দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন (জিপি) সাম্প্রতিক আর্থিক বছরে ব্যবসা ও মুনাফা—দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রাখা এই মোবাইল অপারেটরটি স্থিতিশীল ব্যবসায়িক কাঠামোর জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং আর্থিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে তাদের মুনাফায়। সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক বছরে কোম্পানিটির ব্যবসার পরিমাণ সামান্য কমলেও মুনাফার ক্ষেত্রে পতন হয়েছে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, যা বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আরও পড়ুন- ১ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট নিতে রেজিস্ট্রেশন করে রাখুন
বার্ষিক ব্যবসার চিত্র
গত অর্থবছরে গ্রামীণফোনের মোট ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে কোম্পানিটির ব্যবসা ছিল ১৫ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মোট ব্যবসা কমেছে ৩৯ কোটি টাকা।
ব্যবসার এই সামান্য হ্রাসকে অনেক বিশ্লেষক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, গ্রাহক ব্যয়ের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। যদিও এই পরিমাণ হ্রাস খুব বড় নয়, তবে এটি মুনাফার ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলেছে।
মুনাফায় বড় ধস
ব্যবসার তুলনায় গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছর শেষে কোম্পানিটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। আগের বছর এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা।
ফলে এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে মোট ৬৭৩ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১৮.৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ব্যয় কাঠামোর চাপ কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতাকে কতটা প্রভাবিত করেছে।
২১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা
মুনাফা কমে যাওয়া সত্ত্বেও শেয়ারধারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে গ্রামীণফোন গত বছরের জন্য ২১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
লভ্যাংশ ঘোষণার বিস্তারিত—
-
১১০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১১ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
-
১০৫ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শেয়ারবাজারের বিধি অনুযায়ী বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে।
মুনাফার প্রায় সবটাই শেয়ারধারীদের মাঝে
ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী, গত বছরের জন্য গ্রামীণফোন শেয়ারধারীদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করবে। অর্থাৎ, কোম্পানিটির মোট মুনাফার ৯৮ শতাংশেরও বেশি অংশ সরাসরি শেয়ারধারীদের মাঝে দেওয়া হচ্ছে।
এটি প্রমাণ করে যে, মুনাফা কমলেও বিনিয়োগকারীদের প্রতি কোম্পানির দায়বদ্ধতা ও আস্থার জায়গাটি এখনও শক্ত রয়েছে।
কেন কমেছে মুনাফা
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুনাফা কমে যাওয়ার পেছনে প্রধানত কয়েকটি কারণ দায়ী—
-
ঋণের সুদসহ আর্থিক খরচ বৃদ্ধি।
গত বছর এই খাতে গ্রামীণফোনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪১ কোটি টাকা। আগের বছর এই ব্যয় ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে আর্থিক খরচ বেড়েছে ১৪২ কোটি টাকা। -
ডলারের বিনিময় মূল্যজনিত ব্যয় বৃদ্ধি।
ডলারের দর বৃদ্ধির ফলে গত বছর কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ কোটি টাকা বেশি।
সরকারকে কর প্রদানে ইতিবাচক ভূমিকা
ব্যবসা ও মুনাফা কমলেও সরকারের রাজস্ব আয়ে গ্রামীণফোনের অবদান বেড়েছে। গত বছর কোম্পানিটি কর বাবদ সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ১ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। আগের বছর এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে কর পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গ্রামীণফোনের জন্য গত বছরটি আর্থিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হলেও কোম্পানিটির মূল ভিত্তি এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। মুনাফা কমার পেছনে মূলত বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি দায়ী হলেও শেয়ারধারীদের জন্য বড় অঙ্কের লভ্যাংশ ঘোষণা এবং সরকারের রাজস্বে উল্লেখযোগ্য অবদান কোম্পানিটির দায়িত্বশীল অবস্থানকে তুলে ধরে। ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে গ্রামীণফোন আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-প্রাইম ব্যাংকের জিরো ক্রেডিট কার্ড -কোন ফি নেই, সব প্রিমিয়াম সুবিধা
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








