আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সরকার। ভোটের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে আজ মধ্যরাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের সময় দুই চাকার যানবাহন ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-ভোট পর্যবেক্ষণে ১ হাজার ড্রোন, আকাশ থেকে নজরদারিতে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন উদ্যোগ
কখন থেকে কার্যকর হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জারি করা বিশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী—
-
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে।
-
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত।
এই সময়ে অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সময়কে ঘিরেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি
মোটরসাইকেলের পাশাপাশি নির্বাচনের দিন ঘিরে আরও কিছু যানবাহনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী—
-
১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে
-
১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত
এই ২৪ ঘণ্টায় ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ফলে ভোটের দিন সারাদেশে যানবাহন চলাচল থাকবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে।
কারা নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সেবাকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে—
-
সংবাদকর্মীরা।
-
নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
-
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
-
অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহন।
এই যানবাহনগুলো চলাচল করতে পারবে। এছাড়া বিদেশগামী যাত্রী বা বন্দর থেকে জরুরি মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেখাতে পারলে চলাচলের সুযোগ থাকবে।
ভোটারদের যাতায়াতের ব্যবস্থা
ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন ও রিকশা চলাচলের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ইঞ্জিনচালিত দুই চাকার যানবাহন হিসেবে মোটরসাইকেল পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকছে। প্রশাসনের মতে, এতে করে ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাও কমবে।
মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি
নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ইতোমধ্যে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। আজ মধ্যরাত থেকে—
-
মহাসড়ক।
-
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
-
সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে।
চেকপোস্ট বসানো হবে। নির্দেশ অমান্য করে মোটরসাইকেল চালালে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
নির্বাচনের সময় অতীতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সহিংসতা, দ্রুত চলাচল করে নাশকতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ৭২ ঘণ্টার বিশেষ কড়াকড়িকে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা একটি প্রতিরোধমূলক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য বার্তা স্পষ্ট—নির্দেশনা মেনে চললেই সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন সম্ভব হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল স্মার্ট সমাধান(BD অ্যাপ)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









