আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন করার নিয়ম(প্রমাণ সহ)

February 10, 2026 9:42 AM
প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন

বাংলাদেশ সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচি। শারীরিক, মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ন্যূনতম জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার এই ভাতা প্রদান করে থাকে।

আগে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে ইউনিয়ন পরিষদ বা সমাজসেবা অফিসে বারবার যেতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করা যায়। এই ব্লগ পোস্টে আমরা সহজ ভাষায় জানবো—কে আবেদন করতে পারবেন, কী কী প্রমাণ লাগবে, অনলাইনে আবেদন করার ধাপ, আবেদন করার পর কী হয় এবং কীভাবে ভাতা পাওয়া যায়—সবকিছু এক জায়গায়।

আরও পড়ুন-অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা লিস্ট বের করা নিয়ম (আপডেট)

প্রতিবন্ধী ভাতা কী

প্রতিবন্ধী ভাতা হলো সরকার প্রদত্ত একটি মাসিক আর্থিক সহায়তা, যা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রদান করা হয়। এই ভাতার উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, খাদ্য, যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে সহায়তা করা।

এই ভাতা সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়, যাতে কোনো ধরনের মধ্যস্থতা বা ভোগান্তি না থাকে।

কারা প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন

প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।

  • আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

  • আবেদনকারীকে সরকার স্বীকৃত প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে।

  • প্রতিবন্ধিতা সনদ থাকতে হবে।

  • আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ৬ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

  • আবেদনকারী দরিদ্র বা নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য হতে হবে।

এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আবেদন গ্রহণ করা হয় না।

প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র লাগবে। এগুলো আবেদন যাচাইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক।

  • প্রতিবন্ধী সনদ (সরকার অনুমোদিত)।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ।

  • প্রতিবন্ধী নিবন্ধন নম্বর।

  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

  • ব্যাংক হিসাব নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য।

  • ঠিকানার তথ্য (জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন)।

এই কাগজপত্রগুলো সঠিক না হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করার আগে যা জানা জরুরি

অনলাইনে আবেদন করার আগে কিছু বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা থাকা দরকার।

  • আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়।

  • একজন ব্যক্তি একাধিক সামাজিক ভাতা একসঙ্গে পেতে পারেন না।

  • আবেদন জমা দিলেই ভাতা নিশ্চিত হয় না; যাচাই শেষে তালিকাভুক্ত হতে হয়।

  • ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আবেদন করা উচিত।

ধাপে ধাপে অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করার নিয়ম

বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করে অনলাইনে আবেদন করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো।

ধাপ ১ আবেদন পোর্টালে প্রবেশ

প্রথমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অনলাইন আবেদন সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে। এখানে নতুন আবেদনকারীদের জন্য আলাদা আবেদন ফর্ম থাকে।

ধাপ ২ ভাতার ধরন নির্বাচন

আবেদন ফর্মের শুরুতেই ভাতার ধরন নির্বাচন করার অপশন থাকে। এখান থেকে “প্রতিবন্ধী ভাতা” নির্বাচন করতে হবে।

ধাপ ৩ ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান

এই ধাপে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয়।

  • নাম।

  • পিতার নাম ও মাতার নাম।

  • জন্ম তারিখ।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর।

  • লিঙ্গ ও বৈবাহিক অবস্থা।

সব তথ্য অবশ্যই সনদ অনুযায়ী দিতে হবে।

ধাপ ৪ প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত তথ্য প্রদান

এই অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

  • প্রতিবন্ধিতার ধরন নির্বাচন করতে হবে।

  • প্রতিবন্ধী সনদের নম্বর দিতে হবে।

  • প্রতিবন্ধিতা সনদ ইস্যুর তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

  • নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।

এই তথ্যগুলো দিয়েই আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করা হয়।

ধাপ ৫ ঠিকানা ও যোগাযোগ তথ্য পূরণ

এখানে আবেদনকারীর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দিতে হয়।

  • জেলা।

  • উপজেলা।

  • ইউনিয়ন বা পৌরসভা।

  • গ্রাম বা ওয়ার্ড।

সঠিক ঠিকানা দিলে স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই সহজ হয়।

ধাপ ৬ ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য প্রদান

ভাতা সরাসরি পাওয়ার জন্য আর্থিক তথ্য দিতে হয়।

  • ব্যাংকের নাম।

  • শাখার নাম।

  • হিসাব নম্বর।

অথবা

  • মোবাইল ব্যাংকিং সেবা।

  • নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।

ধাপ ৭ আবেদন যাচাই ও জমা

সব তথ্য পূরণ করার পর আবেদনটি একবার ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

  • ভুল থাকলে সংশোধন করতে হবে।

  • সব তথ্য ঠিক থাকলে আবেদন জমা দিতে হবে।

আবেদন সফলভাবে জমা হলে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়া যায়।

আবেদন করার পর কী হয়

আবেদন জমা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ভাতা পাওয়া যায় না।

  • আবেদনটি স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে পাঠানো হয়।

  • ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে যাচাই করা হয়।

  • যাচাই শেষে যোগ্যদের তালিকা তৈরি করা হয়।

  • অনুমোদিত আবেদনকারীদের ভাতা প্রদান শুরু হয়।

এই প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগতে পারে।

প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ ও প্রদানের নিয়ম

বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা সরকার নির্ধারিত হারে মাসিক প্রদান করা হয়।

  • ভাতা সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে দেওয়া হয়।

  • নির্দিষ্ট সময় পরপর টাকা একসঙ্গে প্রদান করা হতে পারে।

  • টাকা সরাসরি আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

ভাতার পরিমাণ সময়ের সঙ্গে সরকার পরিবর্তন করতে পারে।

সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে কিছু সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

  • প্রতিবন্ধী সনদ না থাকলে আগে সনদ করতে হবে।

  • ভুল এনআইডি নম্বর দিলে আবেদন গ্রহণ হয় না।

  • ব্যাংক তথ্য ভুল হলে টাকা পাওয়া যায় না।

এই ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে সহায়তা পাওয়া যায়।

প্রশ্ন–উত্তর

প্রশ্ন: প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন কি বিনামূল্যে।
উত্তর: হ্যাঁ, আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়।

প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন করলে কি অফিসে যেতে হবে।
উত্তর: যাচাইয়ের প্রয়োজনে অফিসে ডাকতে পারে।

প্রশ্ন: কবে থেকে ভাতা পাওয়া শুরু হয়।
উত্তর: আবেদন অনুমোদনের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী।

উপসংহার

প্রতিবন্ধী ভাতা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা উদ্যোগ। অনলাইনে আবেদন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এখন ঘরে বসেই সহজভাবে আবেদন করা সম্ভব। সঠিক প্রমাণপত্র ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে যাচাই শেষে ভাতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই যোগ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উচিত সময়মতো অনলাইনে আবেদন করে এই সরকারি সহায়তা গ্রহণ করা।

আরও পড়ুন-প্রতিবন্ধী ভাতা কখন দেওয়া হবে? আপডেট তথ্য, যোগ্যতা ও পাওয়ার নিয়ম

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now