বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হলে পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি নির্ধারিত ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ থেকে শুরু করে ফি পরিশোধ, পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান এবং শেষ পর্যন্ত পাসপোর্ট সংগ্রহ—প্রতিটি ধাপেই আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সরকারি নির্দেশনায় নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়াকে পাঁচটি প্রধান ধাপে ভাগ করা হয়েছে।
ই-পাসপোর্টের আবেদন শুরু করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনকারীর বর্তমানে বসবাসরত এলাকায় সংশ্লিষ্ট ই-পাসপোর্ট সেবা চালু রয়েছে। আবেদনকারী যে এলাকার বাসিন্দা বা বর্তমানে যে ঠিকানায় বসবাস করছেন, সেই এলাকার জন্য নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিস বা সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তাই অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু করার আগে নিজের জন্য প্রযোজ্য অফিস নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, ঠিকানা, পেশা, যোগাযোগের নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়। আবেদন ফরমে দেওয়া তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের সঙ্গে মিলিয়ে পূরণ করতে বলা হয়েছে। ভুল তথ্য দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও সরকারি আবেদন ফরমে উল্লেখ রয়েছে।
নতুন পাসপোর্টের পাশাপাশি আগের পাসপোর্টের রি-ইস্যুর জন্যও একই আবেদন ব্যবস্থায় তথ্য দিতে হয়। রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং রি-ইস্যুর কারণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। আগের পাসপোর্টের তথ্যে কোনো পরিবর্তন না থাকলে সরকারি ফরমে এ ধরনের আবেদনের জন্য নির্দিষ্টভাবে কম তথ্য পূরণের নির্দেশনাও রয়েছে।

অনলাইন আবেদন করার সময় পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা, মেয়াদ এবং বিতরণের ধরনও নির্বাচন করতে হয়। আবেদনকারীকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন করতে হবে। কারণ এসব তথ্যের ওপর আবেদনের ধরন ও প্রযোজ্য ফি নির্ভর করে।
অনলাইন ফরম পূরণ করে আবেদন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করতে হয়। পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা, মেয়াদ এবং সেবার ধরন অনুযায়ী ফি আলাদা হতে পারে। ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং পেমেন্টের প্রমাণ বা প্রয়োজনীয় রসিদ সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধের আগে প্রযোজ্য সর্বশেষ সরকারি ফি যাচাই করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ফি পরিশোধের পর তৃতীয় ধাপের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়। সেখানে আবেদনকারীর পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ করা হয়। সাধারণভাবে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের সময় ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হয়। আবেদন করার সময় যে পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করা হয়েছে, সেই অফিসেই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন।

পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় আবেদনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা জরুরি। আবেদনকারীর বয়স, আবেদনের ধরন, আগের পাসপোর্ট থাকা বা না থাকা এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। তাই বায়োমেট্রিকের জন্য যাওয়ার আগে নিজের আবেদনের ক্ষেত্রে কোন নথি প্রয়োজন, তা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে নেওয়া উচিত।
বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগিয়ে যায়। এ পর্যায়ে আবেদনকারীর করণীয় হলো আবেদনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কোনো নির্দেশনা বা তথ্য পেলে তা অনুসরণ করা। আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
পাঁচ ধাপের শেষ ধাপে প্রস্তুত হওয়া ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হয়। পাসপোর্ট প্রস্তুত হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস থেকে তা গ্রহণ করতে হয়। এ সময় আবেদনসংক্রান্ত রসিদ বা ডেলিভারি স্লিপসহ প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখতে হতে পারে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে পাসপোর্ট সংগ্রহ করাই নিরাপদ।
ই-পাসপোর্টের পুরো প্রক্রিয়াটি তাই মূলত পাঁচটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়—নিজের এলাকায় সেবা চালু আছে কি না নিশ্চিত করা, অনলাইনে আবেদন করা, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা, পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়া এবং শেষে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা। প্রতিটি ধাপে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় ভুলের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
আবেদনকারীদের মনে রাখা প্রয়োজন, ই-পাসপোর্টের নিয়ম, ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা সেবার পদ্ধতিতে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে অনলাইনে আবেদন করার সময় অননুমোদিত ওয়েবসাইট, দালাল বা অন্য কোনো ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করাই নিরাপদ।
যারা প্রথমবার ই-পাসপোর্ট করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি একসঙ্গে জটিল মনে হলেও ধাপে ধাপে এগোলে কাজটি অনেক সহজ। আবেদন শুরুর আগে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য, ঠিকানা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পাসপোর্টের ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে আবেদন করলে সময় ও ঝামেলা দুটিই কমানো সম্ভব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!