পেট ভরা থাকলেও প্রিয় খাবার দেখলে খেতে ইচ্ছে করে কেন?
পেট ভরা থাকলেও খেতে ইচ্ছে করে কেন
পেট ভরা থাকার পরও প্রিয় খাবার সামনে এলে অনেকেরই আবার খেতে ইচ্ছে করে। এটি সবসময় প্রকৃত ক্ষুধার লক্ষণ নয়। খাবারের গন্ধ, দৃশ্য, স্বাদ, অভ্যাস এবং মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে এমনটা হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে অনেক সময় ‘হেডোনিক হাঙ্গার’ (Hedonic Hunger) বলা হয়।
সাধারণ ক্ষুধা মূলত শরীরের শক্তির প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় না খেলে বা শরীরে শক্তির ঘাটতি তৈরি হলে মস্তিষ্ক খাবারের সংকেত দেয়। অন্যদিকে পেট ভরা থাকার পরও শুধু সুস্বাদু বা পছন্দের খাবার খেতে ইচ্ছে করলে সেটি অনেকটা আনন্দ বা আকর্ষণনির্ভর খাওয়ার প্রবণতা।
পেট ভরে গেলে পাকস্থলী ও শরীরের বিভিন্ন সংকেত মস্তিষ্ককে তৃপ্তির বার্তা দেয়। কিন্তু একই সময়ে পছন্দের খাবারের ছবি দেখা, গন্ধ পাওয়া কিংবা খাবারটি চোখের সামনে উপস্থিত হওয়া মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থাকে সক্রিয় করতে পারে। ফলে প্রকৃত ক্ষুধা না থাকলেও খাবারটির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়।
বিশেষ করে মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত সুস্বাদু খাবার অনেকের ক্ষেত্রে বেশি আকর্ষণ তৈরি করে। এসব খাবার খাওয়ার সঙ্গে আনন্দের অনুভূতি জড়িয়ে গেলে মস্তিষ্ক পরবর্তী সময়ে একই ধরনের খাবার দেখলেও সেটি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি করতে পারে।
খাবারের গন্ধও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো রেস্টুরেন্টের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পছন্দের খাবারের গন্ধ পেলে হঠাৎ ক্ষুধা অনুভূত হওয়ার মতো লাগতে পারে। বাস্তবে তখন শরীরের শক্তির প্রয়োজন নাও থাকতে পারে; বরং খাবারের গন্ধ ও আগের অভিজ্ঞতা মস্তিষ্ককে খাবারের কথা মনে করিয়ে দেয়।
অভ্যাসও পেট ভরা থাকার পর খাওয়ার ইচ্ছার একটি বড় কারণ। প্রতিদিন বিকেলে চায়ের সঙ্গে বিস্কুট বা রাতে খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতি নিজেই খাবারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে পারে। তখন ক্ষুধার চেয়ে অভ্যাস বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
মানসিক অবস্থার সঙ্গেও বিষয়টির সম্পর্ক রয়েছে। একঘেয়েমি, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা মন খারাপের সময় কেউ কেউ ক্ষুধা না থাকলেও পছন্দের খাবার খেতে চান। কারণ খাবার সাময়িকভাবে আনন্দ বা স্বস্তির অনুভূতি দিতে পারে। এ ধরনের প্রবণতাকে সাধারণভাবে ইমোশনাল ইটিং বলা হয়।
আবার খাবারের বৈচিত্র্যও গুরুত্বপূর্ণ। একটি খাবার খেয়ে পেট ভরে গেলেও সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় খাবার এলে সেটি খেতে ইচ্ছে করতে পারে। খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও অনুভূতির পরিবর্তন মস্তিষ্কে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
তবে মাঝে মধ্যে পেট ভরা অবস্থায় পছন্দের খাবার খেয়ে ফেললে সাধারণত তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সমস্যা তৈরি হতে পারে তখনই, যখন ক্ষুধা না থাকলেও নিয়মিত অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। এতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই খাবার সামনে এলে প্রথমে বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে—শরীর সত্যিই ক্ষুধার্ত, নাকি শুধু খাবারটি দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করা, পানি পান করা এবং নিজের ক্ষুধার মাত্রা বোঝার চেষ্টা করলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।
যদি ক্ষুধা না থাকলেও নিয়মিত অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় বা খাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
