খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাঙালিদের মালিকানাধীন জমি দখল করে ক্যাংঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রসিকনগর গোলছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, দীঘিনালা উপজেলা শাখা।
সংগঠনটির অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন পাহাড়ি ব্যক্তি বাঙালিদের জমিতে ক্যাংঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কাজে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতারা জানান, রসিকনগর গোলছড়ি এলাকায় এর আগেও একই ধরনের স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। নতুন করে ক্যাংঘর নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসায় স্থানীয় ভূমির মালিকানা ও জমির অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের বৈধ মালিকানাধীন জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নেতারা আরও বলেন, পার্বত্য এলাকায় ভূমি নিয়ে বিরোধ অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ও বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।
তাদের দাবি, রসিকনগর গোলছড়ি এলাকায় যে জমিতে ক্যাংঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে, সেটির মালিকানা, জমির কাগজপত্র এবং নির্মাণের বৈধতা যাচাই করা হোক। পাশাপাশি নির্মাণকাজের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কোনো প্রভাবশালী বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, জমি নিয়ে বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে বিষয়টি সামাজিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। এ কারণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং উভয় পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভূমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, খাসজমি কিংবা বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এসব ঘটনায় সঠিক তথ্য যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান না হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রসিকনগর গোলছড়িতে ক্যাংঘর নির্মাণ নিয়ে ওঠা অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। সংগঠনটির মতে, তদন্তে জমির প্রকৃত মালিকানা ও স্থাপনা নির্মাণের বৈধতা স্পষ্ট হলে বিরোধের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সহজ হবে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ভূমি বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!