লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মধ্য চরলক্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর ছিদ্দিক প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যস্থতা করে বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই তাকে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে দেখতে পান না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের নামে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ১৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা এবং চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৭৮ জন শিক্ষক ও প্রার্থীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অর্থ নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় আবেদন, রেজুলেশন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এ ছাড়া সরকারি রাস্তা নির্মাণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ফাইল অনুমোদন এবং জমি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের কথা বলেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করে অভিযোগকারীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. আবু বকর ছিদ্দিক প্রধানিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনও এখনো প্রকাশিত হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন সরকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা রায়পুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সরকারি চাকরির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অভিযোগের প্রকৃত তথ্য বের করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!