কৃষি সমবায় ও গ্রামীণ অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমবায় অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তা। ভারতের ওড়িশায় অবস্থিত কিট (KIIT) বিশ্ববিদ্যালয়ের কিট স্কুল অব রুর্যাল ম্যানেজমেন্টে চার দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের পর গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রশাসন শাখা-২ থেকে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে মনোনীত তিন কর্মকর্তা হলেন খুলনা জেলার সমবায় কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, কুমিল্লায় অবস্থিত বাংলাদেশ সমবায় একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মো. সীমান্ত বুলবুল এবং ময়মনসিংহ জেলার সমবায় কর্মকর্তা মো. সালিম মিঞা।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ডেভেলপমেন্ট অব দ্য ম্যানেজেরিয়াল স্কিলস ফর এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভস অ্যান্ড রুর্যাল ফাইন্যান্সিং ইনস্টিটিউশনস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি আগামী ৬ থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কৃষি সমবায় ও গ্রামীণ অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা আরও উন্নত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।
সরকারি আদেশে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের জন্য বেশ কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বলা হয়েছে, ভ্রমণের সময় বাদ দিয়ে প্রশিক্ষণ চলাকালীন পুরো সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্বের কর্মকালীন সময় বা ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য হবে। তারা নিজ নিজ বেতন ও ভাতা দেশীয় মুদ্রায় উত্তোলন করবেন। এর কোনো অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় গ্রহণ করা যাবে না।
সরকারি আদেশে সফরের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সব ব্যয় যৌথভাবে বহন করবে আফ্রো-এশিয়ান রুর্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (AARDO) এবং সিআইসিটিএবি (CICTAB)। ফলে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকবে না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত বিদেশে অবস্থান করার সুযোগ থাকছে না কর্মকর্তাদের। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরার পর অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রশাসন শাখা-২ থেকে জারি করা এ সরকারি আদেশে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বাক্ষর করেছেন। আদেশটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনিক শাখায় অবগতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি সমবায় ও গ্রামীণ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশে সমবায় কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, গ্রামীণ অর্থায়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!