পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় খালের পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখা, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও মশার প্রজননস্থল কমাতে অবৈধ জাল ও পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বাঁশের খুঁটি অপসারণে অভিযান শুরু করেছে কুয়াকাটা পৌরসভা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) লতাচাপলী স্লুইজ থেকে মেয়র মার্কেট পর্যন্ত খালে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ও বাঁশের খুঁটি অপসারণ করা হয়। পৌরসভার কর্মীরা নৌকায় করে খালে নেমে বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা জাল ও বাঁশের খুঁটি তুলে ফেলেন।

অভিযানে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন অংশে জাল পেতে মাছ ধরার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘসময় পানি আটকে থাকায় দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কুয়াকাটার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নবীনপুর খালটি একসময় খরস্রোতা থাকলেও বর্তমানে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। শহরের পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এ খালটি বর্তমানে অনেকটাই মৃতপ্রায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থাপনার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নবীনপুর খালপাড়ের বাসিন্দা নোমান শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানি আটকে থাকায় এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধের কারণে বাড়িতে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খালের পচা পানি খেয়ে হাঁস-মুরগিও মারা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জাল ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। খাল পরিষ্কার ও অবৈধ জাল অপসারণের উদ্যোগটি ভালো ও প্রশংসনীয়। তবে একবার পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিয়মিত খাল পরিষ্কার রাখা এবং পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি খালের দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পরিবেশকর্মী কে এম বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন খালের পানি আটকে থাকায় দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ জাল অপসারণ ও খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

তবে খালটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও জানান তিনি।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, লতাচাপলী স্লুইজ থেকে মেয়র মার্কেট পর্যন্ত যত অবৈধ জাল ছিল, সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কুয়াকাটার পুরো খাল অবৈধ জালমুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, এসব জাল মৎস্যসম্পদের জন্য ক্ষতিকর এবং পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে। মশক নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পৌরসভা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে অবৈধ জাল ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে পুরো খাল পরিষ্কার করা হবে। খালের পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!