আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবেগঘন বিদায়বার্তা দিয়েছেন দলের এক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়। দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলা, কঠিন সময়, বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার মতো বড় অর্জনের কথা স্মরণ করে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসে গেছে বলে মনে করছেন।

আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, এই জার্সির জন্য দুই দশক ধরে সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্যেও লড়াই থামাননি। সবসময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সুযোগকে জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখেছেন।

জাতীয় দলের সঙ্গে আর থাকতে না পারার বিষয়টি তাকে কষ্ট দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ থাকলে সারাজীবন আর্জেন্টিনার জার্সিতেই থাকতে চাইতেন। কারণ দেশের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর কিছু তার কাছে নেই।

বিদায়ের এই মুহূর্তে আবেগ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, এই মুহূর্তটি শেষ হয়ে যাক—এমনটা তিনি চান না। তবে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তার মনে হচ্ছে, অবসর নেওয়ার সময় এসে গেছে।

শেষ বিশ্বকাপের স্মৃতিও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। তিনি জানান, বিশ্বকাপে ফাইনালে পৌঁছানোর সময় দলের ভেতরে খুব সামান্য শক্তি অবশিষ্ট ছিল। তারপরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে দলটি। কারণ কঠিন পরিস্থিতিতেও লড়াই করে যাওয়াই ছিল তাদের বৈশিষ্ট্য।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি শুধু তার ব্যক্তিগত স্বপ্ন ছিল না; পুরো আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ছিল আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিশ্বকাপের পাশাপাশি কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের অভিজ্ঞতার জন্যও জাতীয় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সাফল্যের এই যাত্রাকে শুধু ২০২২ সালের বিশ্বকাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি তিনি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বহু আগে যারা জাতীয় দলের হয়ে লড়াই করেছেন, তাদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তার মতে, আর্জেন্টিনার হয়ে সতীর্থদের ত্যাগ ও লড়াই নিয়ে কখনোই সন্দেহ থাকার সুযোগ নেই।

সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়াকে নিজের জন্য বড় সম্মান ও সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ফুটবলের বাইরেও তাদের সঙ্গে জীবনের অনেক মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেন। তার বিশ্বাস, পাশে থাকা সতীর্থদের কারণেই যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার আত্মবিশ্বাস পেয়েছে দল।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে শক্তিশালী দলের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। কঠিন সময়েই একটি দলের প্রকৃত শক্তি বোঝা যায় উল্লেখ করে বলেন, আর্জেন্টিনার বড় অর্জনগুলোর পেছনে দলের ঐক্য ও একে অপরের প্রতি বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন শহরে খেলার সময় পাওয়া ভালোবাসার কথা স্মরণ করে বলেন, বিশ্বের যেখানেই আর্জেন্টিনা খেলেছে, সেখানেই স্টেডিয়ামগুলো সমর্থকে পূর্ণ হয়েছে। দূরত্ব ও নানা বাধা পেরিয়ে সমর্থকেরা দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

জাতীয় দলের কঠিন সময়ে সমর্থকদের আরও বেশি পাশে থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে সমর্থকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়—এমন মানুষদের কোনো সুযোগ না দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এই স্টেডিয়ামেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সেটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি। আর আজকের দিনটি তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি হয়ে থাকবে, কারণ এখান থেকেই তিনি বিদায় জানাচ্ছেন।

ভবিষ্যতেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় দলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়দের সমর্থন করে যাবেন। বিদায়ের মুহূর্তে অনেক কথা বলতে ভুলে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে নিজের বাবার কথা মনে পড়ছে বলে আবেগঘন বক্তব্যে জানান।

শেষে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা তিনি ভীষণভাবে মিস করবেন। দেশের মানুষকে ভালোবাসেন এবং আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত। জাতীয় দলকে বিদায় নিচ্ছেন কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও শান্তি নিয়ে—এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!