বাংলাদেশে সরকারি ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ই-প্রত্যয়ন (e-Prottoyon) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে মামলা আবেদন করার প্রক্রিয়াও এখন অনেক সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে। আগের মতো ইউনিয়ন পরিষদ বা অফিসে বারবার যেতে না গিয়ে ঘরে বসেই নাগরিকরা মামলা আবেদন, তথ্য সংযুক্তকরণ এবং আবেদন জমা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।
এই আপডেট গাইডে অনলাইনে মামলা আবেদন করার সম্পূর্ণ ধাপ, প্রয়োজনীয় তথ্য, সাবমিশন পদ্ধতি, সতর্কতা ও সাধারণ প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো—যাতে বাংলাদেশের যেকোনো ভিজিটর মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে নির্ভুলভাবে আবেদন করতে পারেন।
আরও – অনলাইনে মামলা দেখার উপায় ২০২৬
অনলাইনে মামলা আবেদন কোথায় করবেন
মামলা আবেদন করার সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হলো e-Prottoyon।
আবেদন করার ঠিকানা:
এই পোর্টাল ব্যবহার করে নাগরিক অ্যাকাউন্ট তৈরি, মামলা আবেদন, তথ্য সংযুক্তি এবং আবেদন জমা দেওয়া যায়।
অনলাইনে মামলা আবেদন করার ধাপ
ধাপ–১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে গিয়ে লিখুন-eprottoyon.com ওয়েবসাইটটি ওপেন হলে উপরের মেনুতে লগইন/রেজিস্টার অপশন দেখতে পাবেন।
ধাপ–২: নাগরিক অ্যাকাউন্টে লগইন বা রেজিস্ট্রেশন
-
আগে অ্যাকাউন্ট করা থাকলে Login করুন।
-
নতুন হলে Register / নাগরিক অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন অপশনে ক্লিক করুন।
-
বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা, ইউনিয়ন নির্বাচন করে নাম, ইমেইল, মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপ–৩: ইমেইল ভেরিফিকেশন
রেজিস্ট্রেশনের পর আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে। সেই কোড বসিয়ে Verify করলে আপনার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হবে।
ধাপ–৪: ড্যাশবোর্ড থেকে মামলা আবেদন নির্বাচন
লগইন করার পর বাম পাশের মেনুতে যান— মামলা আবেদন → মামলা আবেদন করুন এখানে ক্লিক করলে অনলাইনে মামলা আবেদন ফর্ম ওপেন হবে।
ধাপ–৫: মামলার মৌলিক তথ্য পূরণ
এই অংশে সঠিকভাবে নির্বাচন ও তথ্য দিতে হবে—
-
মামলার তারিখ।
-
বিভাগ, জেলা।
-
থানা / ইউনিয়ন।
-
মামলার ধরন (যদি প্রযোজ্য হয়)।
সব তথ্য অফিসিয়াল কাগজের সঙ্গে মিল রেখে দিন।
ধাপ–৬: বাদী ও বিবাদীর তথ্য যুক্ত করা
এখানে আলাদা আলাদা সেকশন থাকবে—
বাদী তথ্য
-
নাম
-
পিতা/স্বামীর নাম
-
ঠিকানা
-
মোবাইল নম্বর
বিবাদী তথ্য
-
নাম
-
পিতা/স্বামীর নাম
-
ঠিকানা
-
মোবাইল নম্বর
প্রয়োজনে একাধিক বাদী বা বিবাদী যুক্ত করা যাবে।
ধাপ–৭: বিষয় ও অভিযোগ লিখুন
-
বিষয় (Subject) ঘরে মামলার সংক্ষিপ্ত শিরোনাম লিখুন
-
অভিযোগ / বিস্তারিত বিবরণ ঘরে পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত ভাষায় ঘটনার বিবরণ লিখুন
👉 এখানে অপ্রয়োজনীয় শব্দ এড়িয়ে তথ্যভিত্তিক লেখা সবচেয়ে ভালো।
ধাপ–৮: আবেদন সংরক্ষণ ও সাবমিট
সব তথ্য পূরণ শেষে—
-
নিচে থাকা শর্তে টিক দিন।
-
সংরক্ষণ করুন অথবা জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন।
সফলভাবে সাবমিট হলে একটি কনফার্মেশন মেসেজ দেখাবে।
উদাহরণস্বরূপ অনলাইনে মামলা আবেদন (Sample Application)
নিচের আবেদনটি একটি রবি ওয়াইফাই সেবা সংক্রান্ত প্রতারণা ও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিক স্যাম্পল হিসেবে লেখা হয়েছে।
📌 মামলার মৌলিক তথ্য মামলার তারিখ:
০৬/০২/২০২৬ বিভাগ:
ঢাকা জেলা:
ঢাকা থানা:
গুলশান ইউনিয়ন / ওয়ার্ড:
প্রযোজ্য অনুযায়ী নির্বাচনযোগ্য 👤 বাদীর তথ্য নাম:
মো. হাসান মাহমুদ পিতা/স্বামীর নাম:
মো. আব্দুল করিম ঠিকানা:
বাসা নং ১২, রোড নং ৫, গুলশান-২, ঢাকা মোবাইল নম্বর:
০১৭xxxxxxxx 👥 বিবাদীর তথ্য নাম:
রবি আজিয়াটা পিএলসি (রবি ওয়াইফাই সার্ভিস) প্রতিনিধির নাম (যদি জানা থাকে):
রবি কাস্টমার কেয়ার বিভাগ ঠিকানা:
রবি আজিয়াটা লিমিটেড, গুলশান-১, ঢাকা মোবাইল নম্বর:
