জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। ব্যাংক হিসাব খোলা, পাসপোর্ট করা, জমি নিবন্ধন, মোবাইল সিম নিবন্ধন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ থেকে শুরু করে অসংখ্য কাজে এনআইডি অপরিহার্য। তবে এখনো দেশের অনেক নাগরিক পুরোনো লেমিনেটেড ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করছেন। এসব কার্ডে থাকা তথ্য সঠিক আছে কি না কিংবা অনলাইনে তথ্য দেখা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, পুরোনো ভোটার আইডি কার্ড এখনো বৈধ। তবে নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা কিংবা অন্যান্য তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তা দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজন হলে সংশোধনের আবেদন করা উচিত। কারণ ভুল তথ্য ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, ব্যাংকিং, সরকারি সেবা কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে পুরাতন ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য যাচাই করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে নিবন্ধন করা। যাদের আগে অ্যাকাউন্ট নেই, তারা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ এবং প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে নিজের এনআইডির তথ্য দেখা, প্রয়োজনে অনলাইন কপি সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করা সম্ভব।
অনেকের পুরোনো ১৩ সংখ্যার এনআইডি নম্বর থাকলেও সেটি ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে সমস্যা হলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রয়োজনে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে সহায়তা নেওয়া যায়। কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেন।
ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারলেও নির্বাচন কমিশনের ১০৫ কল সেন্টারে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য ১০৫ নম্বরে এসএমএস এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবাও চালু করেছে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ এনআইডি তথ্য যাচাইয়ের বিকল্প নয়।
অনলাইনে তথ্য দেখতে সমস্যা হলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই, ভুল সংশোধনের আবেদন, তথ্য হালনাগাদ এবং অন্যান্য এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়। প্রয়োজনে কর্মকর্তারা আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহারকারীদের নিয়মিত নিজেদের তথ্য যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে নামের বানান, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম কিংবা ঠিকানায় কোনো ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারণ একবার তথ্য ভুল থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সেবা গ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের অনলাইনে বিভিন্ন এনআইডি সেবা গ্রহণের সুযোগও সম্প্রসারণ করছে। ফলে অধিকাংশ কাজ এখন ঘরে বসেই শুরু করা সম্ভব হলেও জটিল বা বিশেষ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সবসময় হালনাগাদ রাখা নাগরিকের দায়িত্ব। তাই যাদের এখনো পুরোনো ভোটার আইডি কার্ড রয়েছে, তারা একবার অনলাইনে অথবা স্থানীয় নির্বাচন অফিসে গিয়ে তথ্য যাচাই করে নিলে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে কোনো ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে না।
আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!