বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় যে সমস্যার মুখে পড়তে হয়, তা হলো সরকারি অফিসের জটিলতা ও হয়রানি। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা নিবন্ধন, অনুমোদন, লাইসেন্স ও কাগজপত্রের ঝামেলা অনেক সময় বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বারবার অফিসে যাওয়া, দীর্ঘ অপেক্ষা, দালাল নির্ভরতা—এসব কারণে অনেক উদ্যোক্তাই শুরুতেই হতাশ হয়ে পড়েন।
তবে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান ঘটাতে এবার বড় সুখবর দিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)–এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে ব্যবসা নিবন্ধনের জন্য একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই সব ধরনের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।
এই ঘোষণাকে ঘিরে দেশের উদ্যোক্তা মহলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আশাবাদ।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে আসছে স্টারলিংকের ৮০ অ্যান্টেনার ইন্টারনেট ট্রানজিট হাব
কেন ব্যবসা নিবন্ধনে এত সমস্যা হয়?
বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে গেলে উদ্যোক্তাদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
✅ দীর্ঘ ও জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া।
✅ এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘোরাঘুরি।
✅ ঘুষ ও দালাল নির্ভরতা।
✅ সময় ও অর্থের অপচয়।
✅ সঠিক তথ্যের অভাব।
এসব কারণে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরু করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সরকারের নতুন উদ্যোগ এসব সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল অ্যাপে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
বিডা ও বেজার পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যে সুবিধাগুলো পাবেন—
✅ অনলাইনে নতুন ব্যবসা নিবন্ধন।
✅ সকল আবেদন এক জায়গা থেকে জমা দেওয়ার সুযোগ।
✅ আবেদন অনুমোদনের অগ্রগতি ট্র্যাক করা।
✅ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিজিটালভাবে আপলোড।
✅ অফিসে না গিয়েই অনুমোদন প্রাপ্তি।
এর ফলে সরাসরি সরকারি অফিসে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।
জাতীয় এসএমই পণ্য মেলায় গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
রোববার (৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত সাতদিনব্যাপী জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন—
“দেশে ব্যবসা শুরু করা এখনো জটিল কাজ। নিবন্ধন কার্যক্রম কঠিন। সরকারি অফিসে সরাসরি গেলে উদ্যোক্তারা হয়রানির শিকার হন। এসব সমস্যা উত্তরণে আগামী বছর থেকে অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসা নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হবে।”
এই ঘোষণাকে এসএমই খাতের জন্য একটি বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিল্প পার্ক ও বিসিকে বিনিয়োগে সরকারের জোর
অনুষ্ঠানে শিল্প উপদেষ্টা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন—
✅ বিসিক শিল্প নগরীতে বিনিয়োগ করতে।
✅ বিভিন্ন সরকারি শিল্প পার্কে কারখানা স্থাপন করতে।
✅ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে।
এর ফলে—
✅ পরিকল্পিত শিল্পায়ন সম্ভব হবে।
✅ কৃষি জমির ওপর চাপ কমবে।
✅ কর্মসংস্থান বাড়বে।
সরকার চায়, শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক গতি আরও শক্তিশালী হোক।
৪০০ এসএমই প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে জমজমাট মেলা
এই জাতীয় এসএমই পণ্য মেলায়—
✅ প্রায় ৪০০টি এসএমই প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
✅ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।
✅ দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
এই মেলা এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
এসএমই খাতে উচ্চ সুদহার: বড় দুশ্চিন্তা
অনুষ্ঠানে বক্তারা এসএমই খাতের বড় একটি সমস্যার কথাও তুলে ধরেন—তা হলো উচ্চ সুদহার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে—
✅ ব্যাংক ঋণে সুদহার প্রায় ১৫ শতাংশ।
✅ এনজিও থেকে ঋণ নিলে সুদ দিতে হয় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত।
✅ এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
যদিও এসএমই ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রম চালু হচ্ছে, তবে সেটির নিয়ম-কানুন জটিল হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা তা ব্যবহার করতে পারছেন না।
নির্বাচন ও বাজার স্থবিরতায় ঋণ বিতরণ কমছে
আলোচকরা আরও বলেন—
✅ সামনে নির্বাচন থাকায় অর্থনীতিতে স্থবিরতা এসেছে।
✅ এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ কমে যাচ্ছে।
✅ বর্তমানে ব্যাংক খাতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।
✅ চাহিদা বাড়লে অর্থনীতির চাকা আবারও সচল হবে।
এসএমই খাতের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সহজ করার দাবি
রপ্তানি করতে হলে উদ্যোক্তাদের বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল।
তাই উদ্যোক্তারা দাবি জানান—
✅ এসএমই খাতের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
✅ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও রপ্তানিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
✅ দেশের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে।
প্রশ্ন–উত্তর
❓ নতুন অ্যাপ কবে থেকে চালু হবে?
👉 সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছর থেকেই অ্যাপটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
❓ এই অ্যাপে কী ব্যবসা নিবন্ধন করা যাবে?
👉 হ্যাঁ, ব্যবসার প্রাথমিক নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনুমোদন অনলাইনে করা যাবে।
❓ এতে কি দালাল নির্ভরতা কমবে?
👉 হ্যাঁ, ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে দালাল নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে।
❓ এসএমই উদ্যোক্তারা কী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?
👉 সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
উপসংহার
সরকারি অফিসের হয়রানি, জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া, উচ্চ সুদহার এবং রপ্তানির নানা বাধা—এসব সমস্যার কারণে বাংলাদেশের এসএমই খাত দীর্ঘদিন ধরে চাপে রয়েছে। তবে ডিজিটাল অ্যাপ চালুর ঘোষণা, শিল্প পার্কে বিনিয়োগে উৎসাহ, এবং এসএমই খাতে সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে—
✅ ব্যবসা নিবন্ধন সহজ হবে।
✅ সরকারি হয়রানি কমবে।
✅ উদ্যোক্তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।
✅ কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু: দাম, স্পিড, সুবিধা
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










