খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময়ের অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট রয়েছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) সদর দপ্তরের মাঠে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। গুইমারা বিজিবি সেক্টরের উদ্যোগে এবং রামগড় ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিবি জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট ও চোরাই পথে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, বিয়ার, বাংলা মদ, ইয়াবা, গাঁজা, বিভিন্ন মাদকজাতীয় ট্যাবলেট ও চোরাই সিগারেট।

জব্দ করা মাদকের মধ্যে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) ধ্বংস করেছে ৫৯৬ বোতল ফেনসিডিল, ৩ হাজার ৭৮২ বোতল ভারতীয় মদ, ৭০ বোতল ও ১৩৩ ক্যান বিয়ার, ১৫ লিটার বাংলা মদ, ১২ হাজার ৭২০ পিস ইয়াবা এবং প্রায় ৬৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা।

খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) ধ্বংস করেছে ৪৩০ বোতল মদ, ১৭৫ ক্যান বিয়ার, ১১ কেজির বেশি গাঁজা, ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৩ পিস বিভিন্ন মাদকজাতীয় ট্যাবলেট এবং ৫ হাজার ৩০৯ প্যাকেট চোরাই সিগারেট।

এ ছাড়া যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) ৪৪৬ বোতল ভারতীয় মদ, ৩৪ বোতল ও ২৪ ক্যান বিয়ার, ৩ দশমিক ৫ লিটার বাংলা মদ, মদ তৈরিতে ব্যবহৃত ৫২০ পিস বিশেষ ট্যাবলেট, ১ হাজার ৩৯৬ পিস ইয়াবা এবং ৩০ কেজি গাঁজা ধ্বংস করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিজিবি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহেল আহমেদ, পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ের দুর্গম সীমান্তপথকে কাজে লাগিয়ে মাদক পাচারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, পিএসসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গুইমারা বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মিজানুর রহমান, খেদাছড়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ শাহীনুল ইসলাম, রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, খাগড়াছড়ি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!