১২৩ (রবি কাস্টমার কেয়ার) 📝 বিষয় (Subject) রবি ওয়াইফাই সেবায় প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ। 🧾 অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ আমি, মো. হাসান মাহমুদ, একজন সাধারণ গ্রাহক। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রবি ওয়াইফাই সার্ভিসের একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজ গ্রহণ করি। প্যাকেজ গ্রহণের সময় রবি কর্তৃপক্ষ আমাকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা এবং নির্দিষ্ট গতির নিশ্চয়তা প্রদান করে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সংযোগ নেওয়ার পর থেকেই ইন্টারনেট সেবা বারবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে এবং প্রতিশ্রুত গতির তুলনায় অত্যন্ত ধীর গতিতে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে। একাধিকবার রবি কাস্টমার কেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তারা আমার সমস্যার কার্যকর কোনো সমাধান দেয়নি। অনেক সময় ফোন ধরেনি, আবার ধরলেও শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আমি লিখিত অভিযোগ এবং অনলাইন সাপোর্ট টিকিট জমা দিলেও রবি কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেনি। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি। রবি ওয়াইফাই কর্তৃপক্ষের এই আচরণ স্পষ্টতই ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন এবং প্রতারণার শামিল। সেবা প্রদান না করেও তারা আমার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অতএব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত আবেদন—এই অভিযোগটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং আমাকে ন্যায্য প্রতিকার প্রদান করা হোক। ✅ আবেদনকারীর সম্মতি ☑ আমি এই মর্মে ঘোষণা করছি যে, উপরোক্ত প্রদত্ত সকল তথ্য সত্য ও সঠিক।
☑ ভুল তথ্য প্রদান করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হবে—এতে আমি সম্মত।
আবেদন জমা দেওয়ার পর কী হবে
-
আবেদনটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অনলাইনে চলে যাবে।
-
ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদনের স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
-
প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য বা সংশোধনের জন্য নোটিফিকেশন দিতে পারে।
অনলাইনে মামলা আবেদন করার সময় গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
-
সব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও অফিসিয়াল কাগজ অনুযায়ী দিন।
-
ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
-
সাবমিটের আগে একবার পুরো ফর্ম রিভিউ করুন।
-
মোবাইল নম্বর ও ইমেইল সচল রাখুন।
অনলাইনে মামলা আবেদন সংক্রান্ত FAQ
প্রশ্ন: অনলাইনে মামলা আবেদন করতে কি ফি লাগে?
উত্তর: অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদন ফ্রি। তবে নির্দিষ্ট সেবায় ফি থাকতে পারে।
প্রশ্ন: মোবাইল দিয়ে আবেদন করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, মোবাইল ব্রাউজার দিয়েও আবেদন করা যায়।
প্রশ্ন: আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?
উত্তর: ড্যাশবোর্ডে কারণ দেখাবে। সংশোধন করে পুনরায় সাবমিট করা যাবে।
প্রশ্ন: আবেদন স্ট্যাটাস কোথায় দেখব?
উত্তর: e-Prottoyon ড্যাশবোর্ডে লগইন করে “আমার আবেদন” অপশনে।
উপসংহার
অনলাইনে মামলা আবেদন করার এই আপডেট পদ্ধতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য সময়, খরচ ও ভোগান্তি—সবকিছুই কমিয়ে দিয়েছে। e-Prottoyon প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন যে কেউ ঘরে বসেই নির্ভুলভাবে মামলা আবেদন করতে পারছেন। সঠিক তথ্য দিয়ে ধাপে ধাপে আবেদন করলে প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ ও ঝামেলামুক্ত।
আরও পড়ুন-মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচার উপায়: বাংলাদেশে আইনি ও বাস্তব সমাধান
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










