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মহররম বা মর্যাদাপূর্ণ মাস।

    মহররম সম্পর্কে (যা আশহুরে হুরুমের অন্তর্ভুক্ত তথা নিষিদ্ধ মাস) পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২। যেদিন থেকে তিনি সব আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। ’ –সূরা তওবা: ৩৬

    অর্থাৎ সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে আল্লাহতায়ালা ১২টি মাস নির্ধারণ করে দেন। তন্মধ্যে চারটি মাস বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে।

    হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, এক বছরে ১২ মাস। এর মধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। এর মধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে (অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ ও মহররম) এবং চতুর্থ মাস মুজর গোত্রের রজব মাস। -সহিহ বোখারি: ৪৬৬২ ও মুসলিম: ১৬৭৯

    হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের সরদার হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত ও নবী পরিবারের কয়েকজন সম্মানিত সদস্যের রক্তে রঞ্জিত কারবালার ইতিহাসকেই বুঝে থাকে।

    তাদের অবস্থা ও কার্যাদি অবলোকন করে মনে হয়, কারবালার ইতিহাসকে ঘিরেই আশুরার সব ঐতিহ্য, এতেই রয়েছে আশুরার সব রহস্য। আসলে বাস্তবতা কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত। বরং আশুরার ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে প্রাচীনকাল থেকেই। হজরত হুসাইন (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাতের ঘটনার অনেক আগ থেকেই আশুরা অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যঘেরা দিন।

    ℹ️ এই ধরনের আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন।

    কারণ কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৬১ হিজরির ১০ মহররম। আর আশুরার রোজার প্রচলন চলে আসছে ইসলাম আবির্ভাবেরও বহুকাল আগ থেকে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, আবহমানকাল থেকে আশুরার দিনে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা যেমন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি হিজরি ৬১ সনে আশুরার দিন কারবালার ময়দানের দুঃখজনক ঘটনাও মুসলিম জাতির জন্য অতিশয় হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক।

    প্রতিবছর আশুরা আমাদের এই দুঃখজনক ঘটনাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে এও বাস্তব যে এ ঘটনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পেরে আজ অনেকেই ভ্রষ্টতা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত। যারা কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে ব্যথাভরা অন্তরে স্মরণ করে থাকেন, তারা কোনো দিনও চিন্তা করেছেন যে কী কারণে হজরত হুসাইন (রা.) কারবালার ময়দানে অকাতরে নিজের মূল্যবান জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

    তাই তো অনেকেই মনে করেন যে জারি মর্সিয়া পালনের মধ্যেই কারবালার তাৎপর্য! হায়রে আফসোস! কী করা উচিত! আর আমরা করছি কী? হজরত হুসাইন (রা.)-এর উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তব জীবনে অনুসরণ করাই হবে এ ঘটনার সঠিক মর্ম অনুধাবনের বহিঃপ্রকাশ। হজরত হুসাইন (রা.)-ও রাসুলে করিম (সা.)-এর প্রতি মুহব্বত ও আন্তরিকতার একমাত্র পরিচায়ক।

    আরও পড়ুন-শাবান মাসের ১৫ তারিখের ঘটনা ও ফজিলত

    👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!

    👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    ✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

    📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

  • শবে বরাতের রোজার নিয়ত ও দোয়া: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ

    শবে বরাতের রোজার নিয়ত ও দোয়া: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ

    শবে বরাত মুসলমানদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের মুসলমানরা এই রাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটান। শবে বরাতের সঙ্গে রোজার বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। অনেকেই শবে বরাতের পরের দিন রোজা রাখেন, আবার কেউ কেউ রাখলেও সঠিকভাবে জানেন না—রোজার নিয়ত কীভাবে করতে হয়, কোন দোয়া পড়তে হয় এবং এর অর্থ কী

    আরও পড়ুন-জুমার দিনে যে দোয়া পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়

    শবে বরাত কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

    শবে বরাত মূলত শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। এই রাতকে অনেক আলেম ক্ষমা ও মাগফিরাতের রাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ রাতে মুসলমানরা—

    • নফল নামাজ আদায় করেন।

    • দোয়া ও ইস্তেগফার করেন।

    • পরের দিন নফল রোজা রাখেন।

    বাংলাদেশে শবে বরাতের ইবাদত একটি প্রচলিত ও আবেগঘন ধর্মীয় চর্চা।

    শবে বরাতের রোজা ফরজ না নফল?

    এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন।

    👉 শবে বরাতের রোজা ফরজ নয়
    👉 এটি একটি নফল রোজা

    অর্থাৎ—

    • রোজা রাখলে সওয়াবের আশা করা যায়।

    • না রাখলে কোনো গুনাহ নেই।

    ইসলামে নফল ইবাদতের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবামূলক।

    শবে বরাতের রোজা রাখার উদ্দেশ্য কী?

    শবে বরাতের রোজা রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো—

    • আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

    • আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া বৃদ্ধি।

    • রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া।

    • নফল ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াব লাভ।

    এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি ঐচ্ছিক আমল।

    শবে বরাতের রোজার নিয়ত (আরবি)

    নফল রোজার জন্য নির্দিষ্ট শব্দে নিয়ত বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত নিয়ত নিচে দেওয়া হলো—

    🕋 রোজার নিয়ত (আরবি)

    نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا مِنْ شَهْرِ شَعْبَانَ نَفْلًا لِلَّهِ تَعَالَى

    রোজার নিয়ত (বাংলা উচ্চারণ)

    নাওয়াইতু আন আসূমা গাদাম মিন শাহরি শা‘বান নাফলাল্লিল্লাহি তা‘আলা

    রোজার নিয়ত (বাংলা অর্থ)

    আমি আগামীকাল আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য শাবান মাসের নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

    👉 মনে রাখতে হবে, নিয়ত মূলত মনের কাজ। মুখে উচ্চারণ করা ভালো, তবে মনে দৃঢ় ইচ্ছা থাকলেই রোজা সহিহ হয়ে যায়।

    শবে বরাতের রোজার জন্য আলাদা কোনো দোয়া আছে কি?

    অনেকের ধারণা, শবে বরাতের রোজার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ দোয়া আছে। বাস্তবে—

    • রোজার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট দোয়া বাধ্যতামূলক নয়।

    • সাধারণ রোজার নিয়ত ও দোয়াই যথেষ্ট।

    • নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করলেও তা কবুলযোগ্য।

    ইসলামে দোয়ার ক্ষেত্রে ভাষা নয়, অন্তরের ইখলাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    ইফতারের সময় পড়ার দোয়া

    🕋 ইফতারের দোয়া

    اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

    বাংলা উচ্চারণ

    আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযক্বিকা আফতারতু

    বাংলা অর্থ

    হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।

    শবে বরাতের রোজা রাখার সহজ নিয়ম

    বাংলাদেশে সাধারণত যেভাবে শবে বরাতের রোজা রাখা হয়—

    • রাতে ঘুমানোর আগে মনে মনে নিয়ত।

    • অথবা সেহরির সময় নিয়ত।

    • সেহরি খাওয়া সুন্নাহ।

    • মাগরিবের আজানে ইফতার।

    নফল রোজার ক্ষেত্রে সূর্য ঢলার আগ পর্যন্তও নিয়ত করা যায়, যদি কোনো খাবার গ্রহণ না করা হয়।

    শবে বরাতের রোজা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    বাংলাদেশে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে—

    • ❌ এটি ফরজ মনে করা

    • ❌ রোজা না রাখলে গুনাহ হবে ভাবা

    • ❌ অন্যকে জোর করে রোজা রাখতে বলা

    • ❌ নির্দিষ্ট দোয়া না পড়লে রোজা হবে না মনে করা

    ইসলামে এসব বাড়াবাড়ি সমর্থন করে না।

    শবে বরাতের রোজা কারা রাখতে পারবেন?

