বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো সোনালি আঁশ পাট। পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন, নতুন জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিজেআরআই। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে এবার একটি ট্র্যাক্টর ও একটি রোটাভেটর ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও বিভাগীয় প্রাক্কলন মূল্য নির্ধারণের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সংগ্রহ ও বিক্রয় শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি অফিসিয়াল চিঠি জারি করা হয়েছে। ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা ওই চিঠির স্মারক নম্বর—১২.২৩.০০০০.০০০.০৬.০৩২৭.২৬/৮৩০(৫)। চিঠির বিষয় হলো—গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য একটি ট্র্যাক্টর ও একটি রোটাভেটর ক্রয়ের লক্ষ্যে স্পেসিফিকেশন ও বিভাগীয় প্রাক্কলন মূল্য নির্ধারণের জন্য কমিটি গঠন।
সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সঠিক কারিগরি মানদণ্ড এবং সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. মোঃ নাসির উদ্দিন। তিনি বিজেআরআইয়ের জিআরএস বিভাগের সিএসও, চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ড. কাজী মোহাম্মদ হোসেন, পিএসও, খামার ব্যবস্থাপনা ইউনিট, বিজেআরআই। আরেক সদস্য হলেন সুমন বড়ুয়া, সহকারী প্রকৌশলী, তড়িৎ, চলতি দায়িত্ব, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখা, বিজেআরআই।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব সম্পন্ন করতে হবে। কমিটির প্রধান কাজ হবে প্রস্তাবিত একটি ট্র্যাক্টর ও একটি রোটাভেটরের প্রয়োজনীয় কারিগরি স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা, বাজারদর ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিভাগীয় প্রাক্কলন মূল্য নির্ধারণ করা এবং নির্ধারিত কাজ শেষে প্রতিবেদন মহাপরিচালক, বিজেআরআই বরাবর দাখিল করা।
এ সংক্রান্ত চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজেআরআইয়ের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মোঃ ইয়ারউদ্দিন সরকার। চিঠিটির অনুলিপি কার্যার্থে ও অবগতির জন্য কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বিজেআরআইয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শাখা ও কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন পরিচালক (কৃষি), বিজেআরআই; সিস্টেম এনালিস্ট, কম্পিউটার শাখা এবং পিএস-টু-ডিজি, বিজেআরআই। সিস্টেম এনালিস্টকে প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বিজেআরআইয়ের এই উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা কাজে প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক সরঞ্জাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। তবে বর্তমানে এটি মূলত ট্র্যাক্টর ও রোটাভেটর ক্রয়ের প্রাথমিক প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণের জন্য কমিটি কাজ করবে। কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গবেষণা কার্যক্রমে এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। পাট গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার বাড়াতে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!