ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা এবং নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালীন যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থেকে ডাক বিভাগের যানবাহনকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পোস্টাল ব্যালট নিরাপদ ও সময়মতো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানো যায়।
আরও পড়ুন-গাইবান্ধার ৫৬% ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তায় মোতায়েন ১১০০ সেনা সদস্য
কেন ডাক বিভাগকে ছাড় দেওয়া হলো
নির্বাচন কমিশনের মতে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত যোগ্য ভোটারদের জন্য আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্যালটগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যান চলাচলের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ডাক বিভাগের গাড়ি চলাচল ব্যাহত হতে পারত, যা পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ ও পরিবহনে জটিলতা তৈরি করত। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ডাক বিভাগের যানবাহনকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পোস্টাল ব্যালট সময়মতো ও নিরাপদে পৌঁছাতে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক পরিবহন বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।
চিঠিতে কী বলা হয়েছে
নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—
-
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
-
এই নির্বাচনে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত যোগ্য ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
-
পোস্টাল ব্যালটগুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর দায়িত্ব ডাক অধিদফতরের ওপর ন্যস্ত।
-
তাই নির্বাচনী সময়ের যান চলাচল নিষেধাজ্ঞা থেকে ডাক বিভাগের যানবাহনকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে ভোট সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম যেন বিলম্বিত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
যান চলাচল নিষেধাজ্ঞা ও এর প্রেক্ষাপট
এর আগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো—
-
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
-
নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ।
-
ভোটকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে জরুরি সেবা ও নির্বাচন-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যার আওতায় এবার ডাক বিভাগ অন্তর্ভুক্ত হলো।
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার গুরুত্ব
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—
-
প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে।
-
সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে।
-
ভোটার উপস্থিতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে।
ডাক বিভাগের যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন থাকলে এই ব্যালটগুলো দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থেকে ডাক বিভাগের যানবাহনকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়বে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের অধিকার সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন-ভোটের দিন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল ইসি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







