সাইবার প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকতে ওটিপি (OTP), পিন (PIN), পাসওয়ার্ডসহ ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেনের কোনো গোপন তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার। তিনি বলেছেন, সচেতনতা ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অনেক সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া জনসচেতনতামূলক বার্তায় বলা হয়েছে, সাধারণ সাইবার অপরাধের একটি বড় অংশই প্রতারণার মাধ্যমে শুরু হয়। প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে মানুষের কাছ থেকে ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড কিংবা অন্যান্য গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কখনো তারা ব্যাংক, বিকাশ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠান, এমনকি পুলিশ বা প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও এসব তথ্য জানতে চায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একবার প্রতারকের কাছে নিজের পিন বা ওটিপি দিয়ে দিলে তার আর্থিক অ্যাকাউন্টে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে ফোনকল, মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে কেউ এসব গোপন তথ্য চাইলে তা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য ও সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, অতিরিক্ত লাভের আশায় অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কোনো প্রস্তাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অপরিচিত লিংকে প্রবেশ, ফোনকলের মাধ্যমে দেওয়া অফার গ্রহণ কিংবা অনলাইনে কোনো আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই করতে হবে।
পুলিশ সুপার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নওগাঁ জেলা পুলিশের কাছে সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ আসছে। এসব ঘটনায় কেউ অতিরিক্ত লাভের আশায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন, আবার কেউ যাচাই-বাছাই না করে অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করে প্রতারিত হয়েছেন। চাকরি দেওয়ার কথা বলেও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতারকরা কখনো পুলিশের ছবি বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার ছবি ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করার চেষ্টা করছে। আবার কখনো মামলা বা আইনি ঝামেলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়েও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কৌশল থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে নওগাঁ জেলা পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রতারকরা প্রথমে একজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আবারও টাকা পাঠাতে বলে। ভুল হয়েছে বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগের সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে—এমন কথা বলে দ্বিতীয় দফায় অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের কৌশলেও নওগাঁ জেলার অনেক মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনলাইনে বা মোবাইল ফোনে কোনো ব্যক্তি আর্থিক বিষয়ে সন্দেহজনক প্রস্তাব দিলে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার নওগাঁবাসীর উদ্দেশে সতর্ক করে বলেন, ওটিপি, পিন ও পাসওয়ার্ড সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য। এগুলো কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লাভের প্রলোভন থেকে দূরে থেকে যেকোনো অনলাইন প্রস্তাব যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
নওগাঁ জেলা পুলিশের বার্তায় বলা হয়েছে, “OTP আপনার, PIN আপনার—কখনোই কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।” নিজের গোপন তথ্য নিজের কাছে রেখে এবং সচেতনভাবে অনলাইন লেনদেন করার মাধ্যমে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সচেতনতা, সতর্কতা এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসই সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায়। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রতারণার কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!