চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের সংকটের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৩ হাজার ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট প্রদান করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। এ সময় তিনি জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি, রোগী শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জাতীয়ভাবে একটি সেল গঠন করেছে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে শুধু রিপোর্টিং বা তথ্য সংগ্রহের মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার চিত্র উদ্বেগজনক। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসার নেই। এর ফলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জেলার শহর এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অনেক তরুণ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে জেলা পর্যায়ে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে সব মৃত্যুর তথ্য প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নূরুল ইসলাম বুলবুলের দাবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর অবস্থা জটিল হলে অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী কিংবা ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হলে সেই মৃত্যুর তথ্য অনেক সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না। ফলে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সরকারি পরিসংখ্যানে পুরোপুরি উঠে আসছে না বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, গত সাত দিনে দুইজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তাই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, প্রকৃত পরিস্থিতি জানা না গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা কঠিন হবে। তাই জেলা থেকে অন্যত্র চিকিৎসার জন্য পাঠানো রোগীদের তথ্য এবং পরবর্তী সময়ে তাদের চিকিৎসার ফলাফলও স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ৩ হাজার কিট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব কিট ডেঙ্গু শনাক্তকরণে হাসপাতালে আগত রোগীদের পরীক্ষায় সহায়তা করবে।
কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুল হাকিম, আরএমও ডা. মাহবুবু হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুখলেসুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু বক্কর, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ আব্দুল আলীম এবং পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ গোলাম রাব্বানীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!