আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

একা নামাজে কেরাত কীভাবে পড়বেন?

February 11, 2026 6:38 PM
একা নামাজে যেভাবে কেরাত পড়বেন

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত এবং নামাজের গুরুত্বপূর্ণ ফরজগুলোর একটি হলো কেরাত বা কোরআন তিলাওয়াত। নামাজে কেরাত সঠিকভাবে আদায় করা না হলে নামাজ পরিপূর্ণ হয় না। জামাতে নামাজ ও একা নামাজের ক্ষেত্রে কেরাত পড়ার নিয়মে কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা জানা থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি। বিশেষ করে একা নামাজ আদায় করার সময় কোন নামাজে জোরে কেরাত পড়তে হবে আর কোন নামাজে নীরবে পড়তে হবে—এ বিষয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা দেখা যায়।

আরও পড়ুন-জুমার দিনে যে দোয়া পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়

ইসলামী শরিয়তে নামাজের বিভিন্ন ওয়াক্ত ও রাকাতভেদে কেরাতের আওয়াজ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু নামাজে উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব বা সুন্নত, আবার কিছু নামাজে নিম্নস্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। এই বিধানগুলো মূলত নামাজের শৃঙ্খলা ও একাগ্রতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই নির্ধারিত।

জামাতে নামাজের ক্ষেত্রে ফজর, জুমা, দুই ঈদের নামাজ, তারাবিহ, রমজান মাসের বেতর নামাজ এবং মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে ইমামের জন্য উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। এসব নামাজে মুক্তাদি অর্থাৎ ইমামের পেছনে নামাজ আদায়কারীরা কেরাত পাঠ করবেন না; বরং নীরবে ইমামের কেরাত শুনবেন। এটি জামাতের আদব ও শরিয়তের নির্দেশ।

তবে প্রশ্ন আসে—একজন মুনফারিদ, অর্থাৎ একা নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি কীভাবে কেরাত পড়বেন? সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে, একা নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য ফজর, মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়া সুন্নত। অর্থাৎ তিনি চাইলে জোরে কেরাত পড়তে পারেন। তবে কেউ যদি এসব নামাজে নিম্নস্বরে কেরাত পড়েন, তাহলেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর আমলের দিকেও আলেমরা ইঙ্গিত করেছেন। নবীজি ﷺ কখনও কখনও নফল নামাজে জোরে কেরাত পড়তেন, আবার কখনও নীরবে পড়তেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)–কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রাসুলুল্লাহ ﷺ কখনও উচ্চৈস্বরে কোরআন তিলাওয়াত করতেন, আবার কখনও নিম্নস্বরে পড়তেন। (মুসনাদে আহমদ)

জোহর ও আসরের নামাজের ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। এই দুই ওয়াক্ত নামাজে ইমাম ও একা নামাজ আদায়কারী—উভয়ের জন্যই নিম্নস্বরে কেরাত পড়া আবশ্যক। মুক্তাদি যদি কেরাত পড়েন, তবে সেটিও নিম্নস্বরে পড়বেন—এ কথা বলাই বাহুল্য। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, জোহর ও আসরের নামাজে নিম্নস্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। কেউ যদি ভুলবশত এসব নামাজে উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়ে ফেলেন, তাহলে তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে।

নিম্নস্বরে কেরাত পড়ার অর্থ এই নয় যে কেরাত একেবারেই আওয়াজহীন হবে। বরং শরিয়তের দৃষ্টিতে উত্তম হলো—এমন আওয়াজে কেরাত পাঠ করা, যেন নামাজি নিজে শুনতে পান, কিন্তু তার পাশের কেউ শুনতে না পায়। এতে কেরাতের শুদ্ধতা বজায় থাকে এবং নামাজের একাগ্রতাও নষ্ট হয় না।

তবে কেউ যদি খুব নিচু আওয়াজে ঠোঁট নেড়ে হরফের মাখরাজ ঠিক রেখে কেরাত পাঠ করেন, কিন্তু নিজের কানেও আওয়াজ না পৌঁছায়, তাহলেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে। কারণ এখানে মূল বিষয় হলো—শুদ্ধভাবে কোরআনের হরফ উচ্চারণ করা। শুধু মনে মনে পড়ে নেওয়া কেরাত হিসেবে গণ্য হয় না; বরং জিহ্বা ও ঠোঁট নড়ানো জরুরি।

একাকী নামাজ আদায়ের সময় অনেকেই দ্বিধায় পড়েন—জোরে পড়লে আশপাশের মানুষ বিরক্ত হবে কি না বা নীরবে পড়লে নামাজ শুদ্ধ হবে কি না। শরিয়তের সহজতা এখানেই—যেখানে জোরে পড়া সুন্নত, সেখানে নীরবে পড়লেও নামাজ শুদ্ধ হয়; আর যেখানে নীরবে পড়া ওয়াজিব, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে জোরে পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

আলেমরা বলেন, একা নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি যদি পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় জোরে কেরাত পড়তে অসুবিধা বোধ করেন, তবে নীরবে কেরাত পড়াই উত্তম। ইসলামের বিধান কখনো কষ্টের জন্য নয়, বরং সহজতা ও ভারসাম্যের জন্য।

উপসংহার

একা নামাজ আদায়ের সময় কেরাত পড়ার নিয়ম জানা থাকলে নামাজ আরও শুদ্ধ ও পরিপূর্ণ হয়। ফজর, মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে একা নামাজ আদায়কারীর জন্য উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়া সুন্নত হলেও নীরবে পড়লে নামাজ শুদ্ধ হয়। আর জোহর ও আসরের নামাজে নিম্নস্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। শরিয়তের এসব বিধান মেনে কেরাত আদায় করলে নামাজে খুশু-খুজু বাড়ে এবং ইবাদত আরও সুন্দর হয়।

আরও পড়ুন-জুমার প্রথম ও দ্বিতীয় খুতবা

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now