    • সুস্থ মুসলমান নারী ও পুরুষ।

    • সফরে থাকলে না রাখলেও সমস্যা নেই।

    • অসুস্থ হলে শরিয়ত ছাড় দিয়েছে।

    • নারীদের ক্ষেত্রে হায়েজ-নিফাসে রোজা নয়।

    ইসলাম সবসময় সহজতা পছন্দ করে।

    প্রশ্ন ও উত্তর

    শবে বরাতের রোজা কি বাধ্যতামূলক?

    না, এটি নফল রোজা।

    শবে বরাতের আগের দিন না পরের দিন রোজা?

    সাধারণত পরের দিন রোজা রাখা হয়।

    নিয়ত কি বাংলায় করা যাবে?

    হ্যাঁ, নিয়ত মনের কাজ—বাংলায় করলেও রোজা সহিহ।

    নিয়ত মুখে না পড়লে কি রোজা হবে?

    মনে নিয়ত থাকলে রোজা হয়ে যায়।

    শুধু শবে বরাত উপলক্ষে রোজা রাখা যাবে?

    হ্যাঁ, এটি শাবান মাসের নফল রোজা হিসেবে গণ্য হয়।

    নারী কি এই রোজা রাখতে পারেন?

    হ্যাঁ, যদি শরয়ি কোনো ওজর না থাকে।

    উপসংহার

    শবে বরাতের রোজা একটি নফল ইবাদত, যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি সুন্দর মাধ্যম। এর জন্য কোনো জটিল নিয়ম বা কঠিন দোয়ার প্রয়োজন নেই। সহজভাবে নিয়ত করে, আন্তরিকতার সঙ্গে রোজা রাখলেই আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন।

    আরও পড়ুন-জুমার প্রথম ও দ্বিতীয় খুতবা

    ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
    ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

    👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    ✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

    📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

  • শাবান মাসের ১৫ তারিখের ঘটনা ও ফজিলত ২০২৬

    শাবান মাসের ১৫ তারিখের ঘটনা ও ফজিলত ২০২৬

    শাবান মাস ইসলামী বর্ষপঞ্জির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। এই মাসেই আসে বহুল আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত—শাবান মাসের ১৫ তারিখ, যা মুসলিম সমাজে শবে বরাত নামে পরিচিত। ২০২৬ সালে এই রাতটি ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়।
    এই লেখায় আমরা জানবো শাবান মাসের ১৫ তারিখের ঐতিহাসিক ঘটনা, ধর্মীয় ফজিলত, হাদিসের আলোকে গুরুত্ব, কী কী আমল করা উত্তম এবং প্রচলিত ভুল ধারণা—সবকিছু সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে।

    আরও পড়ুন-শবে বরাতের রোজার নিয়ত ও দোয়া: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ

    শাবান মাসের ১৫ তারিখ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    শাবান মাস হিজরি সনের অষ্টম মাস। এই মাসের ১৫তম রাত ইসলামী পরিভাষায় পরিচিত লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান নামে, বাংলায় যাকে বলা হয় শবে বরাত।
    আরবি শব্দ “বরাত” অর্থ—মুক্তি, নাজাত বা নিষ্কৃতি। অনেক আলেমের মতে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে গুনাহ থেকে মুক্তি দেন।

    শাবান মাসের ১৫ তারিখের ঐতিহাসিক ঘটনা

    শাবান মাসের ১৫ তারিখ নিয়ে কুরআনে সরাসরি কোনো ঘটনা উল্লেখ না থাকলেও, হাদিস ও ইসলামী ঐতিহ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে—

    🔹 ১. আল্লাহর বিশেষ রহমতের অবতরণ

    হাদিসে এসেছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন।

    🔹 ২. ক্ষমা ও মাগফিরাতের রাত

    অনেক সহিহ ও হাসান হাদিসে বর্ণিত আছে—এই রাতে আল্লাহ তাআলা মুশরিক ও হিংসা-পোষণকারী ছাড়া অধিকাংশ বান্দাকে ক্ষমা করেন।

