কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযানে ভারতীয় মদ ও মোটরসাইকেলসহ তিন তরুণকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে সীমান্ত এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় তিন কেজি ভারতীয় গাঁজাও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর উপজেলার পাকুড়িয়া পাকা সড়কে অভিযান চালায় জামালপুর বিওপির একটি টহল দল। অভিযানের সময় ভারতীয় দুই বোতল মদ ও একটি মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
আটক তিনজনের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পরিচয় উল্লেখ করা হলেও তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ না করাই সমীচীন। জব্দ করা ভারতীয় মদ ও মোটরসাইকেলের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
প্রাথমিকভাবে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য আনা-নেওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সন্দেহজনক চলাচল ও চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওই তিন তরুণকে আটক করা হয়।
এদিকে একই রাতে সীমান্তের আরেকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে বিজিবি। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ধলা বিওপির একটি টহল দল দৌলতপুর উপজেলার ধলা মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি জানায়, অভিযানের সময় সীমান্তবর্তী মাঠে মালিকবিহীন অবস্থায় একটি প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সেটি তল্লাশি করে ২ কেজি ৯০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ হাজার ১৫০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
তবে উদ্ধার করা গাঁজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কারা ওই মাদক সেখানে রেখে গেছে এবং এটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তা জানতে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
দুটি অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং উদ্ধার ও জব্দ করা মালামালের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রমের জন্য এসব বিষয় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্যের প্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধে নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় মাদকদ্রব্যের প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল ও অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হয়ে থাকে। দুর্গম সীমান্ত এলাকা, মাঠ ও সড়কপথে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচল, মাদক পরিবহন বা চোরাচালানসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হতে পারে।
বিজিবির সর্বশেষ অভিযানে একদিকে ভারতীয় মদ ও একটি মোটরসাইকেলসহ তিনজন আটক হয়েছে, অন্যদিকে পৃথক অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় তিন কেজি ভারতীয় গাঁজা। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বিজিবি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!