লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অর্পিত সম্পত্তি ইজারা বাবদ আদায় করা ১২ লাখ ৭ হাজার ৯১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অনাদায়ী অর্থ আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়। গত বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার গোলাম মুস্তাফা মুন্নার স্বাক্ষরিত ওই চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষায় রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসে অর্পিত সম্পত্তি ইজারা বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত দুই কর্মচারী হলেন রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এবং বর্তমানে একই অফিসে সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) হিসেবে কর্মরত মো. নকিব হোসেন শান্ত। জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে জেলার রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের চিঠি অনুযায়ী, রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষায় সরকারি লিজের দুটি খাতে অর্থ জমা না দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি খাতে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩০ টাকা এবং অন্য খাতে ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ টাকা আদায় করা হলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ জমা না দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অনাদায়ী অর্থ দ্রুত আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়কে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অন্যদিকে, মো. নকিব হোসেন শান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ভুলবশত তা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এ কারণেই অডিট আপত্তি উঠেছে।”
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুদে বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে বলেন। তবে পরবর্তীতে পাঠানো বার্তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসান চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!