    🔹 ৩. আমলের গুরুত্ব বৃদ্ধি

    রাসূলুল্লাহ ﷺ শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি নফল রোজা রাখতেন, যা এই মাসের সামগ্রিক গুরুত্ব বোঝায়।

    শাবান মাসের ১৫ তারিখের ফজিলত

    শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে একাধিক হাদিসে বর্ণনা এসেছে। যদিও সব হাদিস একই মানের নয়, তবে বহু আলেম সম্মিলিতভাবে এই রাতের ফজিলত স্বীকার করেছেন।

    ✔️ গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতসমূহ:

    • আল্লাহ তাআলার বিশেষ ক্ষমা লাভের সুযোগ

    • গুনাহ মাফের রাত

    • দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি

    • আত্মশুদ্ধি ও তওবার উত্তম সময়

    শবে বরাতে কী কী আমল করা উত্তম?

    এই রাতে কোনো নির্দিষ্ট আমল ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তবে সাহাবা ও তাবেয়িদের অনুসরণে কিছু আমল করা উত্তম মনে করা হয়।

    🌙 করণীয় আমল:

    • নফল নামাজ আদায়

    • কুরআন তিলাওয়াত

    • দোয়া ও ইস্তেগফার

    • দরুদ শরিফ পাঠ

    • নিজের ও উম্মাহর জন্য দোয়া

    🌙 দিনে (১৫ শাবান) যা করা যায়:

    • নফল রোজা রাখা

    • বেশি বেশি জিকির করা

    শবে বরাত নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    অনেক সময় আবেগের কারণে কিছু কাজ ইসলামের মূল শিক্ষার বাইরে চলে যায়। সেগুলো জানা জরুরি।

    • আতশবাজি ফোটানো

    • কবরস্থানে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা

    • নির্দিষ্ট সংখ্যক নামাজ বাধ্যতামূলক মনে করা

    • ভিত্তিহীন দোয়া বা আমল প্রচার করা

    ইবাদত হওয়া উচিত নীরব, বিনয়ী ও সুন্নাহসম্মত।

    শবে বরাত ও ভাগ্য নির্ধারণ প্রসঙ্গ

    কিছু মানুষ মনে করেন এই রাতেই এক বছরের ভাগ্য লেখা হয়। তবে অধিকাংশ মুফাসসির ও আলেমের মতে, লাইলাতুল কদরেই মূল তাকদির নির্ধারিত হয়। শবে বরাত হলো ক্ষমা ও রহমতের বিশেষ রাত—এটা আলাদা বিষয়।

    ২০২৬ সালে শবে বরাত কবে?

    চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে। সম্ভাব্য হিসাবে—

    👉 ২০২৬ সালে শবে বরাত পড়তে পারে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে
    (চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে সঠিক তারিখ নির্ধারিত হবে)

    প্রশ্ন–উত্তর

    ❓ শবে বরাতে কি বিশেষ নামাজ আছে?

    👉 না, নির্দিষ্ট কোনো নামাজ ফরজ বা সুন্নত হিসেবে নির্ধারিত নয়।

    ❓ শবে বরাতে রোজা রাখা কি জরুরি?

    👉 ফরজ নয়, তবে নফল রোজা রাখা উত্তম।

    ❓ এই রাতে দোয়া কবুল হয় কি?

    👉 হাদিস অনুযায়ী, এই রাতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    উপসংহার

    শাবান মাসের ১৫ তারিখ মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ২০২৬ সালের শবে বরাত আমাদের জন্যও হতে পারে নতুনভাবে শুরু করার এক অনন্য মুহূর্ত।
    আত্মপ্রচার বা আচার নয়—বরং নীরব ইবাদত, আন্তরিক দোয়া ও সুন্নাহ অনুসরণই এই রাতের প্রকৃত শিক্ষা।

    আরও পড়ুন-জুমার প্রথম ও দ্বিতীয় খুতবা

    ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
    ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

    👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

    ✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

    📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

লোড হচ্ছে...