গরমের দিনে এসি চালানো এখন অনেক পরিবারের দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, এসি চালু করার কিছুক্ষণ পরই ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে যায় বা ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে বাফারিং শুরু হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এয়ার কন্ডিশনার চালু করার সঙ্গে ইন্টারনেটের গতির আসলেই কোনো সম্পর্ক আছে কি?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি এসি ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয় না। তবে কিছু প্রযুক্তিগত কারণে এসি চালু হওয়ার পর ওয়াই-ফাই সংযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন-এসি কি গোপনে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করছে? কয়েক মিনিটেই বুঝে নেওয়ার উপায়

কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে এসি?

ওয়াই-ফাই রাউটার সাধারণত রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে কাজ করে। অন্যদিকে এসির ভেতরে থাকা মোটর, কম্প্রেসর এবং বৈদ্যুতিক সার্কিট চালু হওয়ার সময় কিছু ইলেকট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপ (Electromagnetic Interference) তৈরি করতে পারে।

যদি রাউটারটি এসির খুব কাছে রাখা হয়, তাহলে এই বৈদ্যুতিক হস্তক্ষেপের কারণে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে ইন্টারনেটের গতি কম মনে হতে পারে।

রাউটারের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

অনেক বাড়িতে রাউটার এসির ঠিক নিচে বা পাশেই বসানো থাকে। এটি একটি সাধারণ ভুল।বিশেষজ্ঞদের মতে, রাউটার সবসময় খোলা ও উঁচু স্থানে রাখা উচিত। ধাতব বস্তু, বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্র এবং এসির কাছাকাছি রাখলে সিগন্যালের মান কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে ৫ গিগাহার্টজ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে বেশি গতির হলেও এর সিগন্যাল বাধা অতিক্রম করার ক্ষমতা কম। ফলে রাউটারের অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ভোল্টেজ ওঠানামার প্রভাব

অনেক এলাকায় এসি চালু হওয়ার সময় সাময়িকভাবে বিদ্যুতের ভোল্টেজে ওঠানামা দেখা যায়। যদি রাউটার বা অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক টার্মিনাল (ONT) পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া সরাসরি বিদ্যুৎ লাইনে সংযুক্ত থাকে, তাহলে ডিভাইসের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। ফলে ইন্টারনেট সংযোগ ধীর হয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়।

একই বিদ্যুৎ লাইনে একাধিক ডিভাইস

এসি, ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ বা অন্যান্য উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্র একই মাল্টিপ্লাগ বা লাইনে যুক্ত থাকলে কখনো কখনো বৈদ্যুতিক গোলযোগ তৈরি হতে পারে।এ কারণে রাউটার ও মডেমকে আলাদা পাওয়ার সকেটে সংযুক্ত রাখার পরামর্শ দেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ।

সমস্যা এড়াতে কী করবেন?

ইন্টারনেটের গতি ঠিক রাখতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে—

  • রাউটারকে এসি থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে রাখুন।
  • রাউটার উঁচু ও খোলা জায়গায় স্থাপন করুন।
  • ভালো মানের সার্জ প্রোটেক্টর বা ইউপিএস ব্যবহার করুন।
  • রাউটার ও মডেমের ফার্মওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন।
  • সম্ভব হলে ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ উভয় ব্যান্ড পরীক্ষা করে ব্যবহার করুন।
  • এসি চালুর পরও যদি সমস্যা থাকে, তাহলে ইন্টারনেট সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সব সময় কি এসিই দায়ী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় ব্যবহারকারীরা এসিকে দায়ী করলেও প্রকৃত কারণ অন্য কিছু হতে পারে। একই সময়ে পরিবারের একাধিক সদস্য ভিডিও দেখা, অনলাইন গেম খেলা বা বড় ফাইল ডাউনলোড করলে ইন্টারনেট ধীর হয়ে যেতে পারে।এ ছাড়া পুরোনো রাউটার, দুর্বল সিগন্যাল বা আইএসপির নেটওয়ার্ক সমস্যাও ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিতে পারে।

এসি চালু করলেই ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তবে রাউটারের অবস্থান, বৈদ্যুতিক হস্তক্ষেপ এবং ভোল্টেজের ওঠানামার মতো কিছু কারণে এসি চালুর সময় ওয়াই-ফাই সংযোগে প্রভাব পড়তে পারে। সঠিকভাবে রাউটার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

সূত্র:নেটওয়ার্কিং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি বিষয়ক ডকুমেন্টেশন।

আরও পড়ুন-এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন, জানেন?

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