লিটন সরকার রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় ‘সালেহা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে বিজিবি ক্যাম্পের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ‘সালেহা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. আবু হানিফ উজ্জল কোনো বৈধ লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।
এ সময় স্বত্বাধিকারী প্রশাসনকে জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে লাইসেন্স বা অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বৈধতা না থাকায় প্রশাসন সেটি সিলগালা করে দেয়।
অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির বৈধ লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এলাকায় ভুয়া চিকিৎসকের বিষয়ে প্রশাসনের আরও নজরদারি ও খোঁজখবর নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এ ছাড়া স্থানীয় এক ব্যক্তি রৌমারীতে বিভিন্ন চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রচারে অতিরিক্ত মাইকিংয়ের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত মাইকিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাভাবিক পরিবেশে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও।
প্রশাসনের এ অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সামাদ, স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ অনুমোদন থাকা জরুরি। নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত থাকলে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!