বাংলাদেশের কৃষি খাতের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখা এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি অর্থবছরেই সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ সার সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ভর্তুকির আওতায় বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে ইউরিয়া-বহির্ভূত সার—টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সংগ্রহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি, ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবতার নিরিখে এ পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।
আগ্রহী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে নিজস্ব প্যাডে প্রস্তুত করা প্রস্তাব জমা দিতে হবে। প্রস্তাব বাংলাদেশ সচিবালয়ের নির্ধারিত বাক্স অথবা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন—বিএডিসির সদস্য-পরিচালকের কার্যালয়ে রাখা বাক্সে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিটি ধরনের সারের জন্য সর্বোচ্চ একটি প্রস্তাব দিতে পারবে। প্রস্তাবে দেশভিত্তিক সারের মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। একই দেশের বিপরীতে একাধিক দর উল্লেখ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বাতিল বলে গণ্য হবে।
নির্দিষ্ট পরিমাণ সারের জন্য একাধিক প্রস্তাবকারীর দর সমান হলে সমহারে বণ্টনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা হবে। চূড়ান্ত নির্বাচন ও সরবরাহ আদেশ জারির সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক ঋণপত্র বা এলসি স্থাপন করে জামানতের অর্থ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আর্থিক শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক সুদের হার সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। স্থানীয় ব্যাংক চার্জ প্রতি টনে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং আমদানিকারকের মুনাফা ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্যাদেশপ্রাপ্ত আমদানিকারক যেদিন ঋণপত্র খুলবেন, সেদিন সোনালী ব্যাংকের ‘বিসি সেলিং রেট’ অনুযায়ী মার্কিন ডলার ও টাকার বিনিময় হার চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। পরবর্তীতে এই ডলার রেটের ভিত্তিতেই আমদানিকারকদের ভর্তুকির হিসাব করা হবে।
প্রতিটি প্রস্তাবে সারের পরিমাণের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিএপি সারের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ হাজার মেট্রিক টন, এর সঙ্গে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত পরিমাণ; টিএসপির জন্য সর্বোচ্চ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, এর সঙ্গে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত এবং এমওপির জন্যও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, এর সঙ্গে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত পরিমাণ প্রস্তাব করা যাবে।
সরবরাহ আদেশ প্রদানের ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সার জাহাজীকরণ বা শিপমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিপমেন্ট সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
আমদানিকৃত সার গুদামজাত ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অনুপাত অনুসরণ করতে হবে। মোট সারের মধ্যে চট্টগ্রাম মোকামে ৬ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জে ২৮ শতাংশ, নগরবাড়ীতে ৩৯ শতাংশ এবং নোয়াপাড়ায় ২৭ শতাংশ সার সংরক্ষণের নিয়ম রাখা হয়েছে।
প্রস্তাব দাখিলের সময় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হালনাগাদ নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর রিটার্ন, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন এবং আর্থিক সক্ষমতার সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাডে ‘Manufacturer Certificate’ দাখিল করতে হবে। ওই সার্টিফিকেটে সারের নির্দিষ্ট মান, মানদণ্ড এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের নিশ্চয়তা উল্লেখ থাকতে হবে।
সার বন্দরে পৌঁছানোর পর জাহাজের আগমন ক্রম অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সার উত্তোলনের পর সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালকের প্রত্যয়নপত্র এবং নিযুক্ত অডিট ফার্মের মাধ্যমে অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এরপর চূড়ান্ত ভর্তুকি ছাড়ের জন্য অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার সংগ্রহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত ও নিয়ম মেনেই সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের প্রস্তাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো প্রস্তাব গ্রহণ বা বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করেছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!