আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নতুন সিদ্ধান্ত সড়ক উপদেষ্টার

January 29, 2026 2:25 PM
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক

সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে চালকদের জন্য ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না করলে ভবিষ্যতে কোনো চালককে লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন-ভুলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাসায় রেখে আসলে জরিমানা দিতে হবে কিনা?

বর্তমান লাইসেন্স ব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা

সড়ক উপদেষ্টা বলেন, কমিটির মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের বর্তমান পদ্ধতি পৃথিবীর সবচেয়ে উদ্ভট ও অকার্যকর নিয়মগুলোর একটি। এই ব্যবস্থায় প্রকৃত দক্ষতা যাচাই না করেই অনেক সময় লাইসেন্স দেওয়া হয়, যার ফল হিসেবে সড়কে অদক্ষ চালকের সংখ্যা বাড়ছে এবং দুর্ঘটনাও বাড়ছে।

তিনি জানান, এই অচল ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে একটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণে কী কী থাকছে

নতুন বিধিমালার আওতায় চালকদের যে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে, সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের গাড়ি চালানোর ব্যবহারিক দক্ষতা, সড়ক আইন সম্পর্কে ধারণা, ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যাল বোঝার সক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। সব যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হলেই কেবল চালককে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।

উপদেষ্টা বলেন, এর ফলে অদক্ষ ও অযোগ্য চালকদের লাইসেন্স পাওয়া বন্ধ হবে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কী

ফাওজুল কবির খান বলেন, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের জীবন রক্ষা করা। পাশাপাশি সড়কে মৃত্যুর হার কমানো, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শব্দ ও বায়ুদূষণ কমিয়ে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা শুধু যানবাহনের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নাগরিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে হতাশা ও আমলাতন্ত্রের সমালোচনা

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় গ্লানি উল্লেখ করে সড়ক উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে, অথচ তা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এর প্রধান বাধা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এই আমলাতন্ত্র জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মানবিক দায়িত্ববোধহীনভাবে জনস্বার্থ উপেক্ষা করছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টা

ফাওজুল কবির খান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থার সংস্কার তারই একটি অংশ।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রশিক্ষণভিত্তিক লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু হলে সড়কে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

উপসংহার

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক লাইসেন্স ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অদক্ষ চালক কমবে, দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকালে জরিমানা কত?

